বালি – দ্য লাস্ট প্যারাডাইস (১)

বালি – দ্য লাস্ট প্যারাডাইস by The Royal Bengal Traveller

ভিয়েতনামের পর আমি হানয় থেকে মালায়শিয়া এয়ার্লাইন্স এর ফ্লাইট এ করে বালি গেলাম। এখানে প্রায় ৯ দিন ছিলাম। যেহেতু বালিতে আমার দ্বিতীয় বার এটা । তাই মোটামুটি সব কিছুই জানা ছিল। যাইহোক এবার বালির জন্য ৪টি পর্ব লাগবে। আজকে আমি বালির যাতায়াত / ভিসা/ হোটেল/ খাবার এসবের খরচের উপরে কথা বলব। আর পরের পর্ব গুলো থেকে ডিটেইলস এ আলোচনা করব এবং আমার ভ্রমণের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গল্প বলব ।

ভিসা –
অনেকের মতে বালিতে আমাদের অন এরাইভাল ভিসা , যেটা একদম ভুল।
বালিতে আমাদের ভিসা এক্সপেম্পশন। মানে ভিসা ফ্রি । অন এরাইভালে কিছু টাকা দিয়ে ভিসা নিতে হয় । কিন্তু এক্সেম্পশনে একদম ফ্রি।
ইমিগ্রেশনে পাসপোর্ট তা দিলেই আপনাকে সীল দিয়ে ছেড়ে দিবে। মাঝে মাঝে আসার কারণ জানতে চাইতে পারে। এছাড়া সন্দেহ হলে হোটেল বুকিং দেখতে চায় ।

মানি এক্সচেঞ্জ-
বালিতে সব জায়গায়ই মানি এক্সচেঞ্জ পাবেন। কিন্তু যেসব দোকানে দেখবেন রেট অস্বাভাবিক বেশি ভাববেন সেখানে সমস্যা আছে। তাই বড় দোকান দেখে এবং অথরাইসড দেখেই টাকা ভাঙাবেন।

হোটেল –
একটা সহজ উদাহরণ দিয়ে শুরু করতে চাই। “ বাংলাদেশে যে হোটেল ৬ হাজার টাকায় পাবেন বালিতে সে হোটেল ২ হাজার টাকা। “ বালি তে হোটেলের অভাব নেই। ৭০০ থেকে শুরু করে লাখ টাকার ও হোটেল আছে। মোটামুটি ভাল একটা ১৫০০ থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যে পাবেন। সকালের ব্রেকফাস্ট সহ।

যাতায়াত-
বালিতে যাতায়াত এর অনেক মাধ্যম আছে। বেস্ট অপশন একটা স্কুটার ভাড়া নেয়া। প্রতিদিন ৬০-৮০ হাজার রুপিয়া। মানে ৩৫০ থেকে ৪৮০ টাকা। কিন্তু একটু দামাদামি করে ৫০ হাজার রুপিয়া তে ভাড়া নেয়া কোন বেপারই না। ৫০ হাজার মানে ৩০০ টাকা। স্কুটার আপনার হোটেল এর রিসিপশনেই পাবেন। না থাকলে রিসিপশন থেকেই বলে দিবে যে কাছে কোথায় স্কুটার ভাড়া দেয়।
এছাড়া একটা অ্যাপ আছে না গো জেক । এটা অনেকটা পাঠাও এর মতো । এটা ব্যবহার করে আপনি ঘুরতে পারবেন। আর গ্র্যাব তো আছেই।

খাবার-
খাবার আসলে নিজের কাছে। কিন্তু তাও একটা ধারনা দিচ্ছি , প্রতি বেলা মোটামুটি খেতে হলে এক জনের ৫০ হাজার রুপিয়া গুনতে হবে। মানে ৩০০ টাকা। আপনি যদি একটু ভ্রমণ রসিক হন তবে খরচটা বাড়তে পারে।

বিভিন্ন ঘোরার জায়গার এন্ট্রি ফি –
বালিতে বেশিরভাগ প্রাকৃতিক জায়গায়ই একদম নাম মাত্র এন্ট্রি ফি থাকে। ৬০ টাকা থেকে ২০০ টাকার মধ্যে । কিছু জায়গা এমন ও আছে যেখানে কোন টাকা লাগে না।

কোন এলাকা থাকার জন্য উত্তম-

বালিতে বিভিন্ন জায়গা আছে । এগুলোর মধ্যে এক এক জনের পছন্দ এক এক রকমের।

কুটা –
কুটা এয়ারপোর্ট থেকে কাছের এলাকা। এটা সবচেয়ে টুরিস্ট এ পরিপূর্ণ এলাকা। এখানে প্রচুর হোটেল, রেস্টুরেন্ট , মাসাজ পার্লার , ট্যাটু শপ , বার, ইত্যাদি আছে। এই এলাকাটা সবসময় জমজমাট থাকে।

উবুদ –
উবুদ অনেকটা গ্রামের মতো। এখানে প্রচুর ইউরোপিয়ান আসে। এরা এখানে এসে মাসের পর মাস থেকে যায়। এখানে এসে ইয়গা করে , কুকিং ক্লাস করে, মাউন্ট বাতুর এবং আগুং এ হাইকে যায় । এখান থেকে রিভার রাফটিং, রাইস ট্যারেস, ওয়াটার ফল কাছাকাছি।

উলুয়াতু-
যারা একটু নিরজন সময় কাটাতে চান তারা উলুয়াতু থাকতে পারেন। খুব ঠাণ্ডা একটা এলাকা। পাহাড় আর সমুদ্রে ঘেরা একটা এলাকা। সারফাররা বেশিরভাগ সময় এখানে আসে। এখানের বীচ গুলোতে স্রোত অনেক। তাই এটাকে সার্ফিং প্যারাডাইস ও বলা হয়।

সেমিনিয়াক-
বালির গুলশান বলা চলে এটাকে। এখানে অনেক ভিলা আছে। সব কিছুর দামই একটু বেশি এখানে। অনেক ভাল ভাল রেস্টুরেন্ট, শপ, ক্লাব এখানে আছে।

চ্যাঙ্গু-
এটা একটা পার্টি এলাকা। বারো মাসই এখানে পার্টি চলে। যারা পার্টি পছন্দ করেন , ঘুরে আস্তে পারেন চ্যাঙ্গু থেকে।

এছাড়া বালিতে আরও অনেক জায়গা আছে যেমন নুসা পেনিদা, নুসা দুয়া, পাদাং বে এসব জায়গায় ও অনেকে থাকতে ভালবাসে। তাই যাওয়ার আগে একটু ইন্টারনেট থেকে রিসার্চ করে যাবেন । যে কোনটা আপনার টেস্ট ম্যাচ করে।

আজকে এপর্যন্ত ই রাখছি। আগামী পর্ব থেকে শুরু হবে আমার ইন ডিটেইলস লেখা।
আমার পেইজ থেকেই পোস্ট করা হবে সব।আমি কোন ট্রাভেল এজেন্ট বা মুনাফা লাভ করার জন্য এসব লেখি না । জাস্ট আমার এক্সপেরিএন্স শেয়ার করি।
তাই কেউ ভাববেন না যে আমি এসব দিয়ে টাকা পয়সা কামাচ্ছি।
ধন্যবাদ।

Comments are closed.