90165007_2806011459446884_8632630303543787520_n

বাশখালি ইকোপার্ক

By কাজী শাহরিয়ার

অবারিত রূপের আধার দেখেছেন? অসহ্য রকম চোখ জুড়িয়ে যাবার মতোন সৌন্দর্য? জামদানী শাড়িতে নববধুর দীঘল চুলে কুসুম রোদে ওম নেয়ার দৃশ্য বিদেশ ফেরত যুবকের চোখে যেমন লাগার কথা! তেমনই.. আহা, কত সুন্দর করিয়া ধরণী মোদের করেছো দান। সবুজের সাথে কোথাও কুশমি রঙের মিশেল, অস্থির রকমের শান্ত কুচকুচে কালো জল,এলাকার মুরব্বি শাদা বকের চোখ এড়িয়ে অজস্র পাসপোর্ট আনতে ভুলে যাওয়া সাইবেরিয়ান পরিযাযী বালিহাঁসেদের সাথে-লোকাল পানকৌড়ির প্রেম প্রেম ভাব, সেগুন গাছেদের স্কাউট সদস্যের মত শৃংখলা, উলুবনের ঢাল, পানেদের বরজ আর ফাগুনের অস্তমিত বেলা ফুরাবার দিনে কোকিলের কুহুতানের মিশের ফ্লেভর নিতে কেমন লাগবে আপনার? তাও যদি হয়, গুড়ুম পানসি নৌকায় অযান্ত্রিক গভীর গহীন ঝিরিপথের অন্দরে.. অউফস… আমার শব্দ ভান্ডার এখানে ফুরিয়ে যাতেছে.. মাথায় আতেছে..কিন্তু রিদমিক কীবোর্ডে লিখা যাতেছেনা..😊

প্রকৃর এমন অবাক রূপের মোহনা আমাদের বাঁশখালীর প্রতি প্রান্ত এধারওধার। আপনি হয়তো বলবেন ধূর ছাই, এইখানে কিচ্ছু নাই..

আমি বলবো, মোনের চোখ খুলে দিন,মেলে দিন অদৃশ্য অতলান্তিক মোনের ডানা। মেঘ দেখে প্রেয়সীকে কাছে আসার আহবানে উন্মত্ত তাগড়া ময়ূরের মত পেখম মেলে দিন বাংলাদেশের এই অপার দরীয়া পাড়ের গাঁও গেরামের কিসসায়। রোদ চশমা পড়ে নিন, রহমানুর রাহিম এই অসহ্য সৌন্দর্য অবগাহনের যথেষ্ট শক্তি আপনার কর্নিয়াদ্বয়কে দেননি😊

প্রভূ সারা বাংলাদেশটাকে কুন ফা এয়া কুনের হকুমে ঢেলে সাজিয়ে দিয়েছেন। আমরা অমানুষেরা চলার রাস্তায় চৌরাস্তা বেঁধে রেখেছি৷ দু’ধারের বিস্তৃত রূপুনি, রাস্তাটা যেন সদ্য তালাকপ্রাপ্ত আধপ্রৌঢ়বয়সী কসিমুদ্দি!🙄

এসব অযুহাত ছাড়ুন, দৃষ্টি মেলে দিন.. ঘর হতে দুই পা ফেলিয়া, একটি ধানের শিষের উপর কয়েকটি শিশির বিন্দুতে..
.
কিছু সুস্থির চিত্রা হরিণচিত্র সন্নিবেশিত হোল। গরীবের মোবাইল ক্যামেরার দোষ দিয়েন সমস্যা নেই। তবে এর রূপকথাচিত্র হাজার গুনে চমকিত করবে সত্য, আই গ্যারান্টি।


যারা ঘুরতে পসন্দ করেন, ঢুঁ মেরে আসুন। বাঁশখালী আসার মান্দাত্তা আমলের রাস্তা-নিম্নমানের গাড়ি, পার্কের অব্যবস্থাপনার জন্যে আমি দায়ী নই🙄🙏 চট্টগ্রাম থেকে বহদ্দার হাট বাস টার্মিনাল থেকে বাঁশখালী সুপারে ৮০ টাকায় অথবা সিনেমা প্যালেস থেকে এস আলমে ১২০ টাকা খরচায় মনছুরিয়া বাজার নামবেন, সেখানে সি এনজি অটো অপেক্ষা করছে আপনার জন্যে। সি এনজি ভাড়া প্রতি জন কুড়ি টাকা অটোয় ত্রিশ টাকা নেবে৷ পার্সোনাল ভিহিকেলস হলে পার্কিং খরচ দিতেই হবে। গেটে মাত্র কুড়ি টাকার টিকিটে অন এয়া হবেন। নৌকা ভ্রমণে যারে যা ঠকাতে পারেন মাথায় রেখে দরদাম করবেন😊 দুনিয়ায় ফিক্সড রেট বলতে কিছুই নেই, ফিক্সড রেটে বাটা কোম্পানিও ডিস্কাউন্ট দেয়.. হা হা


.
🎖উপরি হিসেবে দেখে আসতে প্ল্যানে রাখুন, পুকুরিয়ার বিস্তৃত বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ চা বাগান, ৪০০বছরের ঐতিহ্যবাহী বখশি হামিদ জামে মসজিদ,বাঁশখালী সমুদ্র সৈকত।
.
🕵যে কোন সমস্যার জন্যে ৯৯৯ – এর সাহায্য নিন😊 বড় আয়োজন বা ছোট সমস্যা হলে আমাকে জানান।
.
🎙যথেষ্ট বিন লটকানো আছে। প্লিজ চিপস কফি বা বোতল সংক্রান্ত আবর্জনা ফেলে লেকের পানি নস্ট করবেন না। দেশটা তো আমাদেরই💕

89439065_2278615245574456_3542675547580530688_o-1

আমার দেখা কেরানীগঞ্জ

By Azizul Islam

ও ইনসার আলীর খুদের খিচুড়িঃ
বালির শহর, ধুলার শহর,তারের শহর,জ্যামের শহর, তারপরেও এটাই আমাদের প্রানের শহর।
এ শহরের হাজারো বিড়ম্বনা ছেড়ে কিছুটা গ্রামের হাওয়া গায়ে লাগাতে চাইলে কেরানিগঞ্জকে বেছে নিতে পারেন।


গ্রাম আর শহরের মিশ্রনে কেরানীগঞ্জ ঘুরতে আপনার খারাপ লাগবেনা,এখানে পাবেন গ্রাম,পাবেন গ্রামের মাঠ,পাবেন ধলেশ্বরী নদী,আর ধলেশ্বরী নদীর পাড়ের মুক্ত বাতাস যদিও সব জায়গায়তে এই মুক্ত বাতাস পাবেন্না,


আর ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে গেলে আপনি চলে যেতে পারেন ইনসার আলীর খুদের খিচুড়ি খেতে,সোহানা হোটেল নামেই পরিচিত,
এই খুদের খিচুড়ির একটা অন্য রকম স্বাদ আছে,বিশেষ করে যারা সাইকেল রাইডে যান তাদের কাছে এটা বিশেষ প্রিয়।

বিঃদ্রঃ-১০ রকম ভর্তা এখন নাই ভর্তা ৬/৭ রকমের করে এখন,আর মাংস খিভুড়ি খেতে চাইলে,আপনাকে অবশ্যই শুক্রবারে জেতে হবে।
#যাতায়াত মাধ্যম:–মুলত এই কেরানিগঞ্জের অলিগলি ঘুরতে গ্রামের স্বাদ পুরাপুরি ভাবে নিতে,আর ধলেশ্বরী নদির সৌন্দর্য দেখতে চাইলে আপনাকে বাই সাইকেল নিয়ে বের হতে হবে,মোটর বাইক নিয়ে বের হলেও কিছুটা পাবেন।

👉👉আপনি যে কোন জায়গা থেকে চলে আসুন
মোহাম্মাদপুর সি এনজি স্ট্যান্ড -সেখান থেকে সি এন জি লোকাল সিস্টেমে ইস্পাহানী কলেজ,(৩০-৪০ টাকা)।তারপরে অটো বা রিকসায় সরাসরি গোয়ালখালী সোহানা হোটেল।-১৫/২০

🚓🚓বাবুবাজার ব্রিজ থেকে কদমতলী নামবেন লেগুনা/বাসে করে। ভাড়া ১০ টাকা। তারপর কদমতলী থেকে অটো যায়। পার পারসন ভাড়া ৫০ টাকা। 🙂

🚕আপনারা আটিবাজারের মোড় থেকে সি এনজি রিজার্ভ করেও এই রাস্তা দিয়ে ঘুরতে ঘুরতে যেতে পারেন ২০০/২৫০ টাকা নিবে বড় জোর।

#আমাদের ভ্রমনের গল্প ছবি গল্প আকারে লেখা আছে চাইলে পড়ে নিতে পারেন।

🙏আপনার দারা সৃষ্ট ময়লা আবর্জনা যেখানে সেখানে না ফেলে নিদিষ্ট স্থানে ফেলুন।

90020226_2880003762058693_7986733291707301888_o

বান্দরবানের খুমের রাজ্যে

By Sabbir Haider Shuvo

#থানচি#পদ্মমুখ#থুইসাপাড়া#দেবতাপাহাড়#ভেলাখুম#নাইখ্যাংমুখ#অমিয়খুম#সাতভাই_খুম#নাফাখুম#রেমাক্রি#সাঙ্গু#বড়_পাথর#তিন্দু#থানচি
বসন্তেরই লভিতে পরশ
এসেছি এ বৈশাখে,
মোহিনী রূপের হাতছানি দিয়ে
পাহাড় কন্যা ডাকে!
কবিতার মত সুন্দর পাহাড়ের দেশ বান্দরবনে আমরা ১১ জন

এই ট্যুরটা আমরা প্ল্যান করি সেই ২০১৪ সালে । কিন্তু কখনই সময় সুযোগ হয় নি বা কারো না কারো সমস্যা লেগেই ছিল, যে কারনে ২০১৪ সালে প্ল্যান করা ট্যুর দিতে হল এই ২০২০ সালে এসে । বিভিন্ন কারনে টিকেট কাটার পরেও অনিশ্চয়তায় ছিলাম যে আসলেই যেতে পারব তো । শুরুতে আমরা মাত্র তিন জন থাকলেও ফেসবুকে আরও ২ জন এবং বান্দরবন নেমে আরও ৬ জন পেয়ে যাই । ভাগ্য ভালই বলতে হবে কারন এই ৬ জনকে না পেলে বান্দরবন থেকে থানচি বাসে যেতে হত, সময় নষ্ট হত অনেক ।

আমাদের ১১ জনের যাত্রা শুরু হয় বান্দরবন শহর থেকে থানচির উদ্দেশে চান্দের গাড়িতে করে । আকা বাঁকা পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে থানচি যেতে আমাদের সময় লাগে ৩ ঘণ্টার কিছু বেশি । মাঝে আর্মি ক্যম্প ও বিজিবি ক্যম্পে ভোটার আইডির ফটোকপি জমা দিয়ে নাম এন্ট্রি করতে হয় । থানচি নেমে আমরা খুজে বের করি আমাদের আগে থেকে কথা বলে রাখা গাইড রাজু ভাইকে । রাজু ভাইকে নিয়ে আবারো পুলিশ ও বিজিবি ক্যম্পে নাম এন্ট্রি করতে হয়। থানার ওসি আমাদের ১১ জনের একটি ছবি তুলে রাখেন। থানচিতে খাওয়া দাওয়া করে সাথে শুকনা খাবার নিয়ে আমরা নৌকায় করে রওনা হই পদ্মমুখের উদ্দেশ্যে । সাঙ্গু নদীর সৌন্দর্য আর পাহাড়ি রুপ দেখতে দেখতে ৪০ মিনিট পর আমরা পদ্মমুখে পৌঁছাই । এখান থেকে পদ্মঝিরি ধরে আমাদের হাঁটা পথ শুরু । হাঁটা শুরু করার সময় আমরা জানতাম অনেকটা পথ হাঁটতে হবে কিন্তু আমাদের কোন ধারনাই ছিল না যে উঁচু নিচু রাস্তায় ৩ টা বড় পাহাড় পার হয়ে ৬ ঘণ্টা হেঁটে থুইসা পাড়া পৌঁছাতে হবে।রপথে অনেকগুলো পাহাড়ি পাড়া পরবে যেখানে থেক বিশ্রাম নেয়া ও পানি পাহাড়ি কলা ও হাল্কা নাস্তা খেয়ে নেয়া যাবে । পাহাড়ের লোকজন খুবি আন্তরিক এবং বন্ধুপরায়ন । কাঁধের ব্যগ হাল্কা হলে আর রোদের তেজ কম থাকলে পাহাড়ি এই সুন্দর পথ যে কারো মন জুরিয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট । পথে দূর থেকে দেখা যাবে তাজিংডং ও সাকা হাফং ও দেবতা পাহাড় । পদ্মমুখ থেকে থুইসাপাড়া যেতে আমাদের সন্ধ্যা হয়ে যায় । আমাদের গাইড রাজু ভাই আমাদের রুম দেখিয়ে দেন । সবাই ক্লান্তিতে কিছুক্ষনের জন্য গা এলিয়ে দেই । রাতেই পাহাড়ি ঝরনার হিম শিতল পানি দিয়ে গোসল করার পর শরীর অনেকটাই চাঙ্গা হয়ে যায় । বাঁশ ও কাঠের তৈরি দোতালা ঘরের দোতালায় আমাদের থাকার যায়গা আর নিচে বারান্দায় খাবার যায়গা । আর হ্য এখানে কোন ফোনেই নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়না টেলিটক ছাড়া । আমার ফনে জদিও টেলিটক সিম ছিল তাও আমি নেটওয়ার্ক পাইনি । গাইড রাজু ভাইয়ের সিম্ফনি ফিচার ফোনে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে অনেক কাঠখড় পুরিয়ে বাসায় একবার কল দিতে পেরেছিলাম। সবচেয়ে ভাল হয় থানচি বাজারে থাকতেই বাসায় ফোন করে বলে দেয়া যে নেটওয়ার্ক থাকবে না তিন দিন। রাতে পাহাড়ি মুরগি দিয়ে ডিনার সেরে আমরা তারাতারি শুয়ে পড়ি কারন পরদিন ভোরে আমরা রউনা হব অমিয়খুমের উদ্দেশে । এভাবেই আমাদের ভ্রমনের প্রথম দিন শেষ হয় ।দ্বিতীয় দিন খুব ভোরে উঠে আমরা ফ্রেশ হয়ে ভাত ডিম ভাজা আর ডাল দিয়ে নাস্তা করে নেই । তারপর দেবতা পাহাড়ের উদ্দ্যেশে রওনা হই । আমাদের সাথে এইদিন গাইড হিসেবে ছিলেন রাজু ভাইয়ের আত্মীয় মধু ভাই । এই ট্যুরের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ট্র্যাকিং ছিল এই দেবতা পাহাড় পাড় হওয়া, বিশেষ করে এর নামার রাস্তা, কিছু কিছু যায়গায় যা ৯০ ডিগ্রি খাড়া । উচ্চতা ভীতি থাকলে এখানে না আসাই ভাল । আমাদের সাথে একজন মাঝপথে আটকে গেছিলেন পরে অনেক অনেক কষ্ট করে আমি ও আরেকজন ভাই মিলে উনাকে নামান হয়েছে । এই পাহাড় থেকে নামার সময় ভয়ঙ্কর সুন্দরে উপভোগের অভিজ্ঞতা হবে সবার। পাথুরে পাহাড়ে সবুজের সমারোহ এবং নিচে অমিয়খুমের কলকল শব্দ শত ভয় ক্লান্তি দূর করে মনে প্রশান্তি এন দেবে। দেবতা পাহাড় থেকে নেমে হাতের ডান দিকে কিছুদুর গেলে ভেলাখুম । সে এক অপরুপ যায়গা । মনে হবে উপরওয়ালা সব সৌন্দর্য ঢেলে দিয়ে সাজিয়ে রেখেছেন । বাঁশের ভেলায় করে যাওয়ার সময় দুপাশে উঁচু পাথুরে পাহাড় ও পানিতে সবুজের ছায়া পড়ে অসাধারন পরিবেশ সৃষ্টি করে। ভেলায় করে কিছুদুর গেলে নাইখ্যাংমুখ এর দেখা পাওয়া যাবে । এখান থেকেই জলের ধারা বয়ে চলেছে ভেলাখুম হয়ে অমিয়খুম ও সাতভাইখুমের দিকে । ভেলাখুম ও নাইখ্যাংমুখ দেখা শেষে আমরা যাই অমিয়খুমের দিকে । অমিয়খুমে নিজে না গেলে এই সৌন্দর্য কখনোই ভাষায় প্রকাশ করার মত নয় । যারা গিয়েছেন তারা জানেন । আমরা বেশি দেরি না করে জামা কাপর খুলে হাফ প্যান্ট পড়ে পানিতে নেমে যাই । ১ ঘণ্টার মত থান্ডা পানিতে লাফালাফি করে পারে উঠি । সাতভাই খুমে যাওয়ার খুব ইচ্ছা থাকলেও ভেলা না পাওয়ায় আর যাওয়া হয়নি। তারপর সারাদিনের ঘুরাঘুরি শেষে আবার দেবতা পাহাড়ে উঠা শুরু করি । নামা যতোটা কঠিন ছিল উঠতে মোটেও তেমন কঠিন মনে হয়নি । সহজেই আমরা পৌঁছে যাই থুইসাপাড়ায় । রাতে পাহাড়ি মুরগির বারবিকিও ও ক্যম্পফায়ার জালিয়ে আড্ডা । মনে রাখার মত কিছু সময় পার করি আমরা । থুইসা পাড়ার প্রবর্তক থুইসার সাথে অনেক্ষন কথা হয় আমাদের । অনেক হাসি খুসি মানুষ আর হাতে তামাকের চুরুট সারাক্ষনই থাকে তাঁর । আমাদের গাইড মধু ভাই ভেলাখুম থেকে একটা কালিবাউস মাছ ধরে আনেন জেতা দিয়ে আমরা রাএর খাবার সেরে নেই। এইদিনও রাতে আমরা তারাতারি ঘুমিয়ে যাই । দ্বিতীয় দিনের সমাপ্তি হয় ।তৃতীয় দিন খুব ভোরে নাস্তা সেরে আবার রওনা হই নাফাখুমের রাস্তায় । পাহাড়ি পথ এত সুন্দর হতে পারে তা থুইসা পাড়া থেকে নাফাখুম না গেলে বুঝা যাবে না ৩ ঘণ্টা হেঁটে আমরা পৌঁছে যাই নাফাখুমে । নাফাখুমের কথা আলাদা করে বলার কিছু নেই । বাংলার নায়াগ্রা হিসেবে পরিচিত নাফাখুম সবাই কম বেশি চিনেন । নাফাখুমে ১ ঘণ্টা থেকে আমরা রওনা দেই রেমাক্রির দিকে। পথে খুব সুন্দর একটা পাহাড়ি টং ঘরে থেমে রেমাক্রি ঝিরির পাশে বসে আমরা কলা ও চা খেয়ে নেই । আর কিছুক্ষণ হেঁটে পৌঁছে যাই রেমাক্রি । আবারো জামা কাপর খুলে নেমে যাই পানিতে । আমরা যখন পানিতে ঝাপাঝাপি করছি তখন আমাদের গাইড নৌকা ঠিক করেন । ১ ঘণ্টা পর আমরা নৌকায় করে রউনা দেই থানচির দিকে । পথে বড় পাথর ও তিন্দু হয়ে সুন্দরী সাঙ্গু ধরে আমরা ছুটে যাই থানচির দিকে । আড়াই ঘণ্টা নৌকা ভ্রমনের পর আমরা থাওচি বাজার পৌঁছাই । সেখান থেকে চান্দের গারি ঠিক করে গাইড রাজু ভাই এর কাছে বিদায় নিয়ে বান্দরবনের দিকে রউনা দেই । আমাদের রওনা হতে সন্ধ্যা হইয়ে গিয়েছিল টাই আর্মি ও বিজিবি ক্যম্পে অনেক জিজ্ঞাসাবাদের পর ছাড়া পাই । ট্যুরে ২ জনের হাল্কা ইনজুরি ছাড়া তেমন কোন সমস্যা হয়নি । তবে সবার অনেক বেশি সাবধান থাকা উচিৎ, একটু অসাবধানতায় বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে ।
এই তিনটি দিন আমরা একরকম ঘোরের মধ্যে ছিলাম। প্রকৃতি এত সুন্দর হতে পারে এখানে না আসলে কখনোই বুঝতাম না ।

পরিশেষে এইটাই বলব খাবারের প্যাকেট পানির বোতল যেখানে সেখানে ফেলে পরিবেশ দূষণ করবেন না। ডাস্টবিন না পেলে সাথেই রেখে দিন পড়ে ডাস্টবিন অবশ্যই পাবেন তখন ফেলে দিয়েন ।

84158394_1077072796018782_2785824352073940992_o

Trip from Ctg to Saint Martin

by – Ayman Iktidar

আপনারা যারা সেইন্ট-মার্টিন (saint martin) যেতে চান তারা যদি পারেন অফডেতে যাওয়ার ট্রাই করবেন তাহলে খরচ কম পরবে।

আমরা ছয়জন ২৭ তারিখ রাতে রওনা দি দামপাড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে রিলাক্স বাসে । বাস সকাল ৭ টায় পৌছায় টেকনাফ ঘাটে।আমাদের শিপ এর টিকেট আগেই করা ছিল। যাওয়ার সময় আমাদের শিপ ছিলো কেয়ারি ক্রুস। কেয়ারি ক্রুসে মানুষ কম থাকে এবং আরাম ও বটে।😁 শিপ ১২.৩০ এ পৌঁছে যায় সেইন্ট-মার্টিন।শিপ থেকে নেমে আমরা বিচ ধরে হাটতে থাকি হোটেলের উদ্দেশ্যে। অনেক খোজাখুজি করার পরে বিচ এর পশ্চিম পাশে হোটেল অবকাশ পেয়ে যায় মনমতো। ৬ টা সিংগেল বেড ছিল রুমে।আমরা ২ রাত ছিলাম। ফ্রেশ হয়ে দুপুরের খাবারের সেরে নিই হোটেল এই। সেইন্ট-মার্টিন এ এসে সি-ফুড ট্রাই করতে ভুলবেন না। আমরা দুপুরের খাবারে টুনা এবং কোরাল মাছের প্যাকেজ নিয়েছিলাম। রেস্ট নিয়ে আমরা বিকালে চলে যায় সাইক্লিং এর জন্য। ১ ঘন্টা সাইক্লিং করে সূর্যাস্ত দেখে নিই। রাতের আড্ডা দিতে বিচ ধরে চলে যায় জেটিঘাট। এখানেই চলে আমাদের রাতের আড্ডা😍। আড্ডা শেষে রাতের খাবার খেয়ে নি দারু চিনি রেস্তোরাঁয়। খাবার খুবই বাজে ছিলো এখানে। এটা অ্যাভয়েড করার ট্রাই করবেন। সবাই খুব টায়ার্ড থাকায় সবাই ঘুমিয়ে পড়ে। পরের দিন সকালের নাস্তা শেষে চলে যায় ছেঁড়া-দ্বীপের উদ্দেশ্যে। আমরা লাইফবোটে করে গিয়েছিলাম। ছেঁড়া-দ্বীপের পানি সেইন্ট-মার্টিন থেকে পরিষ্কার । ছেঁড়া-দ্বীপ দেখতে অনেক সুন্দর। আসল বিচের ফিল পাবেন। ছেঁড়া-দ্বীপ ভ্রমন শেষে দুপুরের খাবার খেয়ে নিই জেটিঘাট এর পাশে নোয়াখালি ভিলেজ রেস্তোরাঁয়।এখানের খাবার ভালো ছিলো। হোটেলে এসে রেস্ট নিয়ে বিকালে চলে যায় সমুদ্রে ভিজতে। সমুদ্রে ভিজে সূর্যাস্ত দেখার সৌন্দর্য বলে বুঝানোর মতো না😍।


রাতে আমরা নোয়াখালি ভিলেজ রেস্তোরাঁয় স্যালমন মাছের বারবিকিউ অর্ডার দিয়ে চলে যায় জেটিঘাটে।বারবিকিউ খুবই মজার ছিলো। তারপর রাতভর হোটেলের বাইরে চলে সবার না ফুরানো আড্ডা। তারপর দিন সকালে নাস্তা শেষে চেকআউট করে বিচের ধারে বসে ডাব খেতে খেতে শেষ বারের মতো সৌন্দর্য উপভোগ করে দুপুরের খাবার খেয়ে শিপে উঠে পড়ি।আমরা কেয়ারি সিন্দাবাদে করে ব্যাক করেছিলাম।

খরচঃ

১ম দিনঃ
বাস-৪৮০০
শিপ(যাওয়া-আসা)-৪৪০০
হোটেল(২ রাত)-৩০০০
সাইক্লিং(৫ জনের)-২০০
দুপুরের খাবার-৮৮০
বিকালের নাস্তা-১৮৫
রাতের খাবার-৫৩০

২য় দিনঃ
সকালের নাস্তা-২০০
দুপুরের খাবার-১০৬০
বিকালের নাস্তা-১২০
বারবিকিউ -১৪৭০

৩য় দিনঃ
সকালের নাস্তা-২৮০
দুপুরের খাবার-৬৬০
ডাব-৩০০
বিকালের নাস্তা-২৪০

Per person -3300tk(2 nights)

সেইন্ট-মার্টিন এর আশেপাশে অনেক ময়লা চোখে পড়ল।
যেখানে যাবেন পরিবেশ পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করবেন এবং ময়লা ফেলবেন না।

কেওক্রাডং ট্রেকিং – বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর পাহাড় চূড়া । Keokradong । Bandarban (5)

কেওক্রাডং ট্রেকিং – বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর পাহাড় চূড়া । Keokradong । Bandarban । Ruma Ep.5 -by Tiham Traveler

কেওক্রাডং বাংলাদেশের পঞ্চম সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। এর উচ্চতা ৩১৭২ ফুট। এটি বাংলাদেশের বান্দরবানের রুমা উপজেলায় অবস্থিত। এক সময় এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ ছিল। যদিও আধুনিক গবেষণায় এই তথ্য ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ সাকাহাফং বা মদক তুং।

দূর থেকে কেওক্রাডংয়ের চূড়াকে ধোয়াটে মনে হয়। সাদা মেঘে ঢাকা। হাওয়ার ঝাপটায় দাঁড়ানো দায়। বৃষ্টি–বাতাস-মেঘ সময় সময় দখল নেয় চূড়ার আশপাশ।

কেওক্রাডং যেতে হলে আপনাকে প্রথমে যেতে হবে বান্দরবান। বান্দরবান শহর থেকে ১৫ টাকা অটো ভাড়া দিয়ে রুমা বাজার যাওয়ার বাসস্ট্যান্ড। প্রথম বাস সকাল ৮ টায়। প্রথম বাসটাই ধরার চেষ্টা করবেন। ভাড়া ১১০ টাকা। সময় লাগবে ২.৫ থেকে ৩ ঘন্টা।

রুমা বাজার নেমে গাইডের সাথে আর্মি ক্যাম্পে সব দরকারি কাগজপত্রের কাজ শেষ করবেন। আর্মি ক্যাম্পের কাজ শেষে চান্দের গাড়ি নিয়ে বগালেক যেতে হবে। চান্দের গাড়ির ভাড়া ২০০০ টাকা, ১৪/১৫ জনের মত যেতে পারবেন।

বগালেকে আর্মি ক্যাম্পে পেপার জমা দিয়ে কেওক্রাডং এর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করতে হবে। স্যালাইন, শুকনা খাবার, পানি নিয়ে নিবেন। প্রায় ৮/৯ কিমি হাইক এবং বগালেক থেকে কেওক্রাডং এর এলিভেশন ডিফারেন্স প্রায় ২০০০ ফিট। হাটার উপর ডিপেন্ড করে ৪ ঘন্টার আশেপাশে সময় লাগবে কেওক্রাডং পৌছাতে।

আমাদের সাথে ট্যুরে যেতে চাইলে নিচের লিঙ্ক থেকে আমাদের পেজে যুক্ত হয়ে নিন –

https://bit.ly/2ZfaZZ6

ভ্রমণ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য পেতে নিচের লিঙ্ক থেকে আমাদের ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করতে পারেন –

https://www.facebook.com/groups/TravelTubers/

8

বাঘা মসজিদ ,রাজশাহী by Mohammed Rashedul Alam Rasel

বাঘা মসজিদ ,রাজশাহী by Mohammed Rashedul Alam Rasel

রাজশাহীর প্রাচীন ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী মসজিদগুলোর মধ্যে বাঘা মসজিদ খুবই গুরুত্বপূর্ন তাৎপর্য বহন করে । অন্য আরেকটি কারনে এই মসজিদটির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে , আর তা হল বাংলাদেশের পুরাতন পঞ্চাশ টাকার নোটের পেছনে এই মসজিদের ছবি ছিল সেই পঞ্চাশ টাকার নোটটি সীমিত আকারে হলেও এখনো বাজারে পাওয়া যায় । ১৫২৩-১৫২৪ সালে (৯৩০ হিজরি) হুসেন শাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা আলাউদ্দিন শাহের পুত্র সুলতান নুসরাত শাহ এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় এই মসজিদের সংস্কার করা হয় এবং মসজিদের গম্বুজগুলো ভেঙ্গে গেলে ধ্বংসপ্রাপ্ত মসজিদে নতুন করে ছাদ দেয়া হয় ১৮৯৭ সালে। এই মসজিদটি ২৫৬ বিঘা জমির ওপর অবস্থিত । মসজিদটির গাঁথুনি চুন এবং সুরকি দিয়ে। মসজিদের ভেতরে এবং বাইরের দেয়ালে সুন্দর মেহরাব ও স্তম্ভ রয়েছে। এছাড়া আছে পোড়ামাটির অসংখ্য কারুকাজ যার ভেতরে রয়েছে আমগাছ, কাঠাল গাছ , লতাপাতাসহ ফার্সি খোদাই শিল্পে ব্যবহৃত হাজার রকম কারুকাজ। এছাড়া মসজিদ প্রাঙ্গণের উত্তর পাশেই রয়েছে হজরত শাহদৌলা ও তার পাঁচ সঙ্গীর মাজার। বাংলার স্বাধীন সুলতান আলাউদ্দিন হুসাইন শাহর পুত্র নাসিরউদ্দীন নসরত শাহ জনকল্যাণার্থে মসজিদের সামনেই একটি দিঘী খনন করেন। শাহী মসজিদ সংলগ্ন এ দিঘিটি ৫২ বিঘা জমির ওপর রয়েছে । সর্বপরি এই মসজিদ ও আশেপাশের পরিবেশ এবং মসজিদের কারুকার্য সবাইকে মুগ্ধ করবে ।

যাতায়াত ঃ

বাঘা মসজিদ রাজশাহী জেলা সদর হতে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে বাঘা উপজেলাতে অবস্থিত । বাঘা মসজিদ যেতে হলে আপনাকে আসতে হবে রাজশাহীতে , রাজশাহী শহরের ঢাকা বাসস্টেন্ডের পাশেই বাঘা বাসস্টেন্ড এখান থেকে বাসে আপনি চলে যেতে পারেন বাঘা উপজেলাতে এ ক্ষেত্রে আপনাকে নামতে হবে বাঘা বাসস্টেন্ড সে ক্ষেত্রে বাঘা পৌছাতে সময় লাগবে ১:৩০মি.-২ঘন্টা ।অথবা আপনারা চাইলে রাজশাহীর ভদ্রার মোর থেকেও বাসে উঠতে পারবে তবে ঝামেলা না চাইলে বাসস্টেন্ড থেকেই উত্তম ।বাঘা বাসস্টেন্ড নামলেই আপনি ব্যাটারী চালিত ভ্যান পাবেন তাতে ভর করে আপনি চলে যাবেন বাঘা মসজিদ ।

খাবার ও থাকার ব্যবস্থা ঃ

বাঘা উপজেলা বা বাঘা মসজিদ প্রাঙ্গনের কাছে তেমন ভাল মানের খাবার বা থাকার হোটেল নেই তাই , সাধারণ মানের যে সব খাবার হোটেল রয়েছে তাতেই নিজেকে মানিয়ে নিয়ে দুপুরের খাবার সারতে হবে ।আর যেহেতু রাজশাহী শহর থেকে দিনে গিয়ে দিনে আসা-যাওয়া সম্ভব তাই সকালে গিয়ে বিকালে ফেরত আসতে পারবেন তাই রাজশাহী শহরের হোটেলে অবস্থান করাই ভাল । তবে একটি কথা মনে রাখবেন উত্তরবঙ্গে ভ্রমনের ক্ষেত্রে নিজের NID সাথে রাখবেন ও যারা বিবাহিত ও স্বামী ও স্ত্রী একসঙ্গে উত্তরবঙ্গে ভ্রমনে ইচ্ছুক তারা অবশ্যই NID এর সাথে বিয়ের কাবিনের ফটোকপি সঙ্গে রাখবেন নয়তো হোটেল ভাড়া পাবেন না ।

ভিডিও ঃ

রাজশাহীর বাঘা মসজিদ বাস্তবে দেখতে কেমন তার ধারনা নিতে লিংকের মাধ্যমে গিয়ে ভিডিওটি দেখতে পারেন ।https://www.youtube.com/watch?v=GMj2zckAcuo

বি:দ্রঃ

আমরা যেখানেই ভ্রমন করবো ময়লা আবর্জনা নিজ দায়িত্বে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলবো এর মাধ্যমে আমরা নিজেরা পরিবেশ পরিস্কার রাখতে অবদান রাখবো যা বর্তমান ও আগামীর প্রজন্মের নিকট শিক্ষনীয় দৃষ্টান্ত হবে । by Mohammed Rashedul Alam Rasel.

88198435_1802111619923398_1166874234148880384_o

ক্যাফে ২৪ পার্ক, ভাটিয়ারী,চট্রগ্রাম – Mohammed Rashedul Alam Rasel

ক্যাফে ২৪ পার্ক, ভাটিয়ারী,চট্রগ্রাম –Mohammed Rashedul Alam Rasel
( Cafe 24 Park – Vatiari, Chattogram )

ক্যাফে ২৪ পার্ক (Cafe 24 Park) ,যার অবস্থান চট্টগ্রামের ভাটিয়ারিতে । এই পার্ক মুলত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দ্বারা পরিচালিত হয়ে থাকে । ভ্রমণ পাগল মানুষদের জন্য পার্কের ভিতর ঠিক লেকের পাশের পাহাড়ে রয়েছে অসাধারণ সেনাবাহিনীর ট্রেনিং এডভেঞ্চার । যার মধ্যে আপনি পাবেন কখনো দড়ি বেয়ে হাঁটা, কখনো উঁচু পথ লাফিয়ে পার হাওয়া বা দড়ি ধরে ঝুলে পার হাওয়া, আবার কখনো সুড়ঙ্গের মতো পথ দিয়ে হামাগুডি দিয়ে চলা সব এডভেঞ্চার । এই পার্কের ভিতর ও বাহির সবখানে সাজানো গোছানো ও খুবই পরিষ্কার এই পার্কে দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশ ফি ধরা হয়েছে বড়দের জন্য ৫০ টাকা এবং ছোট বাচ্চাদের জন্য ৩০ টাকা।

যাতায়াত ঃ

বাংলাদেশের যে কোন প্রান্ত থেকে চট্রগ্রামের ভাটিয়ারীর (বিএমএ) গেইটে নামলে হবে অথবা চট্রগ্রামের একে খান মোরথেকে বাস বা রাইডারে বিএমএ গেইট যাবেন বল্রেই হবে ৩০মিঃ সময় লাগবে একে খান থেকে আর বিএমএ গেইট থেকে আরো ১৫/২০মিঃ সিএনজিতে চড়লেই এই পার্কটি ।

খরচ ঃ

চট্রগ্রামের নিউমার্কেট থেকে লোকাল বাসে একে খান ভাড়া ১০ টাকা , আর একে খান থেকে বিএমএ গেইটে রাইডার বা বাসে ২০ টাকা ও বিএমএ থেকে ক্যাফে ২৪ ভাড়া ২০/৩০ , সুতরাং আসা-যাওয়া ১০০/১২০ ,প্লাস(+) ঢাকা বা দেশের যে কোন প্রান্তে আসতে বাসভাড়া ।

খাবার ও থাকার ব্যবস্থা ঃ

ক্যাফে ২৪ (Cafe 24 Park) পার্কের পাশেই বাজার রয়েছে চাইলে সকালের নাস্তা বা দুপুরের খাবারটা এখানে করে নিতে পারেন ।তবে এখানে থাকার ব্যবস্থা নেই সারাদিন ঘুরার পরে বিকালে আবার চট্রগ্রাম ফিরতে পারেন , চট্রগ্রামের একে খান , কর্নেল হাট , জিইসি ,কিংবা নিউমার্কেট এলাকাতে থাকার জন্য ভাল হোটেল রয়েছে তবে আমি নিউ মার্কেট এলাকার হোটেলের কথা সুপারিশ করবো যে কেউকে ।

ভিডিও ঃ

ক্যাফে ২৪ পার্কের বাস্তব সুন্দর্য অনুধাবনের জন্য চাইলে লিংকে দেওয়া ভিডিওটিও দেখে অভিজ্ঞতা নিতে পারেন ।https://www.youtube.com/watch?v=PxPGprFgVbA

বিঃদ্রঃ-

ভ্রমনে আমরা অবশ্যই আসে পাশের পরিবেশ সুন্দর রাখবো ও ময়লা যথাযথ জায়গায় ফেলবো।

75446728_2048853208550662_4741623515164180480_n

সাজেক ভ্রমন – Azizul Islam

#সাজেক ভ্রমন – Azizul Islam

আমার কাছে ভ্রমণ মানে বিলাসিতা নয় উপভোগের।স্বল্প খরচে,সুস্থ শরীর,সুস্থ মন নিয়ে ভালো কিছু দেখে আসায় মুলত আমার লক্ষ্য থাকে।সাজেক কার কাছে কেমন লাগে জানিনা কিন্তু আমার কাছে সাজেকের বর্ননা শেষ করার মত না।

#আমাদের ভ্রমন খরচ ছিল জন প্রতি ৩০৬৭ টাকা।

#আমাদের টুরের গল্প আমি আমার মত করে বলার চেষ্টা করেছি আপনি বিরক্ত হলে এড়িয়ে যান।

#খুব ইচ্ছেছিল পরিক্ষার পরে কোথাও ঘুরতে যাব।ফেসবুকে ৪০০০+ টাকায় সাজেক।এসব ইভেন্ট দেখতে দেখতে বিরক্ত হয়ে চিন্তা করলাম সাজেক ই জামু আবার।কিন্তু ভ্রমণ সঙ্গী নিয়ে ঝামেলায় পড়লাম তাই ফেসবুকে নিজের ওয়ালে স্ট্যাটাস দিলাম সাজেক যাচ্ছি কেউ যেতে চাইলে যোগ হতে পারেন খরচ সমান ভাগে ভাগ হবে।আলহামদুল্লাহ অনেকেই সাড়া দিলো, তার মধ্যে থেকে সব বন্ধু আর কাছের দু একটা ছোটভাই মোট ১৩ নিয়ে প্লান করে ফেললাম।

০৩,১১,১৯ রাত্র ৯.৪৫ মিনিটের আগে সবাই কলাবাগান শান্তি পরিবহনের কাউন্টারে এসে জড় হলো।আমিও যথারীতি কাউন্টারে এসে পৌছলাম।৯.৪৫ মিনিটে আমাদের গাড়ি যাত্রা শুরু করলো।(#শান্তি পরিবহনের সার্ভিস বাজে হয়ে গেছে রাস্তা থেকে চুক্তি ভিক্তিক লোক উঠায় লোকাল গাড়ির মত)।

রাত্রে আমাদের বাস একটি রেস্টুরেন্টের সামনে এসে থামলো।তো নেমে যার যার মত যা খুশি খেয়ে নিলো।কেউ কেউ আবার বিড়িও খেলো।আমি ভাই ওসব খাইনা তাই লাস্ট মুহুর্তে ১ নং কাজ সেরে আবার বাসের ভিতরে উঠে পড়লাম।কখন ঘুমিয়ে গেছি জানিনা,ঘুম থেকে উঠে দেখি আমাদের গাড়ি পাহাড়ি রাস্তার ভিতর দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।শহর পার হয়ে যখন দিঘিনালাতে নামলাম তখন ঘড়ির কাটায় ৬ টা ৪৫ মিনিট।

আমাদের চাদের গাড়ি রিজার্ভ করা আছে ।তিনি যতক্ষনে আসবেন ততক্ষনে আমরা দরবার হোটেলে ফ্রেশ হয়ে পেট পুজো করে নিলাম।আমাদের সকালের বাজেটের ভিতরে ছিল ১ পিচ ডিম ২ পিচ রুটি/খিচুড়ি ডিম/আলু ভর্তা,ডাল,ভাত ও এক প্রকার ভর্তা। যার যেটা ইচ্ছে সে সেইটা খাবে।

খাওয়ার পরে দিঘিনালাতে যার যার মত ঘুরাঘুরি করে ৮.৩০/৮.৪৫ এর দিকে গাড়িতে উঠে পড়লাম।সাজেকের উদ্দেশ্যে।
আমরা বাঘাইছড়ি পৌছে আমাদের চাদের গাড়ি থেকে নেমে সবাই যার যার মত খেলাম ছবি, সেলফি তুললাম। এইখানে সকাল ১০.৩০ টার ভিতরে যতগুলো গাড়ি আসবে নিরাপত্তাজনিত কারনে তাদেরকে সামনে পিছনে পুলিশ/আর্মি প্রটেকশন দিয়ে সাজেক পৌছে দেয়।

যেহেতু ১০.৩০ বাজতে অনেক সময় তাই আমি আর আমাদের চাদের গাড়ির ড্রাইভার (শাহজালাল ভাই) সামনের দিকে হাটা শুরু করলাম। এসে বাজারের এক দোকানে বসে বিস্কুট খাচ্ছি পাশে জালাল ভাই এর দুই পরিচিত বন্ধু বেশ মচৎকার মানুষ তারা। পার করলাম এখানে কিছু সময়।

বাজারের কিছুটা পাশেই একটা পুকুর পেলাম। এখানেই আমি গোসল করে নিলাম গামছা পরে।শরীরটা একটু শান্ত করে নিলাম আর কি, যদিও বাকিদের এই সুযোগ হয়নি।

১০.৩০ এ আমাদের জার্নি আবার শুরু হলো।বাঘাইহাট পার হয়ে পাহাড়ের ভিতরের আকাবাকা পথ দিয়ে আমরা সাজেকের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।

ওহ বলা হয়নি আমাদের গাড়িতে ড্রাইভার ছিল দুইজন কোন হেল্পার ছিল না।এই প্রথম আমার বন্ধুরা চাদের গাড়ির ছাদে উঠলো। উঠেই বলা শুরু করলো কিরে বন্ধু এই জায়গার কথা তুই আগে বলিস নাই কেন? এতোদিন সাজেকে নিয়ে আসিস নাই কেন।আমরা ৫ জন ছাদ থেকে পাহাড়ের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতেছি বাকিরা সবাই ভিতরে বসে উপভোগ করতেছে।

যখন আমরা আপহিল আর ডাউন হিল গুলো একসাথে পার হচ্ছি তখন সব থেকে বেশি মজা লাগতেছিল।চোখে এক অন্যরকম শান্তি অনুভব করছিলাম সবাই।

রাস্তায় যাওয়ার সময় অনেক বাচ্চা দেখলাম আমাদের হাত নাড়িয়ে টাটা দিয়ে শভেচ্চা জানাচ্ছে।
আসলে আপনি প্রথম গিয়ে থাকলে আপনার কাছে মনে হবে ওরা হাত নাড়িয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে।কিন্তু না ওরা আসলে আপনার কাছে খাবার/পয়সা চাচ্ছে।খাবার দিলে ওরা অনেক খুশি হয়।কিন্তু খাবার দেওয়ার সময় যদি আর্মিদের চোখে পড়েন তাহলে আপনাদের বিপদ অনিবার্য।

রাস্তার মাঝে হাজাছড়া ঝর্নার কাছে আবারো আমাদের এন্ট্রি করা লাগলো।আগে এই ঝর্নাতে জেতে দিতো কোন এক সমস্যার কারনে এখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ।

১২.১৫ তে আমরা রিসোর্টের সামনে পৌছলাম।আমাদের রিসোর্ট আগে থেকেই বুক করা ছিল। আমাদের রিসোর্ট ছিল মেঘালয়।রিসোর্টে পৌছে গোসল সেরে ফ্রেশ হয়ে সবাই পাশের দোকানে চা খেতে চলে গেলো।আমি গেলাম খাবারের দুপুরের ওর্ডার করতে।

দুপুর ২.৩০ পেট পুজোর জন্য বের হয়ে পড়লাম।
খাবারের জন্য সবাই হাকরের মত, চাতকপাখির মত অপেক্ষা শুরু করলো।আমাদের খাবারের মেনু ছিল দুইটা ভর্তা,ডাল,মাংশ,সবজি।

খাবার শেষ করে সবাই যে যার মত অবস্থান করলো, সবাইকে বলেদিলাম ৪ টা বাজে আমরা কংলাকের উদ্দেশ্যে যাব।
আমি, জয়,হাবিব রুমে এসে ঘুমানোর চেষ্টা করলাম।বাকি সবাই এই তেতুল গাছের নিচে বসে চা খেতে আর আডডা দিতে থাকলো।

৪ টা বাজে আমরা সবাই তৈরি হচ্ছি কংলাকের উদ্দেশ্যে যাওয়ার জন্য।এখন আর কেউ ভিতরে বসতে চাইনা সবাই ছাদে বসতে চাই।কারন ছাদেই নাকি বেশি মজা।

রিসোর্ট থেকে কংলাকের পাহাড়ের প্রায় কাছেই হেলতে দুলতে,দুলতে হেলতে আমাদের গাড়ি আমাদের নামিয়ে দিলো।নামার পরেই লাঠি নেওয়ার জন্য সবাই আপনার সামনে এসে ভিড় জমালো, উঠার জন্য হাতে একটা লাঠি থাকলে উঠতে সুবিধা হয় কষ্ট কম হয়।একটা লাঠির দাম ১০ টাকা।আমি বললাম সবাই লাঠি নিতে পারো উঠতে সুবিধা হয়।আমি নেবনা ,সবাই নিতে পারো।মাত্র একজন লাঠি নিলো আর আমি নিলাম না বলে কেউ নিলোনা।

আমি সত্যিই অবাক হয়ে যায় পাহাড়িরা কতটা পরিশ্রম করে। আমরা কিছু না নিয়ে উপরে উঠতে হাপিয়ে যাচ্ছি আর উনারা কত কিছু নিয়েই উঠে পড়ে।

কংলাক পাহাড় থেকে সুর্য অস্থ দেখে চলে আসলাম হ্যালিপ্যাডে সেখানে সন্ধ্যা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত অর্ধেক চাদের আলো আর হাজারো তারার আলোতে আমাদের হেড়ো গলায় গলা ছেড়ে চল্লো গান আর গান।লাইন ছেড়া গান,আকাবাকা গান।গল্প আড্ডা আরো কত কি।
তারপরে রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে রাত ৯.৩৫ এ রাতের খাবার খেয়ে নিলাম।খাবারের মেনু ছিল বাম্বু চিকেন,ভর্তা,ডাল ,সবজি।

এরপরে আমি ঘুমিয়ে গেলাম আরো কয়েকজন ঘুমিয়ে গেলো। ৬/৭ জন হ্যালিপ্যাডের দিকে গেলো আবারো গান গাইতে।সকালে ভোরে আমি ওদের ডেকে তুল্লাম, কেউ ঊঠতেই চাইনা।যারপরে সবাই রেডি হয়ে সূর্য উঠার দৃশ্য দেখার জন্য বের হলাম।

যাওয়ার সময় দেখলাম চাদের গাড়িগুল সারিসারি ভাবে সাজানো আছে।সিরিয়াল করে। যার যার হোটেল/রিসোর্ট এর সামনে।

আমরা সুর্যদয় দেখে আর সাজেকের মেঘ দেখে রুমে এসে ফ্রেস হয়ে নিলাম।তারপরে নাস্তা করে আবারো রিসোর্টের পাশে তেতুল গাছের নিচে চা খেতে বসে শুরু হলো আড্ডা, মোটামুটি চল্লো বেশ সময়।আমরা যখন আডডা মেরে উঠলাম তখন ঘড়িতে সময় ৯.৪৫ মিনিট।নাস্তার মেনু ছিল ৩ পরেটা,১ ডিম আর ভাজি।

সবাই রুমে গিয়ে ঝটপট ব্যাগ গুছিয়ে রেডি হয়ে নিলাম।আমাদের গাড়ি যখন সিরিয়ালে গিয়ে দাড়ালো তখন সময় ১০.১০/১২ এখনো প্রায় ২০ মিনিটের আছে।তাই আমরা তখন বেশ কয়েকজন সামনের দিকে এসে স্টোন গার্ডেন ঘুরে দেখার জন্য প্রবেশ করলাম।

যথা সময়ে আমাদের গাড়ি ছেড়ে দিলো।

আমাদের গাড়ি ধীরে ধীরে খাগড়াছড়ি শহরে শাপলা চত্তরে পার হয়ে শাহ মৌউছেন আউলিয়া হোটেলের পৌছালো তখন সময় আনুমানিক ২ টার কাছা কাছি।আমরা দুপুরের খাবার খেয়ে নিলাম। মেনু ছিল দুই ভর্তা মুরগি/রুই মাছ।সব্জি ১ টি আর ডাল।খেয়ে আমরা একটুও দেরি না করে রিসাং ঝরনার উদ্দেশ্যে বের হয়ে পড়লাম।খাগড়াছড়ি পার হয়ে এসে আলুটিলার দিকে আসতে রোডটা আসলে নজর কাড়ার মত।এমন রাস্তা সত্যি ওদিকে কমই আছে।

আমাদের গাড়ি আলুটিলা পার হয়ে রিসাং ঝরনার প্রান্তে মোটামুটি দুরত্বে গিয়ে থামালো। আমাদের এখন পায়ে হেটে অথবা মোটর বাইকে যাওয়া আসা জন প্রতি ১০০ টাকা দিয়ে জেতে হবে রিসাং ঝরনায়।আমরা পায়ে হেটে যাব সিদ্ধান্ত নিলাম মোটামুটি ১৫/২০ মিনিট লাগে।এখান থেকে নামার রাস্তাটার একটা বৈশিষ্ট আছে।আমরা কয়েকজন দৌড় দিয়ে নামার চেষ্টা করলাম, হালকা দৌড় দেওয়ার পরেই আমি আর আমার দৌড়ের গতি নিয়ন্ত্রন করতে পারিনা।আমি যতই থামতে চাই ততই বেশি গতি হয়ে যায়।এক সময় এমন এক পর্যায়ে চলে যায় যে আমি মুখ থুবড়ে পড়ে যাব মত অবস্থা।আল্লাহ সুস্থ ভাবে নিচ পর্যন্ত পৌছালাম।পরে যারা আমার আগে গিয়ে পৌচেছে তাদের কাছে শুনলাম একই অবস্থা ওদের ও হয়েছে।

রিসাং ঝরনায় যাওয়ার সিড়িটা সত্যি দারুন।পরে ঝরনা থেকে গোসল দিয়ে আবার আমাদের গাড়ির কাছে চলে এলাম।গাড়ির কাছে এসে বসে আমরা আনারস খেলাম।পাহাড়ি আনারস অন্য সকল আনারসকে হার মানাবে।দাম ও তুলনামূলক ভাবে অনেক কম।এখানে আমাদের মোটামুটি একটা সময় লস হয়ে গেলো,তখন আমি বল্লাম যে আলুটিলা গুহায় আজ ঢোকা যাবে না সময় নাই আর এখন গেলে প্রবেশ করতে দিবেনা।জয় তখন বলে ওঠে কিরে এইডা তুই কি করলি গুহায় যদি না ঢুকতে পারলাম তাইলে তো আসাই বৃথা।পরে সবাই আবার দ্রুত গাড়িতে উঠে পড়লাম।

আলুটিলাতে প্রবেশ করার মূখে সবার জন্য টিকেট করে নিলাম।
গুহার প্রবেশ মুখের কিছুটা আগে একটা ব্রিজ আছে সেইটার উপরে বসে আমি পা নাচাইতেছিলাম আর এইকা সাপ আমার পায়ের নিচের ছিল। ওটার উপর দিয়ে আমি পা নাচাইতেছি ব্রিজের রেলিং এর উপরে বসে।পরে আমার এক বন্ধু সাপ সাপ বল্লে চিৎকার করলে আমাদের নজরে আসে।অনেকে বলতেছিল এটা প্লাস্টিকের সাপ/মরা সাপ কিন্তু লাঠি দিয়ে নিচে ফেলে দেওয়ার পরে দেখে গেলো এটা জীবত আছে।চলে যাওয়ার ভিডিও করে রেখেছিলাম।কি সাপ জানিনা।সবাই সাবধান থাকবেন পাহাড়ে।আলূটিলা দেখে আবারো গাড়ির কাছে যখন চলে আসলাম তখন সন্ধ্যা।পরে গাড়ির কাছে বসে কিছুক্ষন গল্প আড্ডা মেরে আবার গাড়িতে উঠে আমরা চলে আসলাম কাউন্টারে ।

আমাদের বাসের টিকেট ৯ টায় তাই আমরা সবাই কাউন্টারে বসে পড়লাম।যে যার মত ঘোরাঘুরি শুরু করলাম।চা নাস্তা করলাম।রাত ৮ টার সময় আমরা রাতের খাবার গরু/হাস যার সেটা পছন্দ।দুই প্রকার ভর্তা আর ডাউল দিয়ে খেয়ে এসে বাসে উঠে বসলাম।ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাসে উঠার কিছুক্ষন পরেই ঘুমিয়ে পড়লাম।ঘুম থেকে উঠে দেখি রেস্টুরেন্টের সামনে বাস দাড়িয়ে আছে।বাস থেকে নেমে আবারো কিছু হালকা নাস্তা করে বাসে উঠে পড়লাম।ঘুম যখন ভাংলো তখন কমলাপুর। পরে ৫.৩০ এ গাবতলিতে এসে পৌছলাম। ব্যাস হয়ে গেলো আমাদের সাজেক টুর। খাবারের মেনু ছিল ২ ভর্তা,ডাউল,গরুর মাংস/হাসের মাংস।

#যা দেখলামঃরুইলুই পাড়া,হ্যালীপ্যাড,কংলাক পাহাড়।স্টোন গার্ডেন।রিসাং ঝর্না,আলূটিলা গুহা,তারেং।আর চোখ জোড়ানো পাহাড়ি রাস্তা।

সচেতনতা ” ঃ আমরা আমাদের ভ্রমনে সবাইকে আগে সচেতন করেছিলাম কেউ যেন নিদিষ্ট স্থান ছাড়া ময়লা না ফেলে,এবং সবাই নিদিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলেছিল।
আপনার দারা সৃষ্ট ময়লা আবর্জনা আপনার ব্যক্তিগত সম্পদ তাই এটিকে প্রদর্শনের জন্য সেখানে সেখানে না রেখে নিদিষ্ট স্থানে রাখুন।

88237159_1801522173315676_3412691149800865792_o

উত্তরা গণভবন – নাটোর – Mohammed Rashedul Alam Rasel

উত্তরা গণভবন – নাটোরMohammed Rashedul Alam Rasel

নাটোরের ঐতিহাসিক দিঘাপতিয়ার রাজবাড়ি বর্তমানে উত্তরা গণভবন। প্রায় তিনশত বছরের প্রাচীন ঐতিহাসিক ঐতিহ্যবাহী দিঘাপতিয়া রাজবাড়িটি নাটোরের উত্তরা গণভবন নামে পরিচিত। বাংলাদেশের প্রাচীন ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম নাটোরের দিঘাপতিয়া রাজবাড়ি বা উত্তরা গণভবন। দিঘাপতিয়া রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন দয়ারাম রায়। তিনি নাটোরের রাজা-মহারাজ রামজীবনের একান্ত অনুগত একজন দেওয়ান ছিলেন। নাটোর রাজ্যের উত্থানে দয়ারাম রায় অসামান্য ভূমিকা রাখায় ১৭০৬ সালের দিকে রাজা রামজীবন উপহার হিসেবে বাসস্থানের জন্য তাকে দিঘাপতিয়ায় কিছু জমি দান করেন। পরে জমিদার ও রাজা হওয়ার পর ১৭৩৪ সালে দয়ারাম রায় দিঘাপতিয়া রাজবংশের প্রতিষ্ঠা করেন।
যাতায়াত ব্যবস্থা :
…………………….
ঢাকা বা চট্রগ্রাম কিংবা বাংলাদেশের যে কোন প্রান্ত থেকে নাটোর আসতে হবে আর আপনাদের নামতে হবে নাটোর বাইপাস ।
নাটোর বাইপাস নামার পরে টমটমে করে সোজা চলে যেতে পারেন উত্তরা গনভবণ ।
থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা :
……………………………..
নাটোরে থাকার ও খওয়ার সু-ব্যবস্থার রয়েছে ,খাবার জন্য নাটোরের মাদ্রাসা মোরে ইসলামিয়া প্রচুর হোটেলের ভাল সুনাম রয়েছে ।
আর থাকার জন্য হোটেল (হোটেল প্রিন্স -স্টেশন রোডের পাশে) পুরুষের ক্ষেত্রে কোন সমস্যা নেই কিন্তু মহিলাদের জন্য ব্যবস্থা নেই কারন মহিলাদের কোন হোটেলে রুমভাড়া দিতে চায় না , সেক্ষেত্রে সারাদিন নাটো ঘুরে মহিলা চাইলে রাজশাহীতে থাকতে পারবেন কিন্তু অবশ্যই এনআইডি কপি রাখবেন । আর বিবাহিতরা এনআইডি সাথে কাবিনের ফটোকপি রাখতে হবে নয়তো হোটেল ভাড়া পাবেন না ।
বি দ্রঃ-
ভ্রমনে আমরা অবশ্যই আসে পাশের পরিবেশ সুন্দর রাখবো ও ময়লা যথাযথ জায়গায় ফেলবো।