87045785_2667861833292343_4297440887924850688_n

কাশ্মীর,রাজস্থান,আগ্রা ভ্রমণবৃত্তান্ত

By Taseen Afrid

আমাদের রুট ছিল –

” ঢাকা-কলকাতা-জম্মু-শ্রীনগর-পাহালগাম-জম্মু-চন্ডিগড়-বিকানের-জয়সালমের-যোধপুর-উদয়পুর-চিত্তোরগড়-জয়পুর-আজমির-আগ্রা-কলকাতা-ঢাকা “

আমি প্রথমেই সময় এবং খরচের কথাটা বলে নিব l “১৭ দিনে” আমাদের লেগেছিল আনুমানিক “২৫ হাজার” টাকার মতো l আমরা ৮ বন্ধু ছিলামl সবার কাছে একটু সময় নিয়ে পড়ার অনুরোধ রইল lলেখায় ভুলভ্রান্তি থাকলে আশা করি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন l আমি এইখানে বিস্তারিত তুলে ধরার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব l

পূর্বপ্রস্তুতি;

১.আমরা সবাই বেনাপোল-পেট্রাপোল বর্ডার ব্যবহার করেছিলাম l তাই এক্সট্রা পোর্ট এন্ট্রি এর দরকার নেইl

২.ইন্ডিয়ান ৭ টি রুটের ট্রেন এর সব টিকেট আমরা এক মাস আগেই করিয়ে রেখেছিলাম বাংলাদেশ থেকে কারণ ওখানে গিয়ে এতগুলো টিকেট সংগ্রহ করা সময়সাপেক্ষ ও কষ্টসাধ্য ব্যাপার,সঠিকভাবে বাংলাদেশ থেকেই প্ল্যান মাফিক টিকিটগুলা করবেন হাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে l

৩.শীতের জন্যে পর্যাপ্ত জামাকাপড় রাখবেন l

৪.যেহেতু এইটা সম্পূর্ণই ট্রেন জার্নি ছিল এবং আমাদের ছিল নন এসি স্লীপারl তাই সাথে কম্বল নিতে ভুলবেন না l

৫.ঢাকা থেকে কলকাতা/বেনাপোল যদি ট্রেন এ যেতে চান তাহলে আগেই টিকেট করে রাখুন l কিন্তু বেনাপোল এক্সপ্রেস এ না যাওয়াই উত্তম 

-_- প্রয়োজনে বাস এ যান l

আমি এখন দৈনিক ভিত্তিতে ভ্রমণবৃত্তান্ত তুলে ধরছি ;

কাশ্মীর পর্ব :-

দিন ০১ – রাত ১১ টার বেনাপোল এক্সপ্রেস আসে ১ টায়,যাত্রা শুরু কমলাপুর থেকে l

দিন ০২- সকালে বেনাপোল নেমে বর্ডার পার হয়ে গেলাম,তারপর ৩০ রুপিতে বনগাঁ,২০ রুপিতে শিয়ালদাহ,ওখান থেকে হলুদ ট্যাক্সিতে হাওড়া l লকারে ব্যাগ রেখে রাতের কলকাতা ঘুরে ১১;৪৫ এ হিমগিরি এক্সপ্রেস এ উঠেই ঘুমl

দিন ০৩ -আড্ডা-ঘুম দিতে দিতে দিন পার আর সাথে ছিল ইন্ডিয়ান রেলওয়ে এর বাজে খাবারl

দিন ০৪ – ১ টার দিকে জম্মু পৌঁছলাম ৩৬ ঘন্টা জার্নি করে l জম্মু রেলস্টেশন থেকে কাশ্মীর এর প্যাকেজ কিনলাম পার পারসন ৪০০০ রুপি করে (সকল ট্রান্সপোর্টেশন,হোটেল ভাড়া)

দুপুরে রওনা শুরু করলাম,পাঞ্জাবি ধাবায় খাওয়া পথিমধ্যে l কিন্তু ওয়ান ওয়ে ট্রাফিক এর জন্যে পথে ৫-৬ ঘন্টা দেরি করে শ্রীনগর পৌছালাম ভোরে l

দিন ০৫ – শ্রীনগর এ নেমে হোটেলে ফ্রেশ হয়ে গেলাম গুলমার্গ(বরফের স্বর্গ),বরফের রাইড গুলাও নিলাম গাইড এর সাহায্যে l আসার পথে কাশ্মীরি শাল আর ড্রাই ফ্রুটস কিনলাম l রাতে খেলাম ট্র্যাডিশনাল”kashmiri wazwan” পার পারসন ৫০০ রুপি দিয়ে,খেয়েই ঘুম l

দিন ০৬ – সকালে গেলাম পরিমহল তারপর ডাল লেক এ বোটিং করলাম ২ বোট নিলো ১০০০ রুপি l বোটিং করে গেলাম পাহালগাম l পাহালগাম নেমেই স্নোফল পেলাম,দেরি না করে চলে গেলাম বাইসারণ ভ্যালি ঘোড়ায় চড়ে l পার পারসন নিলো ৩০০ রুপি করে l সৌন্দর্যের বর্ণনা যদি দিতে চাই তাহলে লিখে শেষ করা যাবে না l ভ্যালি থেকে এসে খেয়ে কাশ্মীরি বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে ঘুম l

দিন ০৭ – সকালে উঠে জম্মু তে ফেরত যেতে নিলে পুলিশ কাজিগুন্দ থেকে গাড়ি যেতে দেয় না,তাই আমরা বরফে ঢাকা কাশ্মীরি গ্রামগুলা ঘুরলাম সারাদিন ধরে আড্ডা দিয়ে পরদিন সকালে পৌঁছলাম জম্মু l

দিন ০৮ – জম্মু নেমে এসি বাস নিয়ে চলে গেলাম চন্ডিগড়,ভাড়া ৬০০ রুপি জনপ্রতি l ৬ ঘন্টা লাগলো ৩৫০ কিলো যেতে l নেমে চলে গেলাম রেলস্টেশনে , রাত ১১ টায় ছিল ট্রেন বিকানের এর উদ্দেশ্যে l

রাজস্থান পর্ব :-

 দিন ০৯ – বিকানের নেমে ৫০০ রুপিতে ৮ জনের অটো ভাড়া করি বিকাল পর্যন্ত l এর মধ্যে আমরা জুনাগড় ফোর্ট, জৈন মন্দির,কারনি মাতা মন্দির,লালগড় প্যালেস,রামপুরিয়া হাভেলি,গজনের প্যালেস,লক্ষীনাথ মন্দির,সুরসাগর লেক দেখে ফেলি l পরে ৬ টায় ট্রেনে করে চলে যাই জয়সালমের l পৌঁছায় রাত ১২ টায় l

দিন ১০ – জয়সালমের হোটেল ভাড়া ৩ রুমের জন্যে ৫০০ রুপি হোটেল মনিকা l তারপর পার পারসন ২০০০ রুপিতে প্যাকেজ নেই ডে ট্যুর এর(সিটি ট্যুর + ডেজার্ট সাফারি) l সিটি ট্যুর এ ৭ টা প্লেস ছিল অলমোস্ট আর ডেজার্ট সাফারিতে ছিল ক্যামেল রাইড,জীপ্ রাইড,বুফে ডিনার,কালচারাল নাইট,ট্রান্সপোর্টেশন টু রেলস্টেশন l বার-বি-কিউ করেছিলাম পার পারসন ১৫০ রুপি দিয়ে l রেলস্টেশন নেমে আমরা যোধপুর এর ট্রেন এ উঠে পড়ি রাত ১২ টার ট্রেন ছিল ওটা l

দিন ১১ – সকালে নেমে যাই যোধপুর সিটিতে (ব্লু সিটি) l পার পারসন ১৫০ অটো ভাড়া দিয়ে যোধপুর সিটি এর ফোর্ট গুলা ঘুরে দেখি বিকাল পর্যন্ত l মেহেরাঙার ফোর্ট,যশবন্ত ঠাডা,উমেদ প্যালেস,কায়লানা লেক দেখে বিকালে স্টেট বাস এ করে ২৭৫ রুপি দিয়ে চলে যাই উদয়পুর l উদয়পুর নামলাম রাত ১২ টায় l বাস স্ট্যান্ড এর পাশেই রুম নিলাম গড়ে ২৫০ রুপি করে পারহেড l

দিন ১২ – সকালে উঠে ৮ জনের অটো ভাড়া করলাম ৭০০ রুপিতে ডে ট্যুর এর জন্যে l উদয়পুরের ৬-৭ টা ফোর্ট দেখার পর একটু রেস্ট নিয়ে চলে গেলাম চিত্তোরগড় l বাস ভাড়া ১০০ রুপি l নেমেই ১০০০ রুপিতে একটা অটো ভাড়া করে চলে গেলাম চিত্তোরগড় ফোর্ট দেখতে(মূল আকর্ষণ) l এখানে গিয়ে রাজপূত রতন সিংহ,রানী পদ্মিনী,আলাউদ্দিন খিলজী সব কাহিনী যেন আমরা সবাই অবলোকন করতে পারছিলাম l ফোর্ট থেকে ফায়ার ধর্মশালায় ৮ জনের একটা রুম ৫০০ রুপিতে নিয়েছিলাম খানিকটা বিশ্রামের জন্যে l ওদিন রাতে চলে যাই ট্রেন ধরে জয়পুর l ট্রেন ছিল রাত ১২ টায় l

দিন ১৩ – জয়পুর নেমেই হোটেল ঠিক করলাম পারহেড ২৫০ রুপিতে l তারপর ১৩০০ রুপিতে একটা ইনোভা ভাড়া করলাম সব স্পট ঘোরার জন্যে l আমরা হাওয়া মহল,জানতার মানতার,সিটি প্যালেস,নাহারগড় ফোর্ট,পিঙ্ক সিটি,বিরলা মন্দির,জলমহল,রাজ্ মন্দির,আমির ফোর্ট দেখলাম l শপিং সন্ধ্যায় শেষ করে ঘুমিয়ে পড়লাম l

দিন ১৪ – সকালে ভোরে ৬ টার ট্রেন ধরে ৬০ রুপিতে গেলাম আজমির ২ ঘন্টায় l ওখানে পার হেড ১০০ রুপি অটো করে আজমির শরীফ এবং পুষ্কর দেখে ২ টার ভিতর জয়পুর ফিরলাম l ৩ টায় ট্রেন ছিল জয়পুর তো আগ্রা l রাত ৯ টায় আগ্রা পৌছালাম l পৌঁছে হোটেল নিলাম ২০০ রুপি পারহেড l

আগ্রা পর্ব :-

দিন ১৫ – সকালে উঠে ব্রেকফাস্ট করে চলে গেলাম শাহজাহানের তাজমহল দেখতে পারহেড ৭৫০ রুপি করে l তারপর ১০০ পারহেড এ অটোতে করে আগ্রাফোর্ট,ইতমাদউদ্দৌলা,মেহতাব বাগ ঘুরে নিলাম সন্ধ্যার মধ্যে l রাতে ম্যাকডোনাল্ড এ খেয়ে ঘুমালাম ভোর ৪ টা পর্যন্তু কারণ ভোর ৫ টায় হাওড়ার ফিরতি ট্রেন ছিল l

দিন ১৬ – সারদিন ট্রেন এ কাটালাম ক্লান্ত শরীর সবার l সারাদিন ট্রেন এ ঘুমিয়ে ফ্রেশ হলাম আড্ডা দিয়ে রাতে l

দিন ১৭ – ভোরে হাওড়া নামলাম এবং ওদিন এ কলকাতা থেকে ঢাকা চলে আসলাম l

খরচ(পারহেড) :-

৭ টা রুটের ট্রেন টিকেট একসাথে পার পারসন পড়েছিল ৪৫০০ টাকা(১ মাস আগে করেছিলাম)

টিকেট গুলার নমুনার জন্যে নিচের লিংক টি দেখতে পারেন-

https://drive.google.com/drive/folders/15sS7vLz7-yaZiiPu2gRybRdu2d_QYmQc?fbclid=IwAR0SEC7dSAaERu4ag4LGtvc-D6fZCB2OU2Y_JxFC8Pli2z5ZnAE_k0kUY5w

কাশ্মীর- ৪০০০ রুপি প্যাকেজ আর ৪০০০ রুপি খাওয়া,এন্ট্রি ফী,বিভিন্ন রাইড এবং এক্সট্রা একটিভিটিস (আপনারা চাইলে কমাতে পারেন এই খরচ)=৮০০০ রুপি

রাজস্থান- ৬৫০০ রুপি সব খরচ মিলিয়ে(ট্রেন টিকেট বাদে)

আগ্রা- ১৫০০ রুপি সব খরচ মিলিয়ে

আর ঢাকা-কলকাতা আসা যাওয়া,ট্রাভেল ট্যাক্স আর কিছু ছোটোখাটো খরচ মিলিয়ে সর্বমোট এই ট্যুরে আনুমানিক ২৫ হাজার টাকার মতো লেগেছিল l এই খরচ ব্যাক্তিভেদে এবং চাহিদানুযায়ী ভিন্ন হতে পারে l

জরুরি কথা :-

১.ইন্ডিয়ান ট্রেন সময়মতো ছাড়ে,গাফিলতি করলেই ট্রেন মিস হবার চান্স থাকে

২.বর্ডার থেকেই ভোডাফোন এর সিম নিয়ে নিন ৪০০ রুপি করে

৩.শীতকালে কাশ্মীর গেলে ওয়ান ওয়ে ট্রাফিক নিয়ে ধারণা নিয়ে যান

৪.রাজস্থান এবং আগ্রায় একটু হিন্দি বলতে পারলেই ফরেন কোটার টিকেট প্রাইস থেকে মুক্তি পাবেন,ফরেন কোটার টিকেট প্রাইস অনেক বেশি তুলনামূলক

৫.রাজস্থানে বেশির ভাগ veg খায়,শুকনা খাবার এবং পানি ক্যারি করুন ট্রেন এ

ট্যুর এর কিছু ছবি দিলাম এইখানে,আপনারা চাইলে আমার প্রোফাইল এ গিয়ে দেখতে পারেন-সেখানে আমি ছবিসহ Daywise আপডেট দিয়েছি এই ট্যুরের l

সবার কাছে একটাই অনুরোধ আমরা যখন বাইরে যাই তখন সেখানকার সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকব এবং পরিবেশটাও সুন্দর রাখব l লেখায় ভুলভ্রান্তি থাকলে আশা করি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং ট্যুর নিয়ে যেকোনো মতামত আপনারা কমেন্টে/ইনবক্সে জানাতে পারেন l

88261670_2786082171498826_2897209943734091776_n

Kalimpong/darjeeling trip by Avijit Ghosh

তিনদিনের ঝটিকা সফরে ঘুরে এলাম উত্তরবঙ্গ থেকে by Avijit Ghosh

Feb 20 (বৃহস্পতিবার):- শিয়ালদা থেকে রাত সাড়ে আটটার সময় কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস ধরলাম,গন্তব্য NJP।

Feb 21 (শুক্রবার):- সকাল সাড়ে সাতটার সময় NJP নামলাম,নেমে ফ্রেশ হয়ে ড্রাইভার কে ফোন করতে লাগলাম যে তিনি কোথায় আছেন,যদিও সকালে ও আগেরদিন থেকে কথা হয়েই আছে আমরা কখন NJP পৌঁছাবো,এবং গাড়ি আগে থেকেই রিজার্ভ করা ছিলো যিনি আমাদের পুরো ট্যুর টা গাড়িতেই ওই একই বাহনে ঘোড়াবেন।

NJP স্টেশনের বাইরে বেরিয়ে অপেক্ষা করার কিছু মুহুর্তের মধ্যেই এসে পৌঁছালো আমাদের এই পুরো ট্যুরের বাহন Bolero,এই গাড়িটার একটা সুবিধা যে পিছনের সিট গুলোও ছিলো ফ্রন্ট ফেসিং এতে পাহাড়ি রাস্তায় কারওই অসুবিধা হবে না,এবং আমাদের সদস্যসংখ্যা ছিলো ৮ জন।

গাড়ি স্টার্ট দিয়ে আমরা আজকের প্রথম গন্তব্য তিনচুলের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলাম,তিনচুলে তে আমাদের Kulung Guest House বুক করাই ছিলো,আমরা ঠিক করলাম রাস্তায় ব্রেকফাস্ট ও লাঞ্চ সেরে নিয়ে সাইটসিয়িং সেরে তারপরে বিকেলে হোমস্টে তে পৌঁছাবো,

তো যেই ভাবা সেই কাজ,এইভাবে আমরা আমাদের যাত্রা পথের মাঝেই দেখে নিলাম
▪️Tinchule Sunset View Point
▪️Takdah Orchid Centre
▪️Runglee Rungliot Tea Estate

এইগুলি দেখা শেষ করে পৌঁছালাম আমাদের গেস্ট হাউসে,Kulung Guest House এর মালিক আমাদের সাদর অভ্যর্থনা জানালেন,৭৩ বছরের এই কিশোরের সাথে পরিচয় হয়ে আমাদেরও বেশ লাগলো,রাতে ডিনার সেরে আমরা তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়লাম কারণ পরেরদিন খুব সকালে বেড়াতে হবে আমাদের,গন্তব্য Kalimpong.

Feb 22 (শনিবার):- গেস্ট হাউসেই ব্রেকফাস্ট সেরে তিনচুলে,তাকদার স্মৃতি নিয়ে আমরা Kalimpong এর উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম,আজকেও ঠিক করলাম রাস্তায় সমস্ত সাইট সিয়িং করে তারপর Kalimpong এ আমাদের হোটেল এ পৌঁছাবো,এই প্রসঙ্গে বলে রাখি Kalimpong এ আমাদের রাত্রিবাস এর ঠিকানা হলো Hill Top WBTDC Lodge.

সেইদিন পথে যেতে যেতে দেখলাম
▪️Lamhatta Eco Park
▪️Lovers Meet Viewpoint
▪️Peshok Tea Garden
▪️Pine View Nursery
▪️Durpin Monastery
▪️Army Golf Course
▪️Morgan House
▪️Gouripur House

আজকের লাঞ্চ সারলাম আমরা Army Golf Course এর Green Cafe তে যার পুরোটাই Army দ্বারা পরিচালিত,
বিকেলে লজে পৌঁছে ফ্রেশ হয়ে বেড়িয়ে পড়লাম Kalimpong বাজারের উদ্দেশ্যে,
বাজারে গিয়ে চা, souvenir কিনলাম,রাতের খাবার খেয়ে ট্যাক্সি নিয়ে হোটেল ফিরলাম সেদিন রাতে,
পরেরদিন এর গন্তব্য Lava,

Feb 23 (রবিবার):- Kalimpong থেকে সকালে বেরিয়ে যাত্রা করলাম লাভার উদ্দেশ্যে,আজ আমাদের রাতেই কলকাতা ফেরার ট্রেন NJP থেকে,তাই সারাদিন ঘুরে ড্রাইভার দাদা আমাদের সন্ধের আগে NJP নামিয়ে দেবে এমনটাই কথা হয়ে ছিলো আগে থেকে।

পথে পথে সেইদিন দেখলাম
▪️Dr Graham’s House
▪️Deolo Park
▪️Hanuman Top
▪️Lava Monastery
▪️Ambek Tea Garden
▪️Teesta Barrage,Gajaldoba.

আজকের দুপুরের লাঞ্চ সারলাম তিস্তা ব্যারেজের কাছে গজলডোবা তে,সেদিনের সব সাইডসিয়িং শেষ করে আমরা সন্ধের একটু আগে পৌঁছে গেলাম NJP স্টেশনে,
আমাদের ফেরার ট্রেন রাত আটটায় ছাড়বে Darjeeling Mail.
নিজেদের সমস্ত জিনিস,ব্যাগ বুঝে নিয়ে এবং ড্রাইভার দাদার সাথে কুশল বিনিময় করে আমরা স্টেশনের দিকে পা বাড়ালাম,রাতে খাবার আমরা প্যাক করে নিয়েছিলাম NJP স্টেশনের বাইরে থেকেই,

Feb 24 (সোমবার):- সকাল সাড়ে ছটার সময় শিয়ালদা নেমে একবুক স্মৃতি নিয়ে যে যার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।

শেষে সবাইকে একটাই অনুরোধ ঘুরতে গিয়ে সবাই পরিবেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন,নিজেও ভালো থাকুন,পরিবেশকেও ভালো থাকতে দিন,ধন্যবাদ।

বালি – দ্য লাস্ট প্যারাডাইস (১)

বালি – দ্য লাস্ট প্যারাডাইস by The Royal Bengal Traveller

ভিয়েতনামের পর আমি হানয় থেকে মালায়শিয়া এয়ার্লাইন্স এর ফ্লাইট এ করে বালি গেলাম। এখানে প্রায় ৯ দিন ছিলাম। যেহেতু বালিতে আমার দ্বিতীয় বার এটা । তাই মোটামুটি সব কিছুই জানা ছিল। যাইহোক এবার বালির জন্য ৪টি পর্ব লাগবে। আজকে আমি বালির যাতায়াত / ভিসা/ হোটেল/ খাবার এসবের খরচের উপরে কথা বলব। আর পরের পর্ব গুলো থেকে ডিটেইলস এ আলোচনা করব এবং আমার ভ্রমণের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গল্প বলব ।

ভিসা –
অনেকের মতে বালিতে আমাদের অন এরাইভাল ভিসা , যেটা একদম ভুল।
বালিতে আমাদের ভিসা এক্সপেম্পশন। মানে ভিসা ফ্রি । অন এরাইভালে কিছু টাকা দিয়ে ভিসা নিতে হয় । কিন্তু এক্সেম্পশনে একদম ফ্রি।
ইমিগ্রেশনে পাসপোর্ট তা দিলেই আপনাকে সীল দিয়ে ছেড়ে দিবে। মাঝে মাঝে আসার কারণ জানতে চাইতে পারে। এছাড়া সন্দেহ হলে হোটেল বুকিং দেখতে চায় ।

মানি এক্সচেঞ্জ-
বালিতে সব জায়গায়ই মানি এক্সচেঞ্জ পাবেন। কিন্তু যেসব দোকানে দেখবেন রেট অস্বাভাবিক বেশি ভাববেন সেখানে সমস্যা আছে। তাই বড় দোকান দেখে এবং অথরাইসড দেখেই টাকা ভাঙাবেন।

হোটেল –
একটা সহজ উদাহরণ দিয়ে শুরু করতে চাই। “ বাংলাদেশে যে হোটেল ৬ হাজার টাকায় পাবেন বালিতে সে হোটেল ২ হাজার টাকা। “ বালি তে হোটেলের অভাব নেই। ৭০০ থেকে শুরু করে লাখ টাকার ও হোটেল আছে। মোটামুটি ভাল একটা ১৫০০ থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যে পাবেন। সকালের ব্রেকফাস্ট সহ।

যাতায়াত-
বালিতে যাতায়াত এর অনেক মাধ্যম আছে। বেস্ট অপশন একটা স্কুটার ভাড়া নেয়া। প্রতিদিন ৬০-৮০ হাজার রুপিয়া। মানে ৩৫০ থেকে ৪৮০ টাকা। কিন্তু একটু দামাদামি করে ৫০ হাজার রুপিয়া তে ভাড়া নেয়া কোন বেপারই না। ৫০ হাজার মানে ৩০০ টাকা। স্কুটার আপনার হোটেল এর রিসিপশনেই পাবেন। না থাকলে রিসিপশন থেকেই বলে দিবে যে কাছে কোথায় স্কুটার ভাড়া দেয়।
এছাড়া একটা অ্যাপ আছে না গো জেক । এটা অনেকটা পাঠাও এর মতো । এটা ব্যবহার করে আপনি ঘুরতে পারবেন। আর গ্র্যাব তো আছেই।

খাবার-
খাবার আসলে নিজের কাছে। কিন্তু তাও একটা ধারনা দিচ্ছি , প্রতি বেলা মোটামুটি খেতে হলে এক জনের ৫০ হাজার রুপিয়া গুনতে হবে। মানে ৩০০ টাকা। আপনি যদি একটু ভ্রমণ রসিক হন তবে খরচটা বাড়তে পারে।

বিভিন্ন ঘোরার জায়গার এন্ট্রি ফি –
বালিতে বেশিরভাগ প্রাকৃতিক জায়গায়ই একদম নাম মাত্র এন্ট্রি ফি থাকে। ৬০ টাকা থেকে ২০০ টাকার মধ্যে । কিছু জায়গা এমন ও আছে যেখানে কোন টাকা লাগে না।

কোন এলাকা থাকার জন্য উত্তম-

বালিতে বিভিন্ন জায়গা আছে । এগুলোর মধ্যে এক এক জনের পছন্দ এক এক রকমের।

কুটা –
কুটা এয়ারপোর্ট থেকে কাছের এলাকা। এটা সবচেয়ে টুরিস্ট এ পরিপূর্ণ এলাকা। এখানে প্রচুর হোটেল, রেস্টুরেন্ট , মাসাজ পার্লার , ট্যাটু শপ , বার, ইত্যাদি আছে। এই এলাকাটা সবসময় জমজমাট থাকে।

উবুদ –
উবুদ অনেকটা গ্রামের মতো। এখানে প্রচুর ইউরোপিয়ান আসে। এরা এখানে এসে মাসের পর মাস থেকে যায়। এখানে এসে ইয়গা করে , কুকিং ক্লাস করে, মাউন্ট বাতুর এবং আগুং এ হাইকে যায় । এখান থেকে রিভার রাফটিং, রাইস ট্যারেস, ওয়াটার ফল কাছাকাছি।

উলুয়াতু-
যারা একটু নিরজন সময় কাটাতে চান তারা উলুয়াতু থাকতে পারেন। খুব ঠাণ্ডা একটা এলাকা। পাহাড় আর সমুদ্রে ঘেরা একটা এলাকা। সারফাররা বেশিরভাগ সময় এখানে আসে। এখানের বীচ গুলোতে স্রোত অনেক। তাই এটাকে সার্ফিং প্যারাডাইস ও বলা হয়।

সেমিনিয়াক-
বালির গুলশান বলা চলে এটাকে। এখানে অনেক ভিলা আছে। সব কিছুর দামই একটু বেশি এখানে। অনেক ভাল ভাল রেস্টুরেন্ট, শপ, ক্লাব এখানে আছে।

চ্যাঙ্গু-
এটা একটা পার্টি এলাকা। বারো মাসই এখানে পার্টি চলে। যারা পার্টি পছন্দ করেন , ঘুরে আস্তে পারেন চ্যাঙ্গু থেকে।

এছাড়া বালিতে আরও অনেক জায়গা আছে যেমন নুসা পেনিদা, নুসা দুয়া, পাদাং বে এসব জায়গায় ও অনেকে থাকতে ভালবাসে। তাই যাওয়ার আগে একটু ইন্টারনেট থেকে রিসার্চ করে যাবেন । যে কোনটা আপনার টেস্ট ম্যাচ করে।

আজকে এপর্যন্ত ই রাখছি। আগামী পর্ব থেকে শুরু হবে আমার ইন ডিটেইলস লেখা।
আমার পেইজ থেকেই পোস্ট করা হবে সব।আমি কোন ট্রাভেল এজেন্ট বা মুনাফা লাভ করার জন্য এসব লেখি না । জাস্ট আমার এক্সপেরিএন্স শেয়ার করি।
তাই কেউ ভাববেন না যে আমি এসব দিয়ে টাকা পয়সা কামাচ্ছি।
ধন্যবাদ।

88099436_912782435820929_4224697237285896192_n

Promoting my own hometown Itanagar – ‎Merang Tarh‎

Promoting my own hometown Itanagar- ‎Merang Tarh‎ 

if anyone especially from another country (who have not heard of northeast india) is a travel enthusiast and wanna enjoy serene beauty of nature should definitely visit Arunachal Pradesh. As many asked about the ideal time to visit Itanagar here weather is lil hot unlike tawang.. one can visit during autumn or winter.. and then from itanagar u can go to colder snowy places like tawang, bomdilla, mechuka in the same season within the state🤗
To connect- @iampuniatarh in instagram

83316880_2716887285084982_3078050409315565568_n-1

Ranchi Tour – Avijit Ghosh

Ranchi Tour by Avijit Ghosh

অতীতে বাঙালির হাওয়া বদলের ঠিকানায় যে জায়গা গুলি মনিমুক্তর মতন জ্বলজ্বল করতো,সেগুলি আজ ঝাড়খণ্ডের ম্যাপে আবদ্ধ। আবহাওয়ার গুনে স্বাস্থ্য উদ্ধারের আশায় তামাম বাঙালি ঝাড়খণ্ডের আঙিনায় এসেছে বারবার। এখানকার বিভিন্ন জায়গার কথা তাই বাঙালি লেখকের কলমে ঘুরে ফিরে এসেছে বারবার। সবুজ পাহাড়,অরণ্য,খোলা প্রকৃতি আমন্ত্রণ জানিয়েছে-তা উপেক্ষা করার সাধ্য নেই। এখানে আদিবাসীদের স্বতন্ত্র পরব নিজস্বতায় পূর্ণ।

প্রথমদিনের গল্প,

শনিবার রাত ১০.১০ এর ক্রিয়াযোগা এক্সপ্রেস ধরে রবিবার সকাল ৭.০০ টার মধ্যে রাঁচি পৌঁছে গেলাম,গাড়ি আগেই বলা ছিলো,তাতে করে পৌঁছে গেলাম Goibibo থেকে বুক করা গুজরাট হোটেল এ। ১ঘন্টার মধ্যে ফ্রেশ হয়ে সামনের বাজার থেকে পুরি তরকারি দিয়ে ব্রেকফাস্ট সেরে আমাদের বাহনে করে বেড়িয়ে পড়লাম সাইড-সিয়িং এর উদ্দেশ্যে।

প্রথমে দেখে নিলাম জোনহা ফলস,৫৪০+ সিঁড়ি ভেঙে ওঠা নামা করতে গিয়ে ওখানেই হাওয়া টাইট হয়ে গেল এটাই বলা বাহুল্য,তারপর ওখান থেকে সোজা সীতা ফলস দেখতে চললাম,এটাতে সিঁড়ি তুলনামূলক কম হওয়াতে কিছুটা বাঁচোয়া,ওখান থেকে গেলাম হুন্ড্রু ফলস দেখতে,নামার আগেই লোকাল লোকের থেকে শুনে নিলাম সিঁড়ি সংখ্যা ৭৫০+,নামার আগে তাই হোটেলে দেশি মুরগি থালি অর্ডার দিয়ে গেলাম। ফলস দেখে ফিরে এসে খেয়ে নিলাম,তারপর অনবদ্য এক অভিজ্ঞতা হলো,প্রথমবার Zipline Adventure করলাম হুন্ড্রু ফলস এর ওপর থেকে মাত্র ৩০০ দিয়ে যাওয়া ও আসা মিলিয়ে। অনবদ্য এক অভিজ্ঞতা।

এসব পালা মিটিয়ে এবার চললাম Patratu Valley ও Dam দেখতে,যাওয়ার পথে Valley তে অসাধারণ ভিউ দেখে গাড়ি না থামিয়ে পারলাম না,Dam এ পৌঁছে বৃষ্টির জন্য বোটিং আর করা হলো না,এরপর সেখান থেকে ফিরতে ফিরতেই অন্ধকার নামা শুরু করলো,ফেরার পথে দেখে নিলাম রাঁচি বলতেই যে ধারণাটা সবার প্রথম সবার মাথায় আসে,RINPAS(Mental Hospital)।

তারপর ওখান থেকে ফিরে চলে এলাম রক গার্ডেনে,কাঁকে ড্যাম দেখতে,পাথর কেটে বানানো রক গার্ডেন জায়গাটি মন জয় করতে বাধ্য,এখানথেকে রাঁচি শহরের খুব সুন্দর ভিউ পাওয়া যায় রাতে যা আরো মায়াবী লাগছিলো,সাথে একটা Musical Event ও হচ্ছিলো যেটা গোটা পরিবেশ টাকে মাতিয়ে রেখেছিলো।

আগেই দেখে গিয়েছিলাম রাঁচির বেস্ট রেস্টুরেন্ট হলো Kaveri,রাতে সেখানেই হানা দিলাম,গিয়ে বুঝলাম Zomato তে এমনি এমনি আর 4.9 রেটিং পায়নি এই ভদ্রমহিলা(নাম কাভেরি তাই বললাম আর কি)। সেখান থেকে হোটেল এ ফিরে সোজা বিছানায়,গোটা রবিবার কত ভালো কাটলো সাথে পরেরদিনের দর্শনীয় স্থান গুলির কথা ভাবতে ভাবতেই ঘুমিয়ে পড়লাম।

দ্বিতীয় দিনের গল্প..

পরদিন ছিলো করমপুজো,এবং গোটা ঝাড়খণ্ডের বেশ বড় উৎসব,বিভিন্ন রাস্তায় সুন্দর করে সাজিয়ে ফুলের গেট লাগানো হয়েছে সাথে রয়েছে আদিবাসী সম্প্রদায়ের পতাকাও,সাথে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন ছিলো পরেরদিন মহরম হওয়ার জন্যে।

দ্বিতীয়দিন সকালে উঠেই রওনা দিলাম রামগড় জেলায় অবস্থিত ছিন্নমস্তার মন্দির বা রাজরাপ্পার উদ্দেশ্যে,পুজো দেওয়া উদ্দেশ্য ছিল না কিন্তু খালি পেটে থাকায় পুজো তাও দিয়ে দিলাম (যদিও মন্দিরে আমার একটা খুব খারাপ অভিজ্ঞতা হলো),তারপর সেখান থেকে বেরিয়ে পেটে আহারাদি চালান করে রওনা হলাম এক মন্দিরের উদ্দেশ্যে যেটা নাকি বিখ্যাত হয়েছে কোনো ভগবানের জন্যে নয়,তার এক শিষ্যের জন্যে।

আমাদের গন্তব্য ছিলো সেই দেউড়ি মন্দির,যেই মন্দিরটি বাইরের সবার কাছে পরিচিতি পেয়েছে শুধু একজনের নামে,তিনি হলেন ঝাড়খণ্ড তথা ভারতের গৌরব,
ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিংহ ধোনির জন্যে,
তিনি যখনই বাড়ি আসেন এই মন্দিরে পুজো দেন নিয়ম করে,সারা ঝাড়খণ্ড জুড়েই তাদের ঘরের ছেলেকে নিয়ে আশা প্রত্যাশা ভালোবাসা কাজ করে ভীষণ,সেটা ড্রাইভার থেকে প্রতিটা লোকের মুখেই বিদ্যমান,মন্দিরের প্রতিটা দোকানেই প্রায় ধোনির ছবিও দেখতে পাওয়া যাবে,তাদের কাছেই ইনিও আর এক ভগবান (আমার কাছেও)।

সেখান থেকে গাড়ি নিয়ে চললাম সূর্য মন্দিরের উদ্দেশ্যে,মন্দিরের অবস্থানটা খুব সুন্দর জায়গায়,যেখান থেকে শহরটা বেশ সুন্দর ভাবে দেখা যায়,মন্দিরের ভিতরেও বেশ সুন্দর একটা স্নিগ্ধতা বিরাজ করে যা মন ভরিয়ে দিতে বাধ্য।

সূর্যদেবতার দর্শন সেরে রওনা হলাম দশম ফলসের দিকে যেটা আগেরদিন দেখা ফলস গুলোর থেকেও মুগ্ধ করলো,সিঁড়ি কম বলে স্বস্তিও পেলাম।

দশম ফলসে ফটো সেশনের পালা মিটিয়ে পথেই দেখে নিলাম ধোনির ফার্ম হাউস,রাস্তার উপর গেট হওয়াতে প্রচুর গাড়ি থামছে,ফটো তুলছে,ধীরে ধীরে অন্ধকার নামতেও শুরু করছে।

এদিকে সন্ধে হয়ে যাওয়ায় আর রাতে ফেরার ট্রেন থাকার জন্যে রওনা দিলাম আমাদের শেষ গন্তব্য জগন্নাথ মন্দিরের দিকে,এই মন্দিরের অবস্থান টাও বেশ সুন্দর,সন্ধে পুরো শহরের ভিউ টাও বেশ পাওয়া গেলো,মন্দিরের বাইরেই কিছু বাচ্চা পদ্ম বিক্রি করছে।

এবার ওখান থেকে ফেরার পালা,গাড়ি করে চলে এলাম হোটেলে,পথে পথে আরো দেখে নিলাম
১. ঝাড়খণ্ড বিধানসভা ভবন
২. ঝাড়খণ্ড রাজভবন
৩. রাঁচি ক্রিকেট স্টেডিয়াম

রাতে রাঁচি থেকে ট্রেনে চাপলাম,আর রাঁচির একবুক স্মৃতি নিয়ে পরদিন সকালে হাওড়া নামলাম এবং প্রতিবারের মতন এবারও প্রতিজ্ঞা করে এলাম আবার আসিব ফিরে!!!

সবাইকে অনুরোধ পরিবেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন নিজেদের বাড়ির মতনই,ভালো করে ঘুরুন,তবে আপনার আনন্দ প্রকৃতির নিরানন্দের কারণ যেন না হয়।ধন্যবাদ।

86346366_128385912038287_3305792085273083904_n

সড়ক পথে কাশ্মীর ভ্রমণ-Backpackers Story

সড়ক পথে কাশ্মীর ভ্রমণ- Backpackers Story
অনেক দিনের ইচ্ছা ভূস্বর্গ কাশ্মীর ঘুরতে যাবো।কিন্তু সময়+বাজেটে না মেলায় যাওয়া হয়না।আবার বিমানে যাওয়ার মত সামর্থ্য আমার নেই,কারণ বরাবরের মত একটাই উত্তরঃ আমি বাজেট ট্রাভেলার।
অনেক খুঁজেও কাউকে না পেয়ে ভাবলাম একাই যাবো,কিন্তু কপালগুনে মালেশিয়া ফেরত ভাতিজা পেয়ে গেলাম।দুইজন ভিসার কাজ শেষ করে ট্রাভেল ট্যাক্স দিয়ে দিলাম। এবার যাওয়ার পালা……….
আমাদের ভ্রমনকাল ২০১৮ সালের জুলাই মাস।
আমি জুলাইয়ের ৩ তারিখ ঢাকা থেকে বেনাপোল যায়,আর আমার সফর সঙ্গী কুষ্টিয়া থেকে বেনাপোল চলে আসে ৪ তারিখ সকালে।

১ম দিনঃ সকালে বেনাপোল পৌঁছে দুইজন নাস্তা করে নিই ২৩৭ টাকা দিয়ে।এরপর দুইপাশের ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করে লোকাল সিএনজিতে বনগাঁ চলে যাই ৬০ রুপি দিয়ে।বনগাঁ টু শিয়ালদহ ট্রেনে ৬০রুপি।শিয়ালদহ নেমে দিল্লির ট্রেনের টিকিট খোজ করে হতাশ হয়ে লোকাল বাসে নিউমার্কেট চলে যাই ১৪ রুপি দিয়ে।একটু খুজে একটা হোটেলের ছাদে দুইজনের জন্য একটা রুম নিই ৫৫০ রুপি দিয়ে।ততক্ষণে সন্ধা হয়ে গিয়েছে,সারাদিন সকালের নাস্তা দিয়েই চলছিলাম। তাই চলে গেলাম মুসলিম হোটেলে,দুইজন গরুর মাংস দিয়ে খেয়ে বিল হলো ১৩০ রুপি।এরপর একটা সিম নিয়ে নিলাম ৪৩৫রুপি দিয়ে,নেট+লোকাল কল প্যাকেজ সহ,এক্সট্রা রিচার্জ ৬০ রুপি।তারপর হোটেলে ফিরে জম্পেশ একটা ঘুম দিলাম,কারণ কাল সকাল সকাল উঠে ফেয়ারলী প্লেস যেয়ে দিল্লির ট্রেনের টিকিট কাটতে হবে।

১ম দিনের খরচঃ২৩৭+৬০+৬০+১৪+৫৫০+৪৩৫+১৩০+৬০= ১৫৪৬ রুপি।

২য় দিনঃ সকালে ঘুম থেকে উঠে ৮০রুপি দিয়ে একটা ট্যাক্সি নিয়ে ফেয়ারলী প্লেস চলে যাই।আমাদের আগেও কয়েকজন বাংলাদেশী এসে সিরিয়াল দিয়েছে,আমরাও সিরিয়ালে নাম লিখিয়ে দিলাম।এখনো অফিস খুলতে অনেক দেরি আছে,তাই দুইজন গুগল ম্যাপ ধরে হাঁটতে হাঁটতে হাওড়া ব্রিজ চলে যাই।সেখানে একটু ঘুরে সকালের নাস্তা+চা,বিস্কুট ৩০রুপি দিয়ে খেয়ে নিই,তারপর আবার হেঁটে ফেয়ারলী প্লেসে চলে আসি।সকাল ১০টায় সিরিয়াল ভেতরে যাওয়া শুরু হলো।কপালগুনে সেদিনের কোন টিকিট পেলাম না,তাই বাধ্য হয়ে পরের দিন সকালের দিল্লির নন-এসি স্লিপারে ২টা টিকিট কেটে নিই ১৮৪০রুপি দিয়ে।এরপর দুইজন হাঁটতে হাঁটতে হোটেলে চলে আসি।হোটেলে এসে ফ্রেশ হয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে নিই ১৮৬রুপি+পানি ২০রুপি।তারপর ট্রামে ৪০রুপি দিয়ে চলে যাই ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল,৪০ রুপি দিয়ে টিকিট কেটে ভেতরে বিকেলটা কাটিয়ে দিই।সন্ধার দিকে বের হয়ে গুগল ম্যাপ ধরে হাঁটতে হাঁটতে হোটেলে ফিরে আসি,আসার পথে পানি ২০+নাস্তা ৪২রুপি।রাতে মুসলিম হোটেলে খাবার ১৩০রুপি+অ্যাপি ৩০রুপি।সেদিনের হোটেল ভাড়া ৫৫০রুপি।

২য় দিনের খরচঃ ৮০+৩০+১৮৪০+২০+১৮৬+৪২+৪০+৪৫+১৩০+৩০+৫৫০=২৯৯৩ রুপি।

৩য় দিনঃ সকালে ঘুম থেকে উঠে লোকাল বাসে ১৮রুপি ভাড়া দিয়ে হাওড়া স্টেশনে চলে যাই,সেখানে সকালের নাস্তা করি ৭০রুপি দিয়ে। সকাল ১০ঃ৩০ টায় আমাদের ট্রেন দিল্লির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়।দুপুরে ট্রেন থেকেই ১৭০রুপি দিয়ে লাঞ্চ বক্স নিয়ে খেয়ে নিই।বিকেলে ৭০রুপি দিয়ে নাস্তা করি।রাতে কোন এক স্টেশন থেকে ৬০রুপি দিয়ে আন্ডা বিরিয়ানির পেকেট কিনে খেয়ে নিই।সারাদিন+রাত ট্রেনেই কেটে যায়।

৩য় দিনের খরচঃ ১৮+৭০+১৭০+৭৫+৬০=৩৯৩রুপি।

৪র্থ দিনঃসকাল ৯টায় দিল্লি স্টেশনে নেমে সোজা চলে যায় স্টেশনের ২য় তলায় টুরিস্ট রিজার্ভেসন সেন্টারে। সেখান থেকে রাতে জাম্মু যাওয়ার ট্রেনের টিকিট কেটে নিই ১০৩০রুপি দিয়ে।এরপর স্টেশন থেকেই ১০৬রুপি দিয়ে নাস্তা করি।এখনো সারা দিনটা পরে আছে,তাই দিনটা কাজে লাগানোর জন্য ১০০০রুপি দিয়ে টুরিস্ট বাসের টিকিট কেটে দিল্লি সিটি ট্রুরে বেরিয়ে পরি।সারাদিনে পার্লামেন্ট হাউজ,কুতুব মিনার,ইন্ডিয়া গেট,লোটাস টেম্পল ঘুরে দেখি।কুতুব মিনারের টিকিট ১০৯রুপি,দুপুরের খাবার ২০০রুপি+পানি ৪০রুপি।সন্ধার দিকে আমাদেরকে দিল্লি স্টেশনে নামিয়ে দেয়।এরপর রাত ১০টা পর্যন্ত স্টেশনে বসে সময় কাটিয়ে দিই, রাত ১০টায় জাম্মুর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই।সেদিন আর রাতে খাওয়া হয়নি।

৪র্থ দিনের খরচঃ ১০৬+১০০০+২০০+১০৯+১০৩০+৪০=২৪৮৫রুপি।

৫ম দিনঃ সকালে জাম্মু স্টেশনে নেমে ৫০রুপি দিয়ে নাস্তা করে নিই।আহ কি মজা প্রায় কাশ্মীর চলে এসেছি। কিন্তু তখনো জানতাম না সামনে কি খারাপ একটা খবর অপেক্ষা করছে!! শ্রীনগরের গাড়ির কাছে যেয়ে জানতে পারলাম শ্রীনগর কার্ফিউ চলছে,তাই সকল যানবাহন চলাচল নিষেধ!! কবে নাগাদ কার্ফিউ উঠবে সেটাও কেউ বলতে পারে না। কি করি?
মনে হলো আকাশ থেকে পরলাম। এতো কষ্ট করে এসে যদি এখন না যেতে পারি তাহলে নিজেকে কিভাবে সান্তনা দিবো।তাই দুইজন হোটেল খোজা শুরু করলাম।দিনটা সারা জীবন মনে থাকার মতো ছিলো,,ক্লান্ত শরীর,পেটে ক্ষুধা,থাকার জায়গা নেই, ঠিকমতো ভাষাও পারি না।অনেক খুজে স্টেশন থেকে একটু দূরে কোন রকম একটা হোটেল পেলাম ভাড়া মাত্র ৮০০রুপি।কারণ শ্রীনগর যেতে না পেরে অনেক টুরিস্ট+লোকাল পাবলিক এখন জাম্মুতেই আছে,তাই হোটেল ভাড়া অনেক বেশি।হোটেলে উঠে ফ্রেশ হয়ে দুপুরের খাবারের জন্য বেরিয়ে পড়ি,জাম্মু মসজিদের রাস্তায় মুসলিম হোটেলে ১০০রুপি দিয়ে গরুর মাংস দিয়ে খাবার খেয়ে নিই।এই কয়েক দিনের সফরে চেহারার অবস্থা মোটামুটি কালা হয়ে গিয়েছে,তাই ৬৫রুপি ফেসওয়াস কিনে রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে গোসল করে নিই।বিকেলটা কাজে লাগাতে হবে,তাই বিকেলে ১০০রুপি দিয়ে অটো নিয়ে চলে যাই আম্বার মহল জাদুঘর+পার্কে,টিকিট+নাস্তা ১৪০রুপি।জায়গাটা বেশ সুন্দর ছিলো,বিকেলটা বেশ ভালোভাবে কেটে যায় সেদিন।সন্ধায় ২০রুপি দিয়ে লোকাল বাসে জাম্মু স্টেশনের কাছাকাছি এসে নামি।তারপর মুসলিম হোটেলে ১১৫রুপি দিয়ে রাতের খাবার খেয়ে হোটেলে ফিরে যাই।

৫ম দিনের খরচঃ ৮০+৮০০+১০০+৬৫+১০০+১৪০+২০+১১৫= ১৪২০রুপি।

৬ষ্ঠ দিনঃ সকালে ঘুম থেকে উঠে হোটেল ম্যানেজারের কথায় মনটা ভেঙে গেল,আজকেও নাকি শ্রীনগর যাওয়া যাবে না।তাই ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করতে বের হলাম,১৬৩রুপি দিয়ে নাস্তা করে বাসস্ট্যান্ডে যেয়ে জানতে পারলাম আজকে নাকি শ্রীনগর যাওয়া যাবে।তাড়াতাড়ি হোটেলে যেয়ে ব্যাগ নিয়ে চলে আসি বাসস্ট্যান্ডে।সকাল ৮টার দিকে দুইজন ২০০০রুপি দিয়ে শেয়ারিং জীপে শ্রীনগরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিই।জাম্মু থেকে শ্রীনগর যাওয়ার রাস্তাটা ছিলো অসাধারণ সুন্দর,পাহাড়ের আঁকাবাঁকা রাস্তা+এমন একটা জায়গায় যাচ্ছি যেটা অনেক দিনের সাধনার জায়গা।কয়েকদিন পর যাতায়াত শুরু হওয়ায় রাস্তায় বেশ কয়েক জায়গায় জ্যামের কারণে অনেকটা দেরী হয়ে যায় শ্রীনগর পৌঁছাতে।শ্রীনগর পৌছে ৫০রুপি দিয়ে অটো নিয়ে চলে যায় সস্তায় হোটেল খুজতে “খায়েম চক” এলাকায়।দুইজন ৫০০রুপিতে সুন্দর একটা রুম পেয়ে যায়।হোটেলে উঠে ফ্রেশ হয়ে তাড়াতাড়ি রাতের খাবারের জন্য বেরিয়ে পরি,কারণ দুপুরে কিছু খাওয়া হয়নি।হোটেলের সামনেই রাতের খাবার খেয়ে নিই ২০০রুপি দিয়ে।ফল ২০রুপি।

৬ষ্ঠ দিনের খরচঃ ১৬৩+২০০০+৫০+৫০০+২০০+২০=২৯৯৩রুপি।

৭ম দিনঃ সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার ছোট ব্যাগটা নেই।আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পরলো,কারণ ঐ ব্যাগেই আমার পাসপোর্ট,ক্যামেরা,টাকা,অ্যাকশন ক্যামেরা।হঠাৎ মনে হলো রাতে খেতে যাওয়ার সময় ব্যাগটা নিয়ে গিয়েছিলাম।মনে হতেই দৌড়ে চলে গেলাম সেই খাবার হোটেলে,কিন্তু হোটেলটা বন্ধ থাকায় কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছিল।অপেক্ষা করার সময়টা আমার ভেতরে কি যে একটা ঝড় চলছিলো সেটা শুধু আমি আর আমার আল্লাহ জানেন।অবশেষে হোটেলের ম্যানেজার আসলে, উনাকে সব খুলে বলতেই উনি বললোঃহা,আপলোগ কাল এক ব্যাগ ছোরকে গেয়ে,ও মেনে রাখ দিয়া,এ লো আপকা ব্যাগ,দেখো সব ঠিক তো হে,কোহি আবিতাক নেহি খোলা।নিজের অজান্তেই চোখের কোনায় পানি চলে আসলো।শুনেছিলাম কাশ্মীরের মানুষ নাকি অনেক ভালো,আজকে থেকে আমি নিজেও তার সাক্ষী হলাম।উনাকে ধন্যবাদ দিয়ে রুমে এসে নফল নামাজ পরে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করলাম।
তারপর ফ্রেশ হয়ে ঐ হোটেল থেকে ১৭৫রুপি দিয়ে নাস্তা করে ডাল লেকে ঘুরতে গেলাম।লেকে একটু ঘুরে ৭০০রুপি দিয়ে একটা অটো ভাড়া করলাম শ্রীনগর সাইড সীনের জন্য।সারাদিনে সানকারাচায়া টেম্পল,মুঘল গার্ডেন,নিসাত বাগ,শালিমার বাগ,হযরতবাল ঘুরে দুপুরের পরে খায়েম চক নামিয়ে দেয়,গার্ডেনের টিকিট ৯৬রুপি। দুপুরে শ্রীনগরেই একটা বাঙালীর হোটেলে দুপুরের খাবার খায় ৩২০রুপি দিয়ে,পানি ৪০রুপি।এরপর হোটেলে যেয়ে একটু রেস্ট নিয়ে বিকেলে ডাল লেকে সিকারা রাইড দিই ৩০০রুপি দিয়ে।বিকেলে নাস্তা করি ২০রুপি দিয়ে।সন্ধার পর হোটেলে ফিরে হোটেল ম্যানেজারের সাথে কথা বলে পরবর্তী ৩ দিনের জন্য উনাদের একটা গাড়ি ভাড়া করি ৫০০০রুপি দিয়ে,২৫০০ রুপি অ্যাডভান্স করি।সেদিনের হোটেল ভাড়া ৫০০ রুপি।

৭ম দিনের খরচঃ ১৭৫+৭০০+৯৬+৩২০+৪০+৩০০+২০+২৫০০+৫০০=৪৬৫১রুপি।

৮ম দিনঃ সকাল সকাল ঘুম থকে উঠে বেরিয়ে পরলাম হোটেলের রিজার্ভ করা গাড়িতে।আজকের উদ্দেশ্য সোনমার্গ। সকাল ৮টার আগেই শ্রীনগর চেকপোস্টে পার হতে হবে,কারণ সেদিন হরতাল ছিলো।শ্রীনগর পার হয়ে একটা রেস্টুরেন্টে নাস্তা করি ২০০ রুপি দিয়ে। তারপর শুরু হলো অন্যরকম এক রাস্তায় চলা।যতই সামনে যায় ততই সুন্দর পরিবেশ,মেঘ পাহাড়ের মিতালী।দূরে পাহাড়ের চূড়া মেঘের সাথে লেগে আছে,আবার কোথাও পাহাড়ের চূড়া থেকে বরফ গলে পড়ছে।প্রায় ৩ঘন্টা পরে আমরা সোনমার্গ পৌছায়।সেখানে পৌছানোর পরেই ঘোড়ার মালিক+গাইড আমাদের ঘিরে ধরে গ্লাসিয়ার পয়েন্ট নিয়ে যাওয়ার জন্য,কিন্তু আমাদের ইচ্ছা আমরা পায়ে হেঁটেই যাবো।উনাদের পাশ কাটাতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছিলো।তারপর আমরা টুকটাক করে হাটা শুরু করি।আহ….. সেই সৌন্দর্য্য বলে বা লিখে প্রকাশ করার মতো না।তাই নিজের দায়িত্বে সেখান থেকে ঘুরে আসবেন।সেখানে ৩/৪ঘন্টা সময় কাটিয়ে আমরা গাড়ির কাছে চলে আসি।বিকেলের দিকে সোনমার্গে দুপুরের খাবার খায় ২৮০রুপি দিয়ে।তারপর আবার শ্রীনগরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিই,সন্ধা নাগাদ শ্রীনগর হোটেলে ফিরে আসি।রাতে বাঙালী হোটেলে ২৮০রুপি দিয়ে খেয়ে হোটেলে ফিরে যাই।সেদিনের হোটেল ভাড়া ৫০০রুপি।

৮ম দিনের খরচঃ ২০০+২৮০+২৮০+৫০০=১২৬০রুপি

৯ম দিনঃ সকালে ঘুম থেকে উঠে নাস্তা না করেই বেরিয়ে পরতে হয়েছিলো,কারণ সেদিনও হরতাল ছিলো।শ্রীনগরের নির্দিষ্ট এরিয়া পার হয়ে সকালের নাস্তা করি ১১০রুপি দিয়ে।হোটেলের পিছনে আপেল+কমলা+স্ট্রবেরী বাগানটা অনেক সুন্দর ছিলো।গুলমার্গ পৌছানোর আগেই ড্রাইভারের কথা মতো গাইড নেওয়া লাগলো।গুলমার্গে বাধ্য হয়ে ঘোড়ার প্যাকেজ নেওয়া লাগলো,কারণ আমাদের ড্রাইভার আগেই বলেছিলো ঐখানে বেশি বার্গারিং করা যাবে না,প্যাকেজ মাস্ট।বাধ্য হয়ে প্যাকেজ+গাইড মিলে ৩৫০০রুপি বাড়তি খরচ করতে হয়।জায়গাটা বেশ সুন্দর ছিলো,কিন্তু ওখানকার সিন্ডিকেট গুলোর কাজে খুব খারাপ লেগেছিলো।বিকেলে শ্রীনগর পৌছে দুপুর+রাতের খাবার খায় ৩০০রুপি দিয়ে।গাড়ি রিজার্ভের বাকি ২৫০০রুপি সেদিনই দিয়ে দিই।সেদিনের হোটেল ভাড়া ৫০০রুপি।

৯ম দিনের খরচঃ১১০+৩৫০০+৩০০+২৫০০+৫০০=৬৯১০রুপি।

১০ম দিনঃসেদিনও শ্রীনগর হরতাল ছিলো,তাই সকাল সকাল ঘুম থকে উঠে বেরিয়ে পরলাম।শ্রীনগর পার হয়ে একটা রেস্টুরেন্টে সকালের নাস্তা করি ১২০রুপি দিয়ে।তারপর আবার চলা শুরু করি পাহেলগামের উদ্দেশ্যে।সেখানে পৌঁছে আগের দিনের মতো ঘোড়ার মালিকদের সামনে পরি,কিন্তু আমরা দুইজন নাছোর বান্দা,আমরা পায়ে হেঁটেই যাবো।কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করে হাঁটা শুরু করি বাইসারানের দিকে।পথে তিনজন কাশ্মীরি পেয়ে যায়,ওরাও বাইসারান ঘুরতে যাচ্ছে।ওদের সাথে কথা বলতে বলতে উপরের দিকে হাঁটা শুরু করি।প্রায় এক ঘন্টা পর আমরা বাইসারান পৌছায়।৬০রুপি দিয়ে টিকিট কেটে ভেতরে প্রবেশ করি।জায়গাটা অসাধারণ সুন্দর ছিলো।
ভাবতেই ভালো লাগছিলো,এতদিন যেই জায়গাটা ছবিতে দেখেছি,আজ সেখানে আমি দাড়িয়ে আছি।সেখানে ৩-৪ঘন্টা সময় কাটিয়ে আমরা নিচে নামা শুরু করি।নামার সময় হঠাৎ ঝুম বৃষ্টি শুরু হলো,কোনোরকমে ক্যামেরা ঢেকে বিশাল বিশাল গাছের নিচে দাড়িয়ে থাকা লাগলো প্রায় এক ঘন্টা।তাছাড়া কোন উপায় ও ছিলো না,কারণ ভুল করে আমরা ছাতা না নিয়ে গিয়েছিলাম।বৃষ্টি থামলে নিচে নেমে পাহেলগাম শহরটা একটু ঢু মেরে আবার শ্রীনগরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিই।হোটেলে পৌছে ফ্রেশ হয়ে রাতে দুপুর+রাতের খাবার খায় ২৮০রুপি দিয়ে।সেদিনের হোটেল ভাড়া ৫০০রুপি।

১০ম দিনের খরচঃ১২০+৬০+২৮০+৫০০=৯৫০রুপি।

১১তম দিনঃ সকালে ঘুম থেকে উঠে ১২০রুপি দিয়ে নাস্তা করে হোটেল থেকে চেক আউট করি।কারণ আজকে আমরা জাম্মু হয়ে দিল্লি যাবো।জীপ স্ট্যান্ডে যেয়ে শেয়ারিং জীপে দুইজন ১৬০০রুপি দিয়ে জাম্মুর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিই।দুপুরে জাম্মু পৌঁছে দুপুরের খাবার খায় ২০০রুপি দিয়ে।জাম্মু স্টেশনে দিল্লির ট্রেনের টিকিটের খোজ করতে যেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে আসি।পরে জাম্মু বাসস্ট্যান্ডে যেয়ে সরকারী বাসে দিল্লির টিকিট কেটে নিই ১২৫০রুপি দিয়ে।বিকেলে দিল্লির উদ্দেশ্যে বাসে রওয়ানা দেয়।রাতে হাইওয়ে হোটেলে ২৬০রুপি দিয়ে রাতের খাবার খেয়ে নিই,,সারারাত বাসেই।

১১তম দিনের খরচঃ ১৬০০+১২০+২০০+১২৫০+২৬০=৩৩২২রুপি।

১২তম দিনঃসকাল ৮টায় দিল্লি নেমে ১২০রুপি দিয়ে অটো নিয়ে দিল্লি স্টেশনে চলে যাই।সেখানে সকালের নাস্তা করি ১২০রুপি দিয়ে।টুরিস্ট কোটায় রাতের ট্রেনে দিল্লি-কোলকাতার নন-এসি স্লিপারে টিকিট কেটে রাখি।তারপর স্টেশনে একটু রেস্ট নিয়ে চলে যাই দিল্লি জামে মসজিদ।বিকেলের দিকে স্টেশনে ফিরে আসি।সারাদিনের অটো ভাড়া ৮০রুপি,বিকেলে নাস্তা ৪০রুপি।দিল্লি স্টেশনের বিপরীতে মুসলিম হোটেলে দুপুরের খাবার খেয়ে নিই ২০০রুপি দিয়ে।এরপরের সময়টা স্টেশনেই কাটিয়ে দিই।রাত ১০ঃ৩০টায় আমাদের ট্রেন আসে এবং আমরা কোলকাতার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিই।

১২তম দিনের খরচঃ ১৮৪০+১২০+১২০+৮০+৪০+২০০=২৪০০রুপি।

১৩তম দিনঃ সারাদিন ট্রেনেই কেটে যায়।ট্রেনে সকালের নাস্তা+দুপুরের খাবার ২০০রুপি। বিকেলের দিকে হাওড়া স্টেশনে নামি।সেখান থেকে নিউমার্কেট যেয়ে হোটেল খুজে না পেয়ে পরে দুইজন বাসে ৬০রুপি দিয়ে একটা দাদার বাসায় গিয়ে রাতে থাকি।(হোটেলে থাকলে মিনিমাম ৬০০রুপি লাগবে)।
শরীরটা বেশ ক্লান্ত ছিলো,তাই রাতে কোন রকম খেয়েই ঘুমিয়ে যায়।

১৩তম দিনের খরচঃ২০০+৬০=২৬০রুপি।

১৪তম দিনঃ সকালে ঘুম থেকে উঠে নাস্তা করে ৪০রুপি দিয়ে স্টেশনে চলে যাই।স্টেশনে গিয়ে বনগাঁর ট্রেনের টিকিট কেটে নিই ৪০রুপি দিয়ে।দুপুরের দিকে বনগাঁ পৌঁছে যায়।সেখান থেকে অটোতে ৬০রুপি দিয়ে বর্ডারে চলে আসি।বর্ডারে দুই পাশের ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করে বিকেলের দিকে বেনাপোল বাসস্ট্যান্ডে চলে আসি।দুপুরের খাবার ১৪০রুপি।আর এখানেই আমাদের সফরের প্রাথমিক সমাপ্তি হয়,কারণ এখান থেকে আমি ঢাকা যাবো আর আমার ট্রুরমেট ভাতিজা কুষ্টিয়া যাবে।

১৪তম দিনের খরচঃ৪০+৪০+৬০+১৪০=২৮০রুপি।

মোট খরচঃ ১৫৪৬+২৯৯৩+৩৯৩+২৪৮৫+১৪২০+২৯৯৩+৪৬৫১+১২৬০+৬৯১০+৯৫০+৩৩২২+২৪০০+২৬০+২৮০=৩১,৮৬৩রুপি অথবা ৩৮,৮৭৩টাকা।
তাহলে বেনাপোল-কাশ্মীর-বেনাপোল একজনের খরচঃ ৩৮,৮৭৩÷২=১৯,৪৩৬ টাকা।
+ঢাকা টু বেনাপোল যাওয়া+আসা বাস ভাড়া ৫৫০×২=১১০০ টাকা।
+ট্রাভেল ট্যাক্স ৫০০ টাকা।

একজনের মোট খরচ ১৯৪৩৬+১১০০+৫০০=২১,০৩৬ টাকা(ট্রাভেল ট্যাক্স সহ)*অবশ্যই কম-বেশি হতে পারে।

সতর্কতাঃ
***দয়া করে ঘুরতে যেয়ে পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কিছু করবেন না।মনে রাখবেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ।
**সড়কপথে গেলে জার্নিটা অনেক লম্বা সময়ের,তাই পর্যাপ্ত মনোবল থাকতে হবে+যেকোন পরিবেশের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারতে হবে।
***দয়া করে ঘুরতে যেয়ে মদ,জুয়া,নেশা করবেন না।
***দেশের বাইরে ঘুরতে গেলে খাবারের ব্যাপারে একটু বেশি সতর্ক থাকবেন।একটু কষ্ট করে হলেও হালাল খাবার খুজে খাবেন।
***সফরকালে নামাজ আদায় করতে ভুলবেন না,দিনে সফরে থাকলে রাতে সারাদিনের নামাজ একসাথে কসর পরুন,তবুও নামাজ ছাড়বেন না।পারলে সেখানকার মসজিদে কিছু দান করে আসবেন।

82301929_2746777858763218_9128857480460238848_n

সড়ক পথে নেপাল ভ্রমন – Awal Khan

সড়ক পথে নেপাল ভ্রমন – Awal Khan
অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল নেপাল ঘুরতে যাবো,কিন্তু আমি গরীব ট্রাভেলার,তাই বিমানে যাওয়ার সামর্থ্য নেই। অনেক ঘাটাঘাটি করেও বাই রোডে যাওয়ার তেমন কোন পোষ্ট/সাহায্য পেলাম না।ফেসবুকে কয়েকবার পোষ্ট করেও তেমন কোন সারা-শব্দ পাইনি।অনেকে বলেছে এখন বাই রোডে যাওয়া যায়না/ভিসা দেয়না।
সব কিছু মাথাই নিয়েই ডিসেম্বরের ৮ তারিখ নেপালের ভিসার জন্য ৬ জন পাসপোর্ট জমা দিলাম।যথারীতি পরের দিন সবাই ভিসা সহ পাসপোর্ট ফেরত পেলাম।
এরপর ১০ তারিখে ভারতের ট্রানজিট ভিসার জন্য পাসপোর্ট জমা দিলাম ৬জন। ১৯ তারিখ ডেলিভারি ডেট থাকলেও আমরা ২৩তারিখের বাসের টিকিট দেওয়ার কারনে ২২ তারিখ পাসপোর্ট ডেলিভারি দেয়।দূর্ভাগ্যবসত ১ জনের ভিসা দেয়নি। পরবর্তীতে উনি বিমানে যাই,আবার ২জন কাঠমুন্ডু থেকে এড হয়,পরে আলাদা হয়ে যায়।তাই এখানে সব খরচ একজনের হিসেবে দিয়ে দিলাম।

২৩ তারিখ রাত ৭ঃ৩০ টার হানিফ বাসে আমরা যাত্রা শুরু করি।বাস ভাড়া ৬৫০টাকা,রাতের খাবার ১৫০ টাকা। মোট খরচঃ৮০০ টাকা।

১ম দিনঃ সকালে বুড়িমারী পৌঁছাতে ১০টা বেজে যায়। তারাতারি নাস্তা করি ৩৫টাকা,বন্দর উন্নয়ন ফি ৫০ টাকা দিয়ে,প্রায় ১ ঘন্টায় ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করে ভারত চলে যাই।ভারতীয় ইমিগ্রেশনেও প্রায় ৩০ মিনিট সময় লাগে।এরপর টাকা ভাংগিয়ে রানিগঞ্জের জন্য গাড়ি রিজার্ভ করি ১৭০০ রুপি ৫জন,পার হেড ৪২৫রুপি।প্রায় ৩ ঘন্টা পর আমরা রানিগঞ্জ বর্ডারে পৌছায়।
রানিগঞ্জ নেমে ২০ মিনিটে ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করে সোজা চলে যাই নেপালের কাঁকরভিটা ইমিগ্রেশনে। কাকারভিটা ইমিগ্রেশনে ১৫ মিনিটে কাজ শেষ করে কাঠমুন্ডু যাওয়ার বাসের খোঁজ শুরু করি,কপালগুনে লাস্ট বাসটি পেয়ে যায়।বাসের সিট কনফার্ম করি ৭০০রুপি, দুপুর+রাতের খাবার খেয়ে নিই ১৫০রুপি দিয়ে। সন্ধা ৭ টায় কাঠমুন্ডুর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিই। পথে বেশ কয়েকবার যাত্রা বিরতি দেয়,পথে নাস্তা ৬০রুপি।

১ম দিনের খরচঃ৩৫+৪২৫+৭০০+১৫০+৬০=১৩৭০ রুপি/১৬৭১টাকা।

২য় দিনঃ চারিদিকে পাহাড় দেখে ঘুম ভাংলো,কিছুদূর পর সকালের নাস্তার বিরতি দিল,নাস্তা করলাম ২৫০রুপি।এরপর আবার গাড়ি চলা শুরু করলো,পথ যেন ফুরায় না!! অবশেষে ১১টাই কাঠমুন্ডু পৌছালাম। অনেক খুজে থামেলে হোটেল নিলাম ২৫০০ রুপি,৫জন।ফ্রেশ হয়ে খাবারের খোজে বেরিয়ে পরলাম,পেয়েও গেলাম নেপালি থালি খাবার ৩৩০রুপি।আগেই শুনেছিলাম নেপালে খাবারের দাম একটু বেশি।
খাবার খেয়ে গুগল ম্যাপ ধরে হেটে দরবার স্কয়ার চলে গেলাম।সন্ধা পর্যন্ত দরবার স্কায়ারে থেকে রাতের থামেল দেখতে দেখতে হোটেলে ফিরে গেলাম।ফ্রেশ হয়ে হালাল খাবারের খোজে বেরিয়ে পরি,গুগলের সাহায্যে পেয়েও যাই আল-মদিনা হালাল ফুডস,মহিষের মাংস দিয়ে রাতের খাবার খেয়ে নিই ৩০০রুপি,চা-২০রুপি।
২য় দিনের খরচঃ ২৫০+৫০০+৩৩০+৩০০+২০=১৪০০ নেপালি রুপি/১০৫০টাকা।

৩য় দিনঃ গরীব ট্রাভেলার বলে আগের রাতেই পার হেড ৩০০রুপিতে ঠিক করে রাখা হোস্টেলে উঠে পরি। সকালে উঠে ১২০রুপি দিয়ে আলু পরটা+চা খেয়ে কাঠমুন্ডু সাইড সীনের জন্য ৪৫০০ রুপি দিয়ে গাড়ি ভাড়া করি(পশুপথিনাথ টেম্পল,ওয়াল্ড হেরিটেজ বুদ্ধনাথ স্তুপা,বুড়া নীলকন্ঠ,চন্দ্রগিড়ি,স্বয়ম্ভুনাথ টেম্পল,কাঠমুন্ডু দরবার স্কয়ার)।
নাস্তার জন্য বিস্কুট,কমলা নিয়ে নিই ৪৫রুপি।দুপুরে চন্দ্রগিড়িতে ৩৩০ রুপিতে নেপালী ভেজ খাই।রাতে আল-মদিনা হোটেলে ২৭৫ রুপিতে বিরিয়ানি খাই।কাল সকালে পোখারা যাওয়ার বাসের টিকিট কেটে রাখি ৭০০রুপি দিয়ে।
৩য় দিনের খরচঃ ৩০০+১২০+৭৫০+৪৫+৩৩০+২৭৫+৭০০=২৫২০রুপি/১৮৯০টাকা।

৪র্থ দিনঃ সকালে ঘুম থেকে উঠে চা,বিস্কুট ৫০রুপি দিয়ে খেয়ে ৭ঃ০০ টায় পোখারার বাসে উঠি।বাসে নাস্তার জন্য বিস্কুট,কমলা নিয়ে নিই ৫০রুপি দিয়ে।পোখারা পৌছাতে ২টা বেজে যায়।বাস থেকে নেমে গুগল ম্যাপ ধরে হাঁটতে হাঁটতে লেক সাইডে চলে যাই।কয়েকটা হোটেল দেখে ৩০০রুপি পার হেড একটি হোটেল নিয়ে নিই।ফ্রেশ হয়ে হালাল খাবারের খোজ শুরু করি,গুগল ম্যাপের সাহায্যে পেয়ে যায় পোখারা হালাল ফুড নামের রেস্টুরেন্ট।৩০০রুপি দিয়ে মহিষের মাংস দিয়ে দুপুর+রাতের খাবার খেয়ে নিই। খাবার খেয়ে ফেওয়া লেকের পাড়ে ঘুরতে যাই।রাতে হোটেলে আসার সময় বিস্কুট,চা ৫০রুপি দিয়ে খেয়ে নিই।হোটেল ম্যানেজারের সাথে কথা বলে পরের দিন সাইড সীনের জন্য গাড়ি রিজার্ভ করি ৭০০০রুপি দিয়ে ৭জন।
খুব ভালো সময় ছিলো,প্রতিদিন সন্ধায় পোখারার রাস্তায় বিভিন্ন ফেস্টিভ্যাল চলছিলো।
৪র্থ দিনের খরচঃ ৫০+৫০+৩০০+৩০০+৫০+১০০০=
১৭৫০রুপি/১৩১৩টাকা।

৫ম দিনঃ সকাল ৫ঃ৩০টায় ঘুম থেকে উঠে রিজার্ভ করা গাড়িতে চলে যাই সারাংকোট,প্রবেশ ফি পার হেড ৬০রুপি।সকালের সূর্যোদয়+অন্মপুর্না উপভোগ করে নিচে নেমে যাই। তারপর ব্যাট কেভে ৮০রুপি টিকিট কেটে ঘুরে আসি।গেটের বাইরেই সকালের নাস্তা করি ১৫০রুপি দিয়ে।তারপর মাহেন্দ্র কেইভ,বিন্দবাসিনী মন্দির,ওয়াল্ড পিস প্যাগোডা,ডেভিস ফলস,শতী রিভার,গুপ্তেশ্বর মহাদেব কেইভ ঘুরে বিকেলে হোটেলে ফিরে আসি।সন্ধায় ফেওয়া লেকের পাড়ে ঘুরতে যাই,চা ৩০রুপি। রাতে পোখারা হালাল রেস্টুরেন্টে ৩০০রুপি দিয়ে রাতের খাবার খেয়ে নিই।হোটেল ভাড়া ৩০০রুপি।রাতে পোখারার ফেস্টিভাল গুলো খুব উপভোগ্য ছিলো।
৫ম দিনের খরচঃ ৬০+৮০+৮০+১৫০+৩০০+৩০+৩০০=১০০০রুপি/৭৫০টাকা।

৬ষ্ঠ দিনঃ এই দিনটা ফেওয়া লেকে ঘোরাঘুরি জন্য রেখেছিলাম।সকালে ঘুম থেকে উঠে ১৫০রুপি দিয়ে নাস্তা করে ফেওয়া লেকে চলে যাই। ৫জন ১১৬০ রুপি দিয়ে ২ঘন্টার জন্য একটা বোট ভাড়া করি।২ঘন্টা লেকে ঘুরে হোটেলে ফিরে ফ্রেশ হয়ে হালাল রেস্টুরেন্টে ৩০০রুপি দিয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে নিই। তারপর ১৫০রুপি ঘন্টা হিসেবে সাইকেল ভাড়া করে ১ঘন্টা ঘুরে হোটেলে ফিরে আসি।রাতে আবার সেই হালাল রেস্টুরেন্টে ৩০০রুপি দিয়ে রাতের খাবার খেয়ে নিই। হোটেলে এসে ম্যানেজারের সাথে কথা বলে পরের দিন বিকেলের কাঁকরভিটার বাসের টিকিট কেটে রাখি পার হেড ১৩০০রুপি দিয়ে।হোটেল ভাড়া ৩০০রুপি।
৬ষ্ঠ দিনের খরচঃ ১৫০+২৩২+৩০০+১৫০+৩০০+১৩০০+৩০০=২৭৩২রুপি/২০৪৯ টাকা।

৭ম দিনঃ সকালে ঘুম থেকে উঠে ৮০রুপি দিয়ে নাস্তা করে নিই।আগের দিন সাইকেল চালিয়ে মন ভরেনি+বিকেল পর্যন্ত সময় আছে,তাই ২জন ২টা সাইকেল ভাড়া নিই ১৫০রুপি।সাইকেল চালিয়ে প্যারাগ্লাইডিং ল্যান্ড মাঠে চলে গেলাম।গরীব ট্রাভেলার বলে প্যারাগ্লাইডিং করতে পারলাম না,কারন নতুন বছরকে সামনে রেখে সবকিছুর দাম বেড়ে গিয়েছে। যাইহোক পাগলের সুখ মনে মনে ভেবে নিলাম।দুপুরে হোটেলে এসে ফ্রেশ হয়ে ২২০রুপি দিয়ে ভেজ থালি খেয়ে নিই।তারপর গুগল ম্যাপ ধরে হাঁটতে হাঁটতে বাস স্টান্ডে রওনা হলাম,১.৫কিলো হেটে অবশ্য লোকাল বাসে উঠেছিলাম ১৫রুপি।বিকেল ৩ঃ৩০ টায় কাকারভিটার উদ্দেশ্যে বাস রওনা হই।বাসের মধ্যে নাস্তার জন্য মুড়ি+চানাচুর,কমলা ১০০রুপি কিনে নিই।বাস রাতে কয়েকবার বিরতি দেয়,রাতে চাওমিন+ডিম ১৪০রুপি দিয়ে খাই।
৭ম দিনের খরচঃ ৮০+১৫০+২২০+১৫+১০০+১৪০=৭০৫রুপি/৫২৯ টাকা।

৮ম দিনঃসকালে কাঁকরভিটা নেমে ১২০রুপি দিয়ে নাস্তা করি।তারপর নেপাল ইমিগ্রেশন+রানিগঞ্জ ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করে লোকাল বাসে ৩০রুপি দিয়ে শিলিগুড়ি চলে আসি।৩জন পার হেড ৩০০ রুপি দিয়ে একটা রুম নিয়ে নিই। হোটেলে ফ্রেশ হয়ে ভেনাস মোড়ে “পাকিজা” মুসলিম রেস্টুরেন্টে যেয়ে ১৪৫ রুপি দিয়ে গরুর মাংস দিয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে নিই।তারপর টুকটাক কেনাকাটা করে রাতে পাকিজা রেস্টুরেন্টে বিরিয়ানি খাই ১০০টাকা দিয়ে।রাতে হোটেলে ফিরে জম্পেশ ঘুম দিই।
৮ম দিনের খরচঃ ১২০+৩০+৩০০+১৪৫+১০০=৬৯৫রুপি/৮৪৮ টাকা।

৯ম দিনঃসকালে ঘুম থেকে উঠে ৭০ রুপি দিয়ে গরুর কলিজা+রুটি খাই।তারপর অটো ভাড়া করে শিলিগুড়ি বাসস্ট্যান্ডে যায় ৩০রুপি দিয়ে।বাসে ৭০রুপি দিয়ে চেংরাবান্দার উদ্দেশ্যে রওনা হই।বাস থেকে নেমে ৩০রুপি অটো ভাড়া দিয়ে বর্ডারে চলে আসি। দুইপাশের ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করে বিকেলে দুপুরের খাবার খেয়ে নিই মাত্র ৭০টাকা দিয়ে।তারপর বিকেল ৫টার বাসে ৬৫০টাকা দিয়ে টিকিট কেটে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হই। রাতে হাইওয়ে হোটেলে ৫০টাকা দিয়ে রুটি-সবজি খেয়ে নিই।
৯ম দিনের খরচঃ ৭০+৩০+৭০+৬৫০+৫০=৯০৮ টাকা।

টোটাল খরচঃ৮০০+১৬৭১+১০৫০+১৮৯০+১৩১৩+৭৫০+২০৪৯+৫২৯+৮৪৮+৯০৮=১১৮০৮ টাকা।
এর বাইরে এক্সট্রা খরচঃ বিডি বর্ডার ১০০+ ভারতের বর্ডার ১২০+রানিগঞ্জ বর্ডার ২৪০+কাঁকরভিটা বর্ডার ১৫০,,আসার সময় ভারত বর্ডার ১২০+বিডি বর্ডার ১০০=৮৩০ টাকা
ভারতের ভিসা খরচঃ ৮৪০ টাকা।
ট্রাভেল ট্যাক্সঃ ৫০০ টাকা।
সবশেষে জনপ্রতি মোট খরচঃ১১৮০৮+৮৩০+৮৪০+৫০০=১৩৯৭৮ টাকা (ভিসা+ট্রাভেল ট্যাক্স সহ) ***অবশ্যই কিছু কম-বেশি হতে পারে।)
(হিসেবের যেখানে রুপির থেকে টাকার মান বেশি,সেটা নেপালী রুপি,আর যেখানে রুপির থেকে টাকার মান কম,সেটা ভারতীয় রুপির হিসাব)

>>নেপাল ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রঃ
*পাসপোর্ট (অবশ্যই নুন্যতম ৬মাস মেয়াদ থাকতে হবে)
*পাসপোর্টের ফটোকপি।
*পাসপোর্ট সাইজ ছবি ১কপি।
*জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি।
*পেশাগত প্রমানপত্রের কপি(ছাত্র হলে স্টুডেন্ট আইডি কার্ডের ফটোকপি,চাকুরীজীবি হলে ছুটির প্রমানপত্র)।
*নেপালে হোটেল বুকিংয়ের কপি।
*বাই রোডে গেলে ঢাকা-বুড়িমারি যাওয়া আসার টিকিটের ফটোকপি।
*ভিসা আবেদন ফরম অনলাইন থেকে ডাউনলোড করে হাতে পুরন করতে পারেন,অথবা অ্যাম্বাসী গেট থেকে নিয়েও পুরন করে জমা দিতে পারেন।
*বছরের ১ম বার নেপালের ভিসা করতে কোন টাকা লাগে না।একই বছরে ২য় বার গেলে টাকা লাগে।

>>ভারতের ট্রানজিট ভিসার কাগজপত্রঃ
*অনলাইনে পুরন করা আবেদন ফরম ২×২ ছবিসহ।
*পাসপোর্টের ফটোকপি।
*পেশাগত প্রমানপত্র।
*ব্যাংক স্টেটমেন্ট/ডলার এন্ডোজমেন্ট।
*বাসস্থানের যে কোন বিলের কপি।
*নেপালের হোটেল বুকিং এর কপি।
*ঢাকা-বুড়িমারি যাওয়া আসার টিকিটের ফটোকপি।
*নেপালের ভিসার ফটোকপি।।

সতর্কতাঃ
**ঢাকা থেকে কাঠমুন্ডু পৌছাতে প্রায় ৩৬ ঘন্টা,কাঠমুন্ডু থেকে পোখারা যেতে ৭ ঘন্টা সময় লাগে,পর্যাপ্ত মনোবল+এনার্জি না থাকলে সড়কপথে না যাওয়াটা ভালো।
**কাঠমুন্ডু আমার তেমন ভালো লাগেনি, ঢাকার মতই হই-চই,কিন্তু পোখারা একদম নিরব,সাজানো-গোছানো,পরিষ্কার শহর।

***দয়া করে ঘুরতে যেয়ে পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কিছু করবেন না।মনে রাখবেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ।
***দয়া করে ঘুরতে যেয়ে মদ,জুয়া,নেশা করবেন না।
***সফরকালে নামাজ আদায় করতে ভুলবেন না,দিনে সফরে থাকলে রাতে সারাদিনের নামাজ একসাথে কসর পরুন,তবুও নামাজ ছাড়বেন না।পারলে সেখানকার মসজিদে কিছু দান করে আসবেন।
গ্রুপে এটাই আমার ১ম পোস্ট,তাই ভুল-ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ করছি।

88237165_2760646803972792_8822090558034935808_o

নীল দুনিয়ার গল্প – Istiaq Shuvo

Blue Haven ❤️ – Istiaq Shuvo
“নীল দুনিয়ার গল্প”
কাছ থেকে দেখলে মনে হয় নীল আকাশ আর Nemophila এক সাথে মিসে আছে। 😍
“হিতাচি সি সাইড পার্ক” 🇯🇵
জাপানের ইবারাকি প্রিফেক্চার এর হিতাচিনাকা তে প্যাসিফিক সমুদ্রের এর তীরে অভূতপূর্ব সুন্দর এই পার্কটির অবস্থান।
গত বছরের বসন্ত তে ঘুরে এসেছি হিতাচি সি সাইড পার্কে।
দেখে এসেছি Namophila, টিউলিপ আর প্যাসিফিক সমুদ্রের অপরুপ সৌন্দর্য্য।
পার্কটি পুরোটাই একটি বিশাল ফুলের বাগান।
এই বিশাল বাগানটি গড়ে উঠেছে ৩.৫ হেক্টর জায়গা নিয়ে।
জাপানের চার ঋতু তে চার ধরনের ফুল দেখা যায় এই পার্কে। সারা বছর তাই এখানে পর্যটকদের ভিড় লেগেই থাকে।
এপ্রিল-মে এর দিকে Namophila দিয়ে ছেয়ে যায় পুরো পার্কটি ।
আর Pacific Ocen এর অপরুপ সৌন্দর্য্য তো রয়েছেই।

Tokyo Station থেকে ট্রেন ও বাস রয়েছে Katsuta Station পর্যন্ত।
Katsuta Station থেকে পার্ক পর্যন্ত ট্যাক্সি ও বাস রয়েছে। যাওয়া আসা ৫০০০ ইয়েন এর মত খরচ হবে।

ভ্রমনে আমরা অবশ্যই আসে পাশের পরিবেশ সুন্দর রাখবো ও ময়লা যথাযথ জায়গায় ফেলবো। 😊
Happy Traveling ❤️
📷Istiaq

47234455_964035493782966_1768116943455256576_n

শীতে শুক্র -শনিবারের ছুটিতে সিলেট ভ্রমনের খরচে ঘুরে আসুন মেঘালয়ের ডাউকি – by Rs Sumit

এই শীতে শুক্র -শনিবারের ছুটিতে সিলেট ভ্রমনের খরচে ঘুরে আসুন মেঘালয়ের ডাউকি এবং আশেপাশের জায়গাগুলো by – Rs Sumit

অনেকেই মনে করেন মেঘালয় বর্ষাকালে ঘোরার জায়গা। তবে শীতকালে মেঘালয় আরো বেশি অপরুপ। নীল স্বচ্ছ পানি – ক্যাম্পিং – বোটিং এগুলো অন্য সময়ে পাবেন না। মেঘালয় ঘোরার জন্য ডাউকি পোর্ট হয়ে ভিসা এন্ট্রি থাকতে হবে। অনেকের বেনাপোল থেকে ভিসা থেকে করানো থাকে তারা এম্বাসি তে ৩০০ টাকা দিয়ে এপ্লাই করে পোর্ট অ্যাড করে নিতে পারবেন।

ট্যুর-প্ল্যান

বৃহঃবার রাতের ট্রেনে উঠে পড়ুন সিলেটের জন্যে, ভোরে সিলেট নেমে স্টেশনের সামনে ব্রেকফাস্ট শেষ করে একটু সামনেই তামাবিলের বাস পাবেন, উঠে পড়বেন, ভাড়া ৬৫ টাকা।

আলতো ঘুমুনিতে দুই ঘন্টা পর নিজেকে আবিষ্কার করবেন এশিয়ান হাইওয়ের দুপাশে সুদুর প্রসারিত সবুজ শস্যক্ষেতগুলোর মাঝে |
তামাবিল পৌছে গেলে বাস থেকে নেমে হেটেই একটু সামনে ইমিগ্রেশন। ইমিগ্রেশনে ডলারের পরিবর্তে টাকা থাকলে একটু উপদেশবাণী দিবে, ভয়ও দিয়ে বলবে ভারতীয়রা টাকা থাকলে ঢুকতে দিবেনা। শুনে কাজ শেষ করে কাস্টমসে ঢুকে পড়ুন। সব কাজ শেষ করে ভারতে ঢুকে পড়ুন, ঐপাশে ইমিগ্রেশন কাস্টমস একই সাথে , হেটে একটু সামনে যেতে হয়। ভারতের এই পোর্টের ইমিগ্রেশন পুরো হাতে কলমে হয়। কাস্টমসেও টাকা না এনে ডলার আনার জন্য উপদেশবাণী দিবে। ইমিগ্রেশন শেষ হয়ে গেলে ক্যাব (১০০ রুপি) / অথবা হেটে(১০-১৫ মিনিট ) ডাউকি বাজারে চলে যাবেন। সেখানে টাকা/ডলারগুলো ভাঙ্গিয়ে নিবেন, এখানে অনলাইন রেট থেকে ১-২ টাকা কম পাবেন শ’য়ে। এটাই সর্বোচ্চ অবশ্য, কয়েকটা দোকানে কথা বললে সর্বোচ্চ কত পাবেন তার ধারণা হয়ে যাবে। ঘড়ি/মোবাইলে সময় আধঘন্টা কমিয়ে ভারতীয় টাইম সেট করে ফেলুন।

তারপর চারজন হলে ক্যাব আর ৮-১০ জন হলে জিপ বুক করুন! রুট হবে ডাউকি থেকে কাছের স্পটগুলো (নিচে যেগুলোর কথা বলেছি) ঘুরিয়ে ডাউকি ফেরত এসে স্নোনেংপেডাং গ্রামে নিয়ে যাবে। ক্যাবে ১৫০০-২০০০ রুপির মধ্যে বুক করার চেষ্টা করবেন।

আমরা ক্যাব নিয়েছিলাম একটা। প্রথমে ডাউকি ব্রিজ পার হয়ে একটু সামনে দাড়াবেন, সেখানে উপর থেকে জাফলং দেখতে পাবেন, আর নিচে সবুজ পানির ওপর নৌকাগুলোর ভেসে থাকা দেখতে দেখতে আনমনা হয়ে যাবেন। আবার ক্যাবে উঠে পড়ুন, বাংলাদেশ থেকে মেঘালয়ের যে পাহাড়গুলো দেখেন, সেই পাহাড়গুলোর কিনার দিয়েই বর্ডারের সমান্তরালে উচু নিচু পাহাড়ি পথে এগিয়ে যাবে গাড়ি, নিচেই বাংলাদেশ দেখতে পাবেন, নেটওয়ার্ক ও পাবেন বাংলাদেশের। এবার পথেই বড় মাপের কয়েকটা ফলস পাবেন, আমরা একটায় নেমে অনেকক্ষণ কাটিয়ে দিয়েছিলাম , চাইলে গোসল করতে পারবেন। ফলসগুলো ঘোরা শেষ হলে এরপর পড়বে রিওয়াই ভিলেজ, সেখানে ১০-১৫ মিনিটের মত পায়ে হেটে নিচে নেমে দেখা মিলবে লিভিং রুট ব্রিজের। এখানে এন্ট্রি টিকেট ১৫/২০ রুপি। বিশালাকার গাছের শেকড় পেচিয়ে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়া এই ব্রিজের নিচ থেকে পানির স্ট্রিম চলে গেছে বাংলাদেশে। এখানে থেকে উপরের দিকে উঠে গেলে নহওয়াত ভিউ পয়েন্ট , বাংলাদেশ দেখা যায় এখান থেকে। আমরাও যেমন জাফলং বিছানাকান্দিতে গিয়ে ভারতকে দেখি, তেমনি ভারতীয় রাও বাংলাদেশ দেখার জন্য এখানে পাড়ি দেয় 😛

আবার আগের রাস্তায় উপরে চলে আসুন, ক্যাবে উঠে নেক্সট গন্তব্য মাওলিনং ভিলেজ! এশিয়ার সবথেকে পরিষ্কার এবং সম্ভবত সবথেকে সুন্দর গ্রাম। পুরো গ্রামটা সাজানো গোছানো একটা রিসোর্টের মত। ঘুরতে ঘুরতে এখানে লাঞ্চ সেরে ফেলুন, যদিও বিকাল হয়ে যাবে এ পর্যন্ত আসতে।

এরপর ক্যাব ডাউকি বাজার ফিরে স্নোনেংপেডাং ভিলেজ নিয়ে যাবে, যেতে যেতে সন্ধ্যা হয়ে যাবে। আগে থেকে তাবু বুক করে রাখবেন! আমাদেরকে তন্ময় দাদা চেস্টার নামের একজনের রেফারেন্স দিয়েছিলেন (+91 8414896858 ) আগে থেকে যোগাযোগ করে আমরা তিনজনের একটা তাবু বুক করে রেখেছিলাম। তাবু সাধারনত সিঙ্গেল ডাবল আর ট্রিপল পার্সনের জন্যে হয়ে থাকে। সিঙ্গেলগুলো ৪০০ রুপি, ডাবলগুলো ৭০০ আর ট্রিপলগুলো ১০০০ রুপি। থাকার যাবতীয় জিনিসপত্র তাবুতেই থাকবে।

আমরা ঠিক উমগট নদীর( অনেকেই নদীর নামকে গ্রামের নামের সাথে মিলিয়ে ফেলেন; মনে রাখবেন, গ্রামের নাম স্নোনেংপেডাং আর নদীর নাম উমগট) পাশেই ক্যাম্প পেয়েছিলাম। জিনিসপত্র তাবুতে রেখে নদীর আশপাশটা দেখতে বেরোবেন। প্রচুর পাথর নদীর পাড়ে। তাই নদীর পাড়ে ঘোরার সময় সাবধানে হাটবেন। এরপর পাশেই ডিনার সেরে নিয়ে নদীর পাশে সেট করা বাশের বেঞ্চগুলোতে বসে জুড়ে দিতে পারেন আড্ডা গান আর তারা দেখা।

শনিবার

সকালে উঠেই ব্যাগপত্র গুছিয়ে নিন। ভোরে উঠতে পারলে হেটে হেটে ঝুলন্ত ব্রিজ সহ আশপাশটা আবার ঘুরে নিন। ঘুরে এসে নদীর পাশে গরম গরম খিচুড়ী দিয়ে মুরগীর মাংস খেতে ভুলবেন না। চেস্টারকে আগে থেকে বলে রাখবেন বোটিং এর জন্য। স্বচ্ছ পানিতে ৪৫ মিনিট বোটিং এর জন্য ৫০০ রুপি নিবে, তিনজন বা চারজন বসতে পারবেন। সবার লাইফ জ্যাকেট নেওয়া বাধ্যতামূলক। ৫০ রুপি করে পড়বে প্রতিটা। নৌকাগুলো নদীর আপস্ট্রিমে একটা ফলস পর্যন্ত নিয়ে যাবে। যাবার সময় নদীর তলদেশে পাথরের ভাজে ভাজে মাছের ছোটাছুটি দেখতে ভুলবেন না।

সাঁতার দিতে চাইলে চেস্টারকে আগেই বলে রাখবেন। সে লাইফ জ্যাকেট রেডী করা রাখবে। সাধারনত ক্যাম্পের পাশেই যেখানে কম গভীর সেখানে সাঁতরাতে দিবে। অবশ্যই মনে রাখবেন নদীর বেশিরভাগ স্থানেই স্বচ্ছ পানি বলে কম গভীর মনে হবে। কিন্তু পানিতে যথেষ্ট গভীর থাকে বলে সাবধানে সাতার দিবেন। এছাড়াও কায়াকিং, জাম্পিং, ক্যাবল কার এক্টিভিটিজ করতে পারেন চাইলে। যেহেতু শর্ট টাইম আর প্যাকেট ট্যুর তাই এগুলো না করেই ১২ টার মধ্যেই বেরিয়ে পড়তে হবে। এরপর ক্যাব ঠিক করবেন আবার। ক্রাংসুরি ফলস ঘুরিয়ে তামাবিল বর্ডারে নামিয়ে দেয়ার জন্য। ক্যাবে ১৫০০-১৮০০ রুপি পড়বে । প্রায় এক ঘন্টা লাগবে স্নোনেংপেডাং গ্রাম থেকে ক্রাংসুরি যেতে।

ক্রাংসুরি যাবার পথের রাস্তাটা আমার কাছে অপরুপ সুন্দর মনে হয়েছে। কিছুক্ষণ পরপর ল্যান্ডস্কেপের পরিবর্তন আপনাকে মোহময় করে তুলবে। দুরে দুরে থাকা গ্রামগুলো দেখে মাঝে মাঝে মনে হহতে পারে আপনি হলিউডে চলে এসেছেন!

ক্রাংসুরির উপরে পৌছে ক্যাবের পার্কিং চার্জ ৩০ রুপি আমাদেরকেই বহন করতে হয়েছে। গোসল করার মত সব জিনিসপত্র নিয়ে এবার ফলসের জন্য নিচে নামা শুরু করুন। প্রায় ১০- ১৫ মিনিট নিচে নামতে হবে। হঠাৎই দেখবেন ভিউপয়েন্ট থেকে ক্রাংসুরির নীলাভ পানি। এটাই ক্রাংসুরি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। খনিজ সমৃদ্ধ ভূমি হওয়ার কারনে এমনটা দেখা যায়।
ক্রাংসুরি প্রবেশে ৪০ রুপি টিকেট কাটতে হবে। সাঁতরাতে চাইলে ৩০ রুপি দিয়ে লাইফ জ্যাকেট। ভারতে এই জিনিসটা খুব চোখে পড়ার মত। ট্যুরিস্ট স্পটগুলোতে সেফটিকে তারা প্রথম গুরুত্ব দিয়ে দেখে। আমাদের জাফলংে এমনভাবে বাধ্যতামূলক করা হলে প্রতিবছর পানিতে ডুবে যে মৃত্যুগুলো হয় সেগুলো কমানো সম্ভব হতো। যাহোক, দুপুর বেলায় ক্রাংসুরির নীলাভ পানির ছটায় রংধনু দেখতে পাবেন। সাঁতরাতে চাইলেও নেমে পড়ুন, তবে বেশিক্ষণ থাকবেন না। ক্রাংসুরির পানি প্রচন্ড ঠান্ডা থাকে। বিকাল আড়াইটার আগে উঠে পড়তে হবেই। উঠে এসে খাওয়া দাওয়া সেরে নিবেন পার্কিং এর পাশে। মেঘালয়ের হোটেলগুলোতে খাবার রান্নার রুচি অনেকটাই আমাদের মত। খাবার পেট পুুুরে খেতে পারবেন।
লাঞ্চ শেষ করে এবার রওনা দিবেন তামাবিলের পথে । দেড় থেকে দুঘন্টা লাগবে তামাবিল পৌছতে। সাথে রুপি থাকলে অবশ্য একটু আগে রওনা দিয়ে ডাউকি বাজারে এসে টাকায় ভাঙ্গিয়ে নিবেন।
ভারতীয় ইমিগ্রেশন ভারতীয় ৫:৩০ টায় বন্ধ হয়ে যায়।
দুপাড়ের কাস্টমস – ইমিগ্রেশন শেষ করে বর্ডার পার করে যেখানে বাস থেকে নেমেছিলেন সেখানে অপেক্ষা করলেই সিলেটের বাস পাবেন। সিলেট পৌছে রাতের বাসে ঢাকায় ব্যাক করবেন।

আমাদের অ্যালবাম টি দেখতে
https://www.facebook.com/media/set/…

চারজনের খরচ :

শুক্রবার –
ঢাকা – সিলেট ৩২০*৪= ১২৮০ টাকা
সিলেট – তামাবিল -৬৫*৪=২৬০ টাকা
ব্রেকফাস্ট -৪০*৪= ১৬০ টাকা

বর্ডার – ডাউকি -১০০ রুপি( হেটেও যেতে পারেন, ১০-১৫ মিনিট লাগবে)
ক্যাব বুক -১৮০০ রুপি
এন্ট্রি টিকেট -২০*৪=৮০ রুপি
খাওয়া -দুপুর রাত – ২৫০*৪=১০০০ রুপি
ক্যাম্পিং -৭০০*২=১৪০০ রুপি

শনিবার –
বোট -৫০০+২০০(লাইফ জ্যাকেট) রুপি
ক্যাব -১৫০০ রুপি
এন্ট্রি + জ্যাকেট – (৪০+৩০)*৪=২৮০ রুপি
পার্কিং -৩০ রুপি
খাওয়া – ২৫০*৪= ১০০০ রুপি( সকাল দুপুর)

তামাবিল -সিলেট -৬৫*৪=২৬০ টাকা
সিলেট – ঢাকা -৪৮০*৪=১৯২০ টাকা
খাওয়া -১০০*৪=৪০০ টাকা

মোট – ৪২৭০ টাকা এবং ৭৮৯০ রুপি
(১০০ টাকায় ৮২ রুপি করে ধরলে ৯৬২৫ টাকা)
তাহলে ঢাকা টু ঢাকা একজনের সর্বমোট খরচ ৩৪৭৩ টাকা

*দুদিন সবসময় একসাথেই থাকা হবে বলে ভারতীয় সিম না কিনলেও চলবে
* পার্সোনাল হাত খরচ উক্ত খরচের সাথে নিয়ে যেতে হবে
* ক্যাবের জন্য বার্গেইন করলে কিছু কমাতে পারবেন খরচ
* কোনো জায়গায় অতিরিক্ত সাহস দেখাতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটাবেন না
* মেঘালয়ের মানুষজনের মানসিকতা অনেক ভালো মনে হয়েছে আমাদের। এমন কোনো কাজ করবেন না যাতে তারা বাংলাদেশ সম্পর্কে খারাপ মনোভাব অর্জন করে
* কোথাও প্রকৃতির ক্ষতিমূলক কোনো কাজ করবেন না

ট্যুরে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য আমরা
Nahidul Alam Neel ভাই তন্ময় ব্যানার্জী দাদা Proloy Khan ভাই এবং Pranto Dip এর প্রতি কৃতজ্ঞ।

89118598_10221415859048156_8895424676482777088_o

Kedarkantha by Billah Mamun

Kedarkantha by Billah Mamun

Kedarkantha হলো ভারতের উত্তরাখান্ডে অবস্হিত ১২৫০০ ফুট উচু সাদা পাহাড় 

আমরা ১৩জনের স্বপ্নযাত্রার দল গিয়েছিলাম সেটা ট্রেক করতে গিয়েছিলাম বাংলাদেশ থেকে