bashonti nibas

৭১ টাকায় নারীদের জন্য আবাসিক হোটেল – বাসন্তী নিবাস

বাসন্তী নিবাস

৭১ টাকায় নারীদের জন্য আবাসিক হোটেল

ঢাকা শহরে কিংবা অন্য যে কোনও শহর এলাকায় একজন নারী শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে কিংবা চাকরির সন্ধানে বা কাজে এলে তাকে আবাসন সমস্যায় পড়তে হয়। শহরে পরিচিত বা আত্মীয়-স্বজন থাকলে খুব একটা সমস্যা হয় না বটে তবে সবার এমন সুবিধা থাকে না। যার পরিচিত কেউ নেই বা যিনি স্বেচ্ছায় আত্মীয়-স্বজনদের বাসায় উঠতে চান না তেমন নারীদের অনেক শঙ্কা মাথায় নিয়ে উঠতে হয় আবাসিক হোটেলে। আর বসবাসের সময়টা একটু বেশি হলে নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে অনেকেই আবাসিক হোটেলে না গিয়ে হোস্টেল বেছে নেন। সেখানেও গুনতে হয় অতিরিক্ত অর্থ। কারণ হোস্টেলের ভাড়া মাসিক চুক্তিতে দিতে হয়। নারীদের আবাসনের এমন সংকট দূর করতে এবং নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ‘বাসন্তী নিবাস’ তৈরি করছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন।

চাকরিপ্রার্থী নারী ২৯৯ ও অন্য পেশার নারীরা থাকতে পারবেন ৮৮০ টাকা করে। ৮ মার্চ নারী দিবসে এই বাসন্তী নিবাস উদ্বোধন হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা কিশোর কুমার দাশ। বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, তিনতলার পুরো ফ্লোরেই করা হচ্ছে নারীদের জন্য এই নিবাস। একটা রুমে ১৮টি বাংক বেড, প্রতি সারিতে চারটি করে বাংক বেড বসানো হয়েছে, যেখানে ওপরতালায় একজন ও নিচতলায় একসঙ্গে থাকতে পারবেন ৩৬ জন নারী।

জানতে চাইলে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবক দেশ রূপান্তরকে বলেন,  আমাদের এই হোটেলে শিক্ষার্থী-চাকরিপ্রার্থী কিংবা সাধারণ নারীরা সীমিত সময়ের জন্য থাকার সুযোগ পাবেন এখানে। অভিভাবকরা যাতে তার সন্তানকে একা পাঠিয়ে নিশ্চিন্তে থাকেন, সেটি বিবেচনা করে তৈরি করা হচ্ছে বাসন্তী নিবাস। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি রাত যাপনের খরচ ধরা হয়েছে ৭১ টাকা আর চাকরিপ্রার্থীদের জন্য ২৯৯ টাকা। এর বাইরে সাধারণ নারীরা থাকতে পারবেন। তবে তাদের খরচ করতে হবে ৮৮০ টাকা। এই ভাড়ার সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত থাকবে শুধু নাশতা। নাশতা হিসেবে বিস্কুট, একটি কলা এবং এক কাপ কফি পাওয়া যাবে। বাদ বাকি খাবার বিদ্যানন্দ থেকে কেনা যাবে। বাসন্তী নিবাসে থাকতে হলে একজন শিক্ষার্থীকে কিংবা একজন চাকরিপ্রার্থী নারীকে তার প্রমাণস্বরূপ কাগজপত্র দেখাতে হবে।

88177432_10216226679235409_3373396708758126592_n-1

২৬ই মার্চের ছুটিতে লাক্সারী কর্ণফুলী জাহাজে সেন্টমার্টিন ভ্রমণ

সেন্টমার্টিন দ্বীপ বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত একটি প্রবাল দ্বীপ। এটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ হতে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং মায়ানমার-এর উপকূল হতে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে নাফ নদীর মোহনায় অবস্থিত। প্রচুর নারিকেল পাওয়া যায় বলে স্থানীয়ভাবে একে নারিকেল জিঞ্জিরাও বলা হয়ে থাকে।

স্বাধীনতা দিবসের ছুটিতে সেন্টমার্টিন এবং ছেড়াদিপ ভ্রমণ
-ভ্রমণ তারিখ — ২৫ মার্চ রাত হইতে ২৯ মার্চ সকাল
-ভ্রমণ সময় — ৪ রাত ৩ দিন (২ রাত হোটেলে রাত্রী যাপন)
-ভ্রমণ খরচ — ৮,৪৯৯ টাকা
-যোগাযোগ — ০১৮৭৩২৪৯৪৭০-০১৯১১২৪৯৪৭০

এটি Banglar Ovijatri – বাংলার অভিযাত্রীগ্রুপের ১ টি ইভেন্ট আমাদের পরবর্তী সকল ইভেন্ট সম্পর্কে জানতে ও ভ্রমণ সম্পর্কিত তথ্যের জন্যে সবাই এড হয়ে থাকতে পারেন ধন্যবাদ 🙂

আনুমানিক প্লান….
২৫ মার্চ – ঢাকা থেকে রাতে কক্সবাজার যাত্রা শুরু।

২৬ মার্চ – সকালে আমরা পৌছে যাবো কক্সবাজার নেমে আমরা নাস্তা করে কর্ণফুলী জাহাজে করে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্য রাউনা করবো। সেন্টমার্টিন নেমে চলে যাবো আমাদের পছন্দের রিসোর্ট। দেন সমুদ্র বিচে গিয়ে ঝাপাঝাপি করে ফ্রেশ হয়ে লাঞ্চ করে বিশ্রাম নিয়ে যার যার মত করে ঘুরে দেখবো সন্ধ্যায় সূর্য ডুবা। রাতে ডিনার করে ঘুমাইয়া পরবো।

২৭ মার্চ – সকালে ঘুম থেকে উঠে নাস্তা করে আমরা চলে যাবো ট্রলার দিয়ে ছেড়াদীপ। সেখানে ঝাপাঝাপি করে চলে আসবো আমাদের কোটেজ। দেন ফ্রেশ হয়ে লাঞ্চ করে বিকালে হেটে বেড়াবো আশে পাসে। তারপর কোটেজ এসে বিশ্রাম নিয়ে সন্ধ্যায় শুরু হবে বার-বি-কিউ গান বাজনা আড্ডা নাচানাচি করে ঘুমাইয়া পরবো।

২৮ মার্চ – সকালে উঠে নাস্তা করে নিজের মত করে ঘুরবো দেন দুপুরে লাঞ্চ করে ২ টার মধ্য আমরা ঘাটে চলে যাব এবং কর্ণফুলী জাহাজে করে কক্সবাজারের উদ্দেশ্য রাউনা দিবো কক্সবাজার পৌছে গাড়িতে উঠে ঢাকার উদ্দেশ্য বাসে রাউনা দিবো।

২৯ মার্চ — সকাল ৭ টায় ইনশাল্লাহ ঢাকা।

ভ্রমনের খরচ — ৮,৪৯৯ টাকা জনপ্রতি।
নন এসি বাস এবং এসি জাহাজ।
১ রুমে ৪ জন রাত্রী যাপন।

ভ্রমনের খরচ — ৮,৯৯৯ টাকা জনপ্রতি।
নন এসি বাস এবং এসি জাহাজ।
১ রুমে ৩ জন রাত্রী যাপন।

ভ্রমনের খরচ — ৯,৪৯৯ টাকা জনপ্রতি।
নন এসি বাস এবং এসি জাহাজ।
১ রুমে ২ জন রাত্রী যাপন।

যা যা পাচ্ছেনঃ
**(১) ঢাকা- কক্সবাজার- ঢাকা নন এসি বাসের টিকিট।

**(২) কক্সবাজার – সেন্টমারটিন – কক্সবাজার এসি জাহাজ টিকিট।

**(৩) ২৬ মার্চ — সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার,রাতের খাবার।

**(৪) ২৭ মার্চ — সকালের নাস্তা,দুপুরের খাবার,
রাতের বার-বি-কিউ ডিনার।

**(৫) ২৮ মার্চ — সকালের নাস্তা,দুপুরের খাবার।

**(৬) সেন্টমার্টিনে রিসোর্টে ২ রাত রাত্রী যাপন।

**(৭) সেন্টমার্টিন থেকে ট্রলার দিয়ে ছেড়াদীপ ভ্রমণ।

**(৮) বাংলার অভিযাত্রী গ্রুপ টি শার্ট ১ টি

ভ্রমন স্থানঃ
১.সেন্টমার্টিন
২.ছেড়াদিপ

যা যা খরচে থাকছে না ………
**কনো ব্যাক্তিগত খরচ
** কনো রিক্সা / ভ্যান খরচ
** যাত্রা পথের খাবার

কনফার্ম করার জন্য ৪০৮০ টাকা বিকাশ করতে হবে।
বিকাশ করে অবশ্যই ফোন করে জানাতে হবে বা ইভেন্ট পোষ্ট এ জানাতে হবে। বুকিং টাকা অফেরত যোগ্য।
বিকাশ নাম্বার :
Sahyed Rubel : ০১৯১১২৪৯৪৭০
০১৮৭৩২৪৯৪৭০

কেউ যদি হাতে হাতে টাকা দিতে চান তা হলে এডমিনের সাথে দেখা করে ৪০০০ টাকা দিয়ে কনফার্ম করতে পারবেন।

অফিস ঠিকানা — ৮৯/১ সুপার মার্কেট, কাকরাইল,
২য় তলা , রুম নাম্বার (১৩৪) ঢাকা – ১০০০

আমাদের একাউন্ট নাম্বার
Eastern Bank L.t.d
A/c name —
Banglar ovijatri travel & tourism
A/c number —
1101070124220
A/c Branch – Chowk mogoltuli

****বিশেষভাবে লক্ষনীয়****
১- একটি ভ্রমন পিপাসু মন থাকতে হবে।
২- ভ্রমনকালীন যে কোন সমস্যা নিজেরা আলোচনা করে সমাধান করতে হবে।
৩- ভ্রমন সুন্দমত পরিচালনা করার জন্য সবাই আমাদেরকে সর্বাত্মক সহায়তা করবেন আশা রাখি।
৪- আমরা শালীনতার মধ্য থেকে সর্বোচ্চ আনন্দ উপভোগ করব।
৫-অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে যে কোন সময় সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে, যেটা আমরা সকলে মিলেই ঠিক করব।
৬- বাংলার অভিযাত্রী ইকো টুরিজম এ বিশ্বাসী, টুরে যেয়ে প্রকৃতির কোন রকম ক্ষতি আমরা করবনা। কোন অপচনশীল বর্জ্য যেমন প্লাস্টিক প্যাকেট, বোতল যেখানে সেখানে না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলব ও ক্ষেত্রবিশেষে সাথে করে নিয়ে আসব। স্থানীয় জনবসতির সাথে বন্ধুত্বপূণ আচরন করব এবং যথোপযুক্ত সস্মান প্রদর্শন করব।
৭- কোন প্রকার মাদক দ্রব্য বহন বা সেবন করা যাবে না।

আমরা সবাই প্রকৃতি মায়ের সন্তান; এর হেফাজতের দায়িত্ব আমাদের সবার।

ভ্রমনের জন্য যে কেউ আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।
ছেলে/মেয়ে সকলেই যেতে পারবেন।

যোগাযোগ :
Sahyed Rubel : 01911249470
: 01873249470

বাংলার অভিযাত্রী গ্রুপের সাথে থাকুন
https://www.facebook.com/groups/759507837518005/

বাংলার অভিযাত্রী পেজ লিঙ্কঃ
https://www.facebook.com/Banglar-Ovijatri-বাংলার-অভিযাত্রী-1679428202310010/

ট্রানজিট-বিসা

ভুটান বা নেপাল বাই রোডে যাবার জন্য ট্রানজিট ভিসা কিভাবে করবেন বিস্তারিত

লিখেছেন স্বপ্নযাত্রা থেকে- Billah Mamun

ভারতীয় ট্রানজিট ভিসা হলো ভারতের উপর দিয়ে বা ভুখন্ড ইউজ করে অন্য কোন দেশে ভ্রমণ করতে যাওয়ার জন্য যে অনুমতি তাই হলো ট্রানজিট ভিসা  বাংলাদেশীরা সাধারণত ভুটান বা নেপাল ঘুরতে যাবার জন্য ভারতের ট্রানজিট ভিসা নিতে হয় এতে খুব কম খরচে ভুটান ঘুরে আসা যায়  ভারতের নরমাল ভিসার মতোই আবেদন করবেন ট্রানজিট ভিসার জন্য আবেদনের ৭-১০ দিনের মাথায় আপনাকে ১৫-৩০ দিন মেয়াদী ট্রানজিট ভিসা দেওয়া হবে ।। তবে নরমাল ট্যুরিস্ট ভিসাতে যত কাগজপত্র লাগে তার সাথে এক্সটা কিছু কাগজপত্র লাগে ট্রানজিট ভিসার জন্য ।। আসুন জানি ট্রানজিট ভিসার জন্য কি কি কাগজপত্র লাগে

  • অনলাইনে ভিসা ফর্ম পূরণ করে  তার প্রিন্ট কপি , । ভিসা ফর্ম পুরণের সময় ভিসা টাইপ ট্রানজিট দিবেন ও পোর্ট দিবেন ভুটানের জন্য বাই রোড চ্যাংরাবান্ধা /জঁয়গাও এবং নেপালের জন্য দিবেন চ্যাংরাবান্ধা/রানীগন্জ
  • সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডযুক্ত দুই ইঞ্চি বাই দুই ইঞ্চি ছবি, ফরমের সাথে আঠা দিয়ে লাগিয়ে দিতে হবে
  • বাসে আসা যাওয়ার কনফার্ম টিকেট জমা দিতে হবে ট্রানজিট ভিসার ক্ষেত্রে সেক্ষেত্রে শ্যামলী বা এসআর পরিবহন বা মানিক বা পিংকি মানে যে পরিবহন বুড়িমারী পর্যন্ত যায় এমন  যেকোন পরিবহনের বুড়িমারী বর্ডার /শিলিগুড়ি পর্যন্ত আসা যাওয়ার টিকেট । যেহেতু কনফার্ম টিকেট কাটবেন বাসের সেহেতু ভ্রমণ তারিখ ও এম্বেসীতে ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার তারিখের সাথে দশ বারোদিন গ্যাপ রাখবেন কারণ জমা দেবার সাত আটদিন পর ভিসা দেওয়া হয় তাই বাসের টিকেটের তারিখ এর পরে হতে হবে । বুঝা গেছেতো ?
  • বাসের টিকেটের ফটোকপিও জমা দিতে হবে অরজিনাল কপির সাথে তবে এক্ষেত্রে কাউন্টারগুলোতে বললে টিকেট অন্য ডেটে কেটে জাস্ট জমা দেবার জন্য ডেমো টিকেট হিসেবে ফাঁকা টিকেট এনে নিজের পছন্দমত ডেট বসিয়ে এম্বেসীতে জমা দিতে পারেন
  • বর্তমানে ভুটানে হোটেল রিজার্ভেশনের কাগজও দেখতে চায় ভারতীয় এম্বেসী ,তাই ভুটানে যে হোটেল বুকিং দিয়েছেন এর কাগজও জমা দিতে হবে এক্ষেত্রে অনলাইনে ভুটানের কোন হোটেলে বুকিং দেখিয়ে জমা দিতে পারেন বা এটাও কম্পিউটারেও বানিয়ে নিতে পারে
  • পাসপোর্ট ও পাসপোর্টের ফটোকপি (পাসপোর্টের মেয়াদ সর্বনিম্ন ছয়মাস থাকতে হবে) আগে ইন্ডিয়ান ভিসা থাকলে তারও ফটোকপি লাগবে । পুরাতন পাসপোর্ট থাকলে সেটা জমা দিতে হবে হারিয়ে গেলে জিডি কপি জমা দিতে হবে
  • ন্যাশনাল আইডি বা জন্মসনদ এর ফটোকপি
  • বর্তমান ঠিকানার সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ বা গ্যাস বিল
  • চাকরিজীবিদের ক্ষেত্রে এনওসি (নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) ,ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স এবং ছাত্রছাত্রীদের আইডি কার্ডের ফটোকপি ।
  • ডলার এন্ড্রোসমেন্ট এর কপি অথবা ব্যাংক স্টেটমেন্ট এর কপি ।

এসব কাগজপত্রগুলো নিয়ে সরাসরি দেশের যেকোন ভারতীয় ভিসা সেন্টারে জমা দিলেই ভিসা দিয়ে দিবে ।।

কিছু সর্তকতা : ভুটানের বর্ডার ওপেন বলে অনেকে ভারতীয় ট্রানজিট ভিসা না নিয়ে ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়েই ভুটান ঘুরে্ আসতে চায় বা ঘুরে আসে ভুলেও এই কাজ করবেন না ,পরবর্তীতে ভারতীয় ভিসা নিতে গেলে  আপনি ট্রানজিট ভিসা ছাড়া বাই রোড ভুটান ঘুরে আসছেন এটা ভারতীয় ভিসা সেন্টার যখন বুঝতে পারবেন তখন আপনাকে ব্ল্যাক লিস্টেড করে দিবে এজন্য এই ভুল করবেন না 

87611263_1443848449154537_7993697929070116864_o

অক্সিজেনের দেশ ভুটান ভ্রমণ By Cholo Bohudur

বজ্র ড্রাগনের দেশ,অক্সিজেনের দেশ অথবা সুখী মানুষের দেশ। যে নামেই ডাকুন না কেনো ভুটানের কোনো বিশেষণ দিয়ে শেষ করা যাবেনা। স্বপ্নের এই দেশ ভ্রমণে জুন/জুলাই থেকে আরোপিত হচ্ছে ট্যাক্স। যা প্রতিদিন প্রায় ১৫০০ টাকা। এর আগেই স্বপ্নের এই দেশে বাই রোড ট্যুরে যাচ্ছি আমরা ২৫ মার্চ। ঢাকায় ফিরবো ৩১ মার্চ সকালে। ফ্যামিলি ও ফিমেল ফ্রেন্ডলি এই ট্যুরে চোখ বুজে যেতে পারেন। আমরা ম্যাক্সিমাম নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করবো।
ভুটান ভ্রমণ করতে প্রয়োজন “ইন্ডিয়ান ট্রানজিট ভিসা”। ভিসা প্রসেসিং এর জন্য সকল প্রকার সাহায্য আমরা করবো আপনাকে।

ইভেন্ট ফিঃ
• সিঙ্গেল – ১৪,৫০০ টাকা (প্রতিজন)
• কাপল – ৩০,৯৯৯ টাকা (দুই জন)

বুকিং শেষ সময়ঃ ১০ মার্চ ২০২০ (অফিসে এসে বিস্তারিত জেনে বুকিং দিন)

🏠 ঢাকা অফিসঃ Cholo Bohudur Travel & Adventure
ফ্ল্যাটঃ ১১ এল (১০ তলা) ক- ৯০, কাজী বাড়ী, কুড়ীল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯।

যোগাযোগঃ
০১৯১৫৭৩০৩৩১
০১৮৭৬৬০২৫৯৯
০১৮৬৭২৬৭৩৭১
০১৭৮৮৮৬৬৩৫৯,

পরিবহন ব্যাবস্থাঃ
ঢাকা – চেংড়াবান্ধা – ঢাকাঃ এসি বিসনেস ক্লাস বাস।
চেংড়াবান্ধা- ফুয়েন্টশোলিংঃ জিপ।
ভুটানে সাইট সিয়িংঃ হাইয়েস।

আবাসনঃ
৩ স্টার মানের হোটেল (শেয়ার রুম)
ফুয়েন্টশোলিংঃ Centennial Hotel2008/Hotel Raven/Similar
থিম্পুঃ White Tara/Hotel Aama suits/Similar
পুনাখাঃ Damchen Resort/Similar
পারোঃ Jiya Resort/Hotel Tsherim Resort/Similar

যা যা দেখবোঃ ফুয়েন্টশোলিং>থিম্পু>পুনাখা>পারো।
☑ ফুয়েন্টশোলিংঃ • ভুটান গেট • ঝাংটো পেলরি লানখং (বৌদ্ধ মন্দির) • কুমির প্রজনন কেন্দ্র • কারবান্দি বৌদ্ধ মন্দির • ফুয়েন্টশোলিং শহর ঘুরাঘুরি।
☑ পারোঃ • দ্রুকগিল জং মিউজিয়াম • কাইছু লাখাং বুদ্ধিস্ট টেম্পেল • টাইগার নেস্ট • পারো ইন্টারন্যশনাল এয়ারপোর্ট ভিউ পয়েন্ট • লোকাল মার্কেট।
☑ থিম্পুঃ • বুদ্ধা পয়েন্ট (বৌদ্ধ মন্দির) • মেমোরিয়াল চর্টেন (বৌদ্ধ মন্দির) • রয়েল ভুটান টেক্সটাইল মিউজিয়াম • হ্যান্ডক্রাফট শপস • ভুটান পোস্টাল মিউজিয়াম • আর্ট এন্ড ক্রাফট স্কুল থিম্পু • ন্যাশনাল বাইব্রেরী অফ ভুটান • হোমমেড পেপার ফ্যাক্টরি।
☑ পুনাখাঃ • পুনাখা জং • দোচালা পাস • পুনাখা সাস্পেনশন ব্রিজ ইত্যাদি।

যা যা পাচ্ছেন আমাদের প্যাকেজেঃ
** ঢাকা-চেংড়াবান্ধা-ঢাকা এসি বিজনেস ক্লাস বাস।
** ৩ স্টার মানের মানসম্মত হোটেলে রাত্রিযাপন।
** প্রতিদিন সকালে ব্রেকফাস্ট।
** সকল ট্রান্সপোর্ট খরচ।
** গাইড সুবিধা।
** ভিসা প্রোসেসিং সুবিধা।

যা যা পাচ্ছেন না আমাদের প্যাকেজেঃ
** ইন্ডিয়ান ট্রানজিট ভিসা ফি ৮৫০ টাকা।
** ট্রাভেল ট্যাক্স ৫০০ টাকা।
** বর্ড়ার টিপস ২০০-৩০০ টাকা।
** দুপুর এবং রাতের খাবার।
** যাত্রা বিরিতিতে খাবার।
** এন্ট্রি ফি/রাইড ফি।

খাবারঃ প্রতিদিন ব্রেকফাস্ট থাকছে প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত তবে লাঞ্চ, ডিনার এর জন্য প্রতি বেলা এক্সট্রা ১৫০-২৫০ রুপি রাখলেই হবে।

ভিসাঃ
একটা ডেট ফিক্সড করে সবার ভিসা এক সাথে গ্রুপ ভিসা করবো আমরা। ভিসার জন্য যা যা লাগবে পরবর্তিতে জানিয়ে দেয়া হবে।

এছাড়া ফ্যামিলি ট্যুর,স্কুল/কলেজ/ইউনিভার্সিটি ট্যুর, অফিসিয়াল কর্পোরেট ট্যুরের জন্য যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে৷

আমাদের ফেসবুক গ্রুপের লিংকঃ https://www.facebook.com/groups/cholobohudurtravel/
আমাদের ফেসবুক পেইজের লিংকঃ https://www.facebook.com/CholoBohudurTravel

88210816_1589873687836994_3006240969898065920_n

নিঝুমের ডায়েরী by NaFiz AhMed

#নিঝুমের_ডয়েরী by NaFiz AhMed
😍😍😍😍

প্রায় ১বছর অাগে নিঝুম দ্বীপ যাওয়ার কথা থাকলেও একেক সময় এক এক সমস্যায় অার যাওয়া হয়ে উঠেনি।শেষমেষ ২০২০ এর ফেব্রুয়ারিতে অামার নিঝুম দ্বীপ ট্রিপ শেষ হলো।

নিঝুম দ্বীপ ট্রিপ অামরা ৭জন ছিলাম। অামরা ২০ই ফেব্রুয়ারী বিকালে যাত্রা শুরু করলাম। ৩ রাত ২দিনের ট্রিপ ছিলো।
লঞ্চ করে হাতিয়ার তমুরুদ্দিন ঘাট পর্যন্ত তারপর ট্রলার অথবা বাইক যোগে নিঝুম দ্বীপ।
প্রতিদিন ঢাকার সদরঘাট থেকে হাতিয়ার তমুরুদ্দিন ঘাটের উদ্দেশ্য ২টি লঞ্চ ছেড়ে যায়।
বিকাল ৫ঃ৩০টায় এম.বি ফারহান ৩/৪ এবং সন্ধ্যা ৬টায় এম.বি তাসরিফ ১/২ ছেড়ে যায়।
বলে রাখা ভালো লঞ্চ ঠিক সময়ে ছেড়ে যায় সুতরাং সময়ের দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখা লাগবে।

অামাদের অাগে থেকে এম.বি ফারহান ৪ লঞ্চে কেবিন বুক ছিলো কিন্তু টিমের ২জন দেরি করায় ফারহান মিস করতে হয় এবং পরবর্তীতে শেষ মূহুর্তে গিয়ে তাসরিফ ১ লঞ্চ ধরি।

অামাদের সাথে ২জন মেয়ে থাকায় অামরা একটা সিঙ্গেল কেবিন ভাড়া নেই এবং বাকিরা ডেকে এখন যেহেতু অামাদের লঞ্চ মিস হয়েছে তাই তাসরিফ লঞ্চ সবাই ডেকেই যাওয়া লাগছে তাও অাবার লঞ্চের ছাদে।
দীর্ঘ ১৪ঘন্টা লঞ্চ জার্নি শেষে অামরা সকাল ৯টায় তমুরুদ্দিন ঘাটে পৌছায়।
ঘাটের পাশে বাজারে সকালের নাস্তা শেষে বাইক ও সিএনজি তে করে মোক্তারিয়া ঘাটের উদ্দেশ্য রওনা দেই।প্রায় ২ঘন্টায় রাস্তার শারীরিক ব্যায়ামের পর মোক্তারিয়া ঘাটে পৌছায়।
মোক্তারিয়া ঘাট থেকে স্পিডবোট করে নদী পার হয়ে অাবার বাইকে উঠি।
এইবার ২০মিনিট রকেট গতিতে বাইকে চড়ে নিঝুম দ্বীপের বাজার নামার বাজারে পৌছায়।
অাগে থেকে হোটলে বুর্কিং দেয়া ছিলো,হোটেল সী প্যালেস।হোটেলে ফ্রেশ হয়ে জুম্মার নামাজ শেষে দুপুরের খাবারের জন্য হোটেল খুঁজতে গেলাম।২/৩টা হোটেল ঘোরাঘুরি শেষে একটায় বসলাম সবাই।
দীর্ঘ ভ্রমনে ক্লান্ত শরীর নিয়ে অামরা দুপুরে হাঁসের মাংস+চিংড়ি +ইলিশের ডিম দিয়ে ভরপেট খেলাম।
খাওয়া-দাওয়া শেষে এইবার অামরা ছোট ট্রলারে দিয়ে ঘুরতে বের হলাম। চৌধুরী খাল+কমলার চর+কবিরের চর ঘোরার কথা থাকলেও সন্ধ্যা নেমে যাওয়ায় অামরা শুধু চৌধুরী খাল ও কমলার চরে যেতে পেরেছি।

কমলার চর খুব সুন্দর একটি যায়গা চরের পাশে বন অাছে বনের অনেক গভীরে গেলে হরিণ দেখা যায়। অামাদের সৌভাগ্য হয়েছিল হরিণ দেখার।যদিও এরজন্য অনেক ধৈর্য্য ও কস্ট করতে হয়েছে।
চৌধুরী খাল দিয়ে যওয়ার সময় অাশপাশের পরিবেশ অাপনাকে সুন্দরবন ফিল দিবে।

সন্ধ্যার পর অামরা হোটেলে ফিরে অাসি, ফ্রেশ হয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে রাতের খাবার খাই।
রাতের খাবার শেষে বাজারের পাশে নামার বাজার সী-বীচে যাই, কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি শেষে হোটেলে ফিরে অাসি তার কিছু সময় পর ক্লান্ত শরীর বিছানার ছোয়া পেয়ে ঘুমের দেশে হারিয়ে গেলাম।
পরদিন সকাল ৭টা উঠে ফ্রেশ হয়ে শুকনা কিছু খাবার নিয়ে উঠে গেলাম ট্রলারে উদ্দেশ্য হাতিয়ার তমুরুদ্দিন ঘাট।
যেহেতু নিঝুম দ্বীপ থেকে একটিমাত্র মাছের ট্রলার সকাল ৯টায় নোয়াখালীর উদ্দেশ্য ছেড়ে যায় তাই অামরা ৮টার মধ্যে ট্রলারে উঠে যায়গা নিয়ে নেই।
প্রায় ৩ঘন্টা রোমাঞ্চকর ট্রলার জার্নি শেষে অামরা তমুরুদ্দিতে পৌছাই।ট্রলার থেকে নেমে দুপুরের খাবার শেষে ঢাকা ফেরার এম.ভি তাসরিফ ২ লঞ্চে উঠে পড়ি।
যেহেতু তমুরুদ্দিন হচ্ছে প্রথম ঘাট তাই অাপনি ডেকে অাপনার ইচ্ছানুযায়ী যায়গা নিতে পারবেন।অামরা অাসার সময়ও ডেকেই অাসি।
পরদিন সকাল ৭টায় অামরা ঢাকায় পৌছাই।

তমুরুদ্দিন থেকে ঢাকা সদরঘাটের উদ্দেশ্যে এম.ভি ফারহান দুপুর ১২ঃ৩০টায় এবং এম.ভি তাসরিফ দুপুর ১টায় ছেড়ে যায়।
পরদিন ভোরে ঢাকায় এসে পৌছায়।
বলে রাখা ভালো এক্ষেত্রে ফারহান লঞ্চ তাসরিফ থেকে প্রায় ১-২ঘন্টা অাগে চলে অাসে

***খরচ সমূহঃ

#যাতায়াত

ঢাকা থেকে তমুরুদ্দিন ভাড়া,
লঞ্চের ডেক ভাড়া ৩০০টাকা।
সিঙ্গেল কেবিন ভাড়া ১০০০টাকা।
ডাবল কেবিন ভাড়া ১৮০০টাকা।
এছাড়া ফ্যামেলি,ভিঅাইপি সুইট অাছে।

তমুরুদ্দিন থেকে মোক্তারিয়া ঘাট বাইক ও সিএনজি ভাড়া জনপ্রতি ১৫০-২০০টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।
তমুরুদ্দিন থেকে ট্রলার রির্জাভ করেও অাসা যায় নিঝুম দ্বীপ। ট্রলার ভাড়া জনপ্রতি ১৫০০-২৫০পর্যন্ত হয়ে থাকে।

মোক্তারিয়া ঘাট থেকে নদী পার হয়ে নিঝুম দ্বীপ যাওয়া লাগে।সেক্ষেত্রে বোট ভাড়া জনপ্রতি ২৫টাকা সময় লাগবে ৮/১০মিনিট অার স্পিডবোট ভাড়া জনপ্রতি ৬০টাকা সময় লাগবে ৩-৫মিনিট।

নদী পার হয়ে বাইক দিয়ে নিঝুম দ্বীপ নামার বাজার এখানে জনপ্রতি ভাড়া ৫০ টাকা সময় লাগবে ২০মিনিট।

অাসার সময় মাছ ধরার ট্রলারে নিঝুম দ্বীপ থেকে তমুরুদ্দিন ঘাটে চলে অাসতে পারেন এক্ষেত্রে জনপ্রতি ভাড়া ১৫০-২৫০ পর্যন্ত হয়ে থাকে।

# হোটেল+তাবু

নিঝুম দ্বীপে হোটেল এবং ক্যাম্পিং দুইভাবে থাকতে পারবেন। হোটেলে একদিনের জন্য জনপ্রতি ভাড়া ২০০-৫০০ টাকা হয়ে থাকে। শুক্রবার অথবা ছুটির দিন গেলে ভাড়া একটু বেশি রাখবে।এছাড়া ক্যাম্পিং করলে প্রতিরাত জনপ্রতি ৫০০টাকা করে লাগবে।

#খাবার

নিঝুম দ্বীপে সল্প বাজেটে অনেক সুস্বাদু খাবার পাওয়া যায়।এখানে হাঁসের মাংস,ইলিশ মাছ,চিংড়ি,দেশি মুরগি ইত্যাদি পাওয়া যায় ১০০টাকার মধ্যে। এখানে ভাত+ডাল পেট চুক্তি ২৫টাকা জনপ্রতি।সুতরাং ইচ্ছামত খেতে পারেন।😁😁
এছাড়াও মহিষের দুধের দধি ও শীতের সময়ে খেজুরের রস বিখ্যাত।

প্রয়োজনীয় কিছু মোবাইল নাম্বারঃ
M B farhan -2,4 (01785630365) (01785630370)
M B Tasrif ( 01730476822)

নিঝুম হোটল সী-প্যালেস (০১৮৪২৯৪৪২৮১,০১৭১৯৩২৪৮৪২) মান্নান ভাই

চৌধুরী খালে-কবিরের চরের ট্রলারঃ (01778037295) রনি

পরিশেষে বলা ভালো নিঝুম দ্বীপ অাপনি ২দিন থাকতে পারলে একটু ভালো করে ঘোরাঘুরি করে দেখতে পারবেন,তাই হাতে সময় নিয়ে যাবেন।

নিঝুম দ্বীপ প্রকৃতির এক অসাধারণ সৃষ্টি।অাপনাদের ভ্রমণ শুভ হোক।

বিঃদ্রঃ যত্রতত্র ময়লা ফেলবেন না।পরিবেশ বাঁচলে বাঁচবে দেশ।

88052903_2671409506310815_2439802635449008128_o

নেপাল মুস্তাং ভ্যালী রাইড ২০২০ by Asif Khan Surjo

নেপাল মুস্তাং ভ্যালী রাইড ২০২০ by Asif Khan Surjo
অন অফ দ্যা মোস্ট এডভেঞ্চারিয়াস এন্ড ডেঞ্জারাস রোড ইন দ্যা ওয়ার্ল্ড।

বাইক নিয়ে বিদেশ ভ্রমনের ইচ্ছা আমাদের দেশের সব বাইকারদেরই আছে কমবেশি। অনেকে ইতিমধ্যেই বিশাল মাপের ভ্রমন করেছে দেশের বাইরে।

কিন্তু সবকিছুর পরেও দেশের বাইরে বাইক চালানোর ব্যাপার টা এখোনো কেউ ক্লিয়ার করে পোস্ট দেয় নি। যেমন কেউ যদি ভুটান যায় সে যদি ভুটানের বিস্তারিত একটা পোস্ট দেয়, কেউ যদি ইন্ডিয়া যায় সেটার বিস্তারিত একটা পোস্ট দেয় তাহলেই কিন্তু জিনিস টা একদমই ইজি হয়ে যায় আর অনেকেই সেই পোস্ট ফলো করে যেতে পারবে আর পূরন করতে পারবে তার সপ্ন।।

গত ১৬/০২/২০২০ তারিখে আমি নেপাল গিয়েছিলাম আর এসেছি ২৬/০২/২০২০। আজ আমি আবার ভ্রমনের সব টুকু শেয়ার করার ট্রাই করছি যতটুকু আমি পারবো।

প্রথমত আপনাকে মাথায় রাখতে হবে ঐখানে যেতে গেলে আপনার হিল রাইড আর অফরোড রাইডিং এর একটা ভালো অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। নাহলে হুট করে গিয়ে আপনি ঐ রোডে সারভাইভ করতে পারবেন না। আর সাজেস্ট করবো সামারে যাওয়ার কারন আমি ফেব্রুয়ারি তে গিয়ে মাইনাস ১২ ডিগ্রী তাপমাত্রা আর স্নো ফল পেয়েছি যার ফলে আমার জন্য রাস্তা টা আরো চ্যালেঞ্জিং হয়ে গেছে। টিভিতে বা স্ক্রীনে স্নো ফল দেখতে যত টা আনন্দদায়ক বাস্তবে স্নো ফল এরচেয়ে অনেক বেশি ভয়ানক তাই আমি বলবো এই তাপমাত্রা আর এই সময় ইগনোর করুন। কারন স্নো ফলে ঝিরিপথে পানি অনেক বেশি থাকে আর বাইক পানির ধাক্কায় বাইক পড়ে গেলে বড় বিপদ হতে পারে। তাছাড়া এতো কম তাপমাত্রায় হাতে বা পায়ে পানি লাগলে হাত বা পা কাজ করবে না আর। তাই এই ব্যাপারে খুব কেয়ারফুল থাকবেন।

এবার আসুন কি লাগবে আপনার ঐখানে যেতে। প্রথমত পাসপোর্ট তো অবশ্যই আর সার্কভুক্ত দেশ হওয়ায় নেপালের ভিসা ফ্রি বাংলাদেশীদের জন্য। ঐখানের এয়ারপোর্ট এ নেমে ওদের ম্যাশিনে সব ইনফো ইনপুট করলে একটা স্লিপ পাবেন। সে স্লিপ নিয়ে ইমিগ্রেশনের লাইনে দাড়িয়ে সামনে এগিয়ে গেলেই ফ্রি ভিসা পেয়ে যাবেন।
সাথে শীতের প্রোটেকশনের জন্য ভালো রাইডিং জ্যাকেট, ওয়াটারপ্রুফ জুতা ও গ্লাভস অবশ্যই নিবেন। আর ঐখানের খাবার কিছুই খেতে পারবেন না। তাই পারলে শুঁকনো খাবার কিছু নিয়ে যাইয়েন লাইক বিস্কুট, রুটি এইসব। আর অবশ্যই ডলার নিয়ে যাবেন। বাংলা টাকা নিলে এক্সচেঞ্জ করলে রেট অনেক কম পাবেন।

আপনার ট্যুরের ধাপ শুরু হতে যাচ্ছে এখন থেকে।

১ম দিন : এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়ে ট্যাক্সি নিবেন। এয়ারপোর্টে মানি এক্সচেঞ্জ করবেন না বা কোনো হোটেলের এজেন্টের যাওয়ার দরকার নেই। ট্যাক্সি ভাড়া ৪০০-৫০০ নেপালি রুপি। (১ নেপালি রুপি = বাংলা ১.৩৩ টাকা)। টেক্সি যাবে থামেল শহরে। ঐখান থেকে ৩০ মিনিটের রাস্তা। থামেল ট্যুরিস্ট এড়িয়া এখানে কেউ কারো না। নিজের মতো ঘুরে হোটেল খুজে নিতে পারেন বা চাইলে Rajan Sedai ভাইয়া কে নক দিতে পারেন। আমি উনার নাম্বার দিয়ে দিচ্ছি। উনি OYO HOTEL BELI NEPAL এর মালিক। থামেলের মতো এড়িয়ায় উনার মতো ভালো আর জলি মাইন্ডেড লোক পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। উনার কাছে আপনারা আপনাদের লাগেজ সব অন্যান্য জিনিস রেখেও ট্যুরে বের হতে পারবেন আবার এসে ব্যাক নিতে পারবেন। উনার নাম্বার আমি দিয়ে দিচ্ছি।
রাতে উনার হোটেলের সামনেই একটা মুসলিম রেস্টুরেন্ট আছে যেখানে ৮ টায় ডিনার করে নিন পরোটা আর মুরগী। নেপালি কোনো খাবার ট্রাই না করাই ভালো কারন খেতে পারবেন না ওদের মসল্লার জন্য। তারপরেও যদি খেতে পারেন ডিফরেন্ট। মুসলিম হোটেল টার ছবিও আমি দিয়ে দিচ্ছি।

২য় দিন : সকালে ঘুম থেকে উঠুন। ঐখানে অনেক মটোরবাইক রেন্ট পাবেন। তবে সবচেয়ে ক্লাসি বাইক পাবেন BS Motorbike এ। গুগল ম্যাপ করে তার কাছে যান গিয়ে বলুন আপনি বাংলাদেশ থেকে এসেছেন এই পোস্ট দেখে। মটোরবাইক ভাড়া নিচ্ছেন তার মানে কোনোটারই কন্ডিশন আহমরি ভালো না। বেছে দামের মধ্যে যা হয় ১ সপ্তাহের জন্য ভাড়া নিন। Fzs V2, Hornet 150 1200-1500 রুপি, Fzs 250 2200-2500 রুপি তাছাড়া KTM, Royal Enfeild সব আছে আলাদা আলাদা দামে। ৮ টার মধ্যে বাইক নিজের মতো করে চালিয়ে সিলেক্ট করে নিন। ঠিক ৯ টায় সরকারি ট্যুরিজম অফিসে চলে যান। সেখানে আপনার ছবি ও পাসপোর্ট নাম্বার দিয়ে ২ টা পারমিশন মিতে হবে মুস্তাং ভ্যালী (মুক্তিনাথ) যাওয়ার জন্য। একটার জন্য ১০০০ নেপালি রুপি আরেকটার জন্য ৬০০ নেপালি রুপি = ১৬০০ নেপালি রুপি লাগবে। টোটাল ১০ মিনিট লাগবে পারমিশন নিতে। এরপরে রওনা দিন পোখারার উদ্দেশ্যে। পোখারা পিচঢালা ভালো নরমাল হিল রোড। টোটাল ২১০ কিলো রাস্তা। নিজের মতো ছবি তোলা সহ ঘুরে, লাঞ্চ করে যেতে ৬ ঘন্টা সময় লাগবে আপনার মোটামোটি কাঠমুন্ডু থেকে পোখারা যেতে। পোখারা গিয়ে লেইক সাইড চলে যান। সেখানে অনেক হোটেক পাবেন। খুব ভালো গুলো ১৫০০-২০০০ রুপি। আর মিডিয়াম ১০০০ রুপি। আপনারা চাইলে হোটেল ওয়ো প্রিসিডেন্ড বা Hotel White In এ থাকতে পারেন। ১ হাজার রুপিতে ডবল বেডের ভালো রুম পাবেন সাথে গিজার-ও পাবেন। আর এখানে হোটেল প্রিসিডেন্টের পাশে একটা রেস্টুরেন্ট আছে যেটার ছবি আমি দিয়ে দিবো। এটাতে আপনারা ডিনার, ব্রেক ফাস্ট করতে পারবেন কারন এখানে বাংগালী টেস্ট পাবেন । অন্য জায়গায় খেতে পারবেন বলে মনে হয়না আর পারলেও অনেক এক্সপেন্সিভ হয়ে যাবে। আর ওয়ো হোটেল প্রেসিডেন্টের ব্যবহার অসাধারণ বাংলাদেশিদের প্রতি।

৩য় দিন : আজ আপনার কিছুটা অফরোড রাইড করতে হবে। সকাল সকাল বের হয়ে যাত্রা করুন বেনির উদ্দেশ্যে। কাচা, পাকা দুই ধরনের রাস্তাই পাবেন বেনি যেতে। কিছুটা অফরোড এখানে করে হাত কে পাকিয়ে নিন কারন সামনে আপনার জন্য অনেক কিছু অপেক্ষা করছে। বেনি পৌছিয়ে দুপুরের লাঞ্চ সেড়ে নিন। কিছুক্ষন রেস্ট নিন।
আপনার ট্যুরের জার্নি শুরু হতে যাবে আজ এইখান থেকে। বেনির পর আর কোনো রাস্তা নেই, সব দুর্গম অফরোড। আপনাকে আজকে তাতোপানি যেতে হবে যার ডিস্টেন্স মাত্র ১৫ কিমির মতো সেখান থেকে কিন্তু সময় লাগবে ১ ঘন্টার বেশি। কেউর ২ ঘন্টাও লাগতে পারে ছবি তুলতে গেলে। এখান থেকেই শুরু পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ানক আর এডভেঞ্চারিয়াস রোডের মধ্যে একটি মুস্তাং ভ্যালী যাওয়ার রাস্তা। তাতোপানি গিয়ে প্রথম যে হোটেল টা পড়বে হাতের বামে সেটাতে পার্কিং ফেসালিটি ভালো পাবেন তবে রুপ ছোট, ২ টা বেড আছে এখানে। ৯০০-১০০০ রুপি ভাড়া। রাতে যদি পারেন খেতে তাহলে তাদের রেস্টুরেন্ট থেকে খেতে পারেন। তবে আমার সাজেশন থাকবে আগে খাবারের ঝোল টেস্ট করে দেখবেন। যদি ভালো লাগে আর খেতে পারেন তবেই খাবেন। রুটি খাওয়াই বেটার। শীত থাকলে এখানেই রাতে মাইনাস ৩/৪ তাপমাত্রা পাবেন।

৪র্থ দিন : সকাল সকাল বেড়িয়ে পড়ুন কারন আজ পাথরের দুর্গম পাহাড়ি রাস্তা, নদী, ঝিরিপথ সব কিছুর উপর দিয়েই চালাতে হবে। খুব সাবধানে রাইড করুন। আজকে আপনার গন্তব্য হচ্ছে জমসম। এখানে কোনটা রোড আর কোনোটা রোড না সেটা বুঝার কোনো উপায় নেই। সিমে নেটওয়ার্ক থাকবে না তাই নেটেও কিছু তেমন করতে পারবেন না। আর দুর্গম রাস্তায় যদি কেউকে পান তাকেই জিজ্ঞেস করে যেতে হবে। সবচেয়ে বেটার ঐ পথে চলা গাড়িকে জিজ্ঞেস করেন জমসম কোনদিকে। ক্লান্ত হলে ব্রেক নিন তারপর আবার শুরু করুন কারন এই রাস্তায় এমনো হতে পারে যদি স্নো ফল হয় এক ঘন্টায় আপনি ৪ কিলো যেতে পারবেন না। সো আপনাকে খুব বুঝে এই রাস্তায় আগাতে হবে আর শরীরে প্রচুর শক্তি রাখতে হবে। জমসম গিয়ে হোটেল নিন দুইদিনের জন্য, কারন আজকের দিন আপনি থাকবেন আর কালকের দিন রাইড + রেস্ট করবেন।

৫ম দিন : জমসম থেকে শুরু করুন। আজকে আপনার গন্তব্য মুক্তিনাথ। ১ ঘন্টা প্রায় চালানোর পর দেখবেন পাকা রাস্তা। এতোদিন এই রকম ভয়ানক পাথরের হিলে অফরোড করে, নদীতে চালিয়ে যাওয়ার পর যখন পিচের রাস্তা দেখবেন ইমোশনাল হয়ে যাবেন আনন্দে। পিচঢালা রাস্তায় ছবি তুলে + চালিয়ে ৩০/৪০ মিনিটে পৌছে যাবেন মুক্তিনাথ যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৩ হাজার ফিট উপরে আর ইতিমধ্যেই আপনি জয় করে ফেলেছেন পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ানক রাস্তার মধ্যে একটি মুস্তাং ভ্যালী, মুক্তিনাথ। শীতকালে এখানে মাইনাস ১৮ ডিগ্রী তাপমাত্রা পাবেন। ফেব্রুয়ারির লাস্টের দিকে গেলে মাইনাস ১০/১২ পেতে পারেন। চলে আসুন আবার ব্যাক জমসম। আপনার হোটেলে উঠে শরীর কে রেস্ট দেন আর একদিন এনজয় করুন। জমসমে Neeru হোটেলে থাকতে পারবেন। খুব ভালো রুম (২ বেড) ১৫০০ রুপি। উনাদের সার্ভিস ভালো।
.
৬ নাম্বার দিন থেকে আপনার ব্যাক করার পালা। আপনি এতোদিনে এই রোডে ইউজড টু হয়ে গেছেন তাই এখন এই অফরোড, নদীপথ, ঝাকি আপনার গায়ে কম লাগবে। আর আপনি রাস্তাও চিনে গেছেন আর ছবি তোলার-ও কিছু তেমন নেই এখন আর। আপনারা এইবার আগের চেয়ে ইজিলি ব্যাক করতে পারবেন। আমি যেটা করেছিলাম সেটা হচ্ছে একবারে মুক্তিনাথ থেকে পোখারা চলে এসেছিলাম। তবে আমি অনুরোধ করবো খুব তারাহুরা না থাকলে এমন টা করার জন্য। কারন এতে ঐ রোডে আমার রাতে চালাতে হয়েছিলো যা খুবই ভয়ানক ছিলো আমার জন্য। এতো রিস্ক না নেওয়া বেটার। আপনারা জমসম থেকে বেনি চলে আসেন একদিনে। বেনিতে থেকে পোখারা চলে আসেন। তারপর সেখান থেকে কাঠমুন্ডু। এপ্রোক্স ৮০০/৯০০ কিলো রাইড হবে ঘুরাঘুরি করে। কিন্তু এই রোডকে কিলো দিয়ে হিসাব করে ভুল করবেন না আশা করি।
.
এবার আসেন ফিনিশিং এ কিছু বলা যাক।
* টোটাল প্লেইন ফেয়ার সহ আমার ১৫০০০ + ৪০০ ডলার লেগেছে। কারন ঐখানে খাবারের দাম অনেক বেশি। টোটাল ৪৫-৫০ হাজার টাকা। আমার বাইকে গিয়েছে ৯ হাজার রুপি, ১০ দিনে হোটেলে গেছে ৭ হাজার রুপির মতো, তেল ৩ হাজার রুপির মতো (কিছু কম-বেশি) আর প্লেইন। বাকি সব টাকা খাবারে কারন খাবারের দাম অনেক। লাইক কিছু জায়গায় ডিম ভাজি ২০০ রুপি, ২ পিস পাউরুটি ১০০ রুপি এমন। চা/কফি অলমোস্ট সব জায়গায় ৩০-৭০ রুপি।

* টোটাল যা সময় লাগবে এরচেয়ে মিনিমাম ২ দিন এক্সট্রা সময় নিবেন কারন যে কোনো কিছু হতে পারে এই রাস্তায়। লাইক রাস্তা বন্ধ, তাপমাত্রা বেশি কমে গেছে, পাহাড় ধশ টাইপের যে কিছু। তাই ২ দিন হাতে রেখে রিটার্ন টিকেট কাটবেন। সেই ২ দিন সিটিতে চালিয়ে ৭১৩৬ ফিট হাইটের নাগারকট হিল টাও রাইড করতে পারেন।

* পর্যাপ্ত রেটি সহ শুকনা খাবার দেশ থেকে নিয়ে যাবেন যাতে খাবার ভালো না লাগলেও আপনি ঐগুলা খেয়ে সারভাইভ করতে পারেন।

* নেপালের ট্রাফিক রুলস খুব করাকরি, লেন চেঞ্জ করলেও বড় এমাউন্ট জরিমানা গুনটে হয় অনেকের। তাই সেখানে এমন ভাবে চালাবেন না যাতে আপনার কারনে দেশ ছোট হয়।

* সব জায়গায় এমন ভাবে চলাফেরা করবেন যাতে দেশের সম্মান অনেক উপরে থাকে। আর নেপালিরা বাংলাদেশিদের অনেক পছন্দ করে। সেই পছন্দের জায়গা টা ধরে রাখবেন।

* হিন্দি সবাই জানে তাই যারা হিন্দি জানেন তাদের জন্য কমিউনিকেশন করা ইজি হবে। তাছাড়া ইংলিশ-ও বেশিরভাগ লোক জানে।

* মদ প্রচুর এভেইলেবল কিন্তু খেয়ে ভুলেও ড্রাইভ করতে যাবেন না। রাস্তায় পুলিশ ডোপ টেস্ট করে। ধরা পরলে সমস্যায় পরবেন অনেক।

* বাইক রেন্ট নিলে জামানত বাবদ আপনার পাসপোর্ট তারা রেখে দিবে যা বাইক ফেরত দেওয়ার পর পাবেন। বাইকে কোনো ক্ষতি হলে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

* বাংলাদেশে যারা মোটামোটি ৩/৪ বছর মিনিমাম রাইড করেছেন বিভিন্ন জেলায়, হিল রাইড করেছেন, এবং বিশেষ করে অফরোডিং করেছেন শুধুমাত্র তারাই যাবেন প্লিজ। কেউ এচিভমেন্ট আনলক করতে অভিজ্ঞতা ছাড়া ঐ রাস্তায় গেলে বিপদে পড়ে যেতে পারেন। সবচেয়ে ভালো হয় সিনিয়র কেউকে সাথে নিয়েন।

* বেশি মানুষ যাবেন না এতে চালালে সমস্যা হবে। আবার বেজোড় সংখ্যায় যাবেন না তাহলে থাকতে সমস্যা হবে। লাইক ২ জন বা ৪ জন যাবেন।

* কোথাও গিয়ে বাইকিং গ্রুপের পরিচয় দেওয়ার দরকার নেই। শুধু বলবেন আমি একজন বাংলাদেশের বাইকার আর এটাই আপনার সবচেয়ে বড় পরিচিয় যাতে তারা আমাদের সবাইকে এক করে দেখতে পারে, আমরা যাতে উমুক রাইডার, তুমুক রাইডার নাম বলে নিজেদেরকেই আলাদা করে না ফেলি প্লিজ।

* নেপাল খুব সেফ ও পরিস্কার কান্ট্রি ট্রাভেলের জন্য আর খুব পারফেক্ট।

* কানে কম শুনলে নরমালি নিন ভয় পাবেন না। নিশ্বাস নিতে সমস্যা হলে নাক দিয়ে ইনহেলাল ব্যবহার করতে পারেন।

* দেশ থেকে হেলমেট নিয়ে যাবেন।

* দেশ থেকে ডলার নিয়ে যাবেন। ডাইরেক্ট টাকা নিয়ে যাইয়েন না কারন ওদের দেশে টাকার কোনো দাম নেই বললেই চলে।

* সন্ধ্যা ৭ টার পরেই সব বন্ধ হয়ে যায় বলা চলে তাই ডিনার সহ রাতের বাইরের কিছু কেনার কাজ এই টাইমের মধ্যেই করে নিন।

* থামেল থেকে ফুয়েল নিন, পোখারা গিয়ে আবার ফুল করুন। তাতোপানির পর কিছু দোকানে খোলা ফুয়েল পাবেন তবে দাম ২০-৪০ রুপি বেশি।

* খাওয়ার পানি সহ ইমারজিন্সি সব মেডিসিন সাথে রাখুন।

* বাই রোডে গেলে ৭০০০/৮০০০ টাকা কম খরচ হবে তবে একদিনে ৪৬ ঘন্টা বাস জার্নি করতে হবে + ইন্ডিয়ার ট্রাঞ্জিট ভিসা নিতে হবে। তাই অল্প টাকার জন্য বাই রোডে না যাওয়ার সাজেশনই আমার থাকবে। তারপরেও কেউ যেতে চাইলে জানাবেন আমি সেটার রুট প্ল্যান-ও দিয়ে দিবো।

* টোটাল ১০০০-১১০০ কিলো চালানো হবে। তবে এই ১০০০-১১০০ কিলো রাইড আপনাকে বাকি জীবন চলার জন্য পরিপূর্ণ অভিজ্ঞতা দিয়ে দিবে। আর আমার মতে দেশে একই জায়গায় বার বার যাওয়ার চেয়ে দেশের বাইরে একবার বছরে যাওয়া অন্তত ভালো। কারন এইসব পাথরের রোড, পাথরের নদীতে চালানোর অভিজ্ঞতা ও ফিল আমাদের দেশের রোড থেকে আমরা নিতে পারছি না।

পরিশেষে বলতে চাই একটা রোড, একটা জার্নি সেটার ব্যাপারে বলে বা লিখে আসলে কখনই ১০০% বোঝানো সম্ভব না যেটা গেলে বোঝা যায়। তারপরেও শেয়ার করা যাতে অন্যান্য বাইকার ভাইরাও ট্রাভেলের স্বাদ টা নিতে পারে।
ব্যাক্তিগত ভাবে আমি কোনোদিন এচিভমেন্টের জন্য রাইড করি না বরং রাইড করি নিজের মন কে প্রকৃতির কাছে নিয়ে একটু তৃপ্তি দিতে।
আমি চাইলে বাংলাদেশ দিয়ে বাইক নিয়ে যেতে পারতাম যা কোনো ব্যাপারই না। লজিক্যাল ভাবে যে দুর্গম রাস্তা রাইড করতে পারে তার কাছে নরমাল রাস্তা দিয়ে চালিয়ে যাওয়া কোনো ইস্যুই না। কিন্তু আমাদের দেশের নিয়ম অনুযায়ী বাইক বিদেশ নিতে হলে বাইকের সমপরিমাণ টাকা কার্নেটে জমা রাখতে হয়। আমি আল্লাহর রহমতে এমন টাকা দিতেও এবল কিন্তু আমি জাস্ট এই নিয়ম টাকে হেট করি। কারন ইন্ডিয়ান বাইকার রা নেপাল বা ভুটানের গেটে যাচ্ছে, নাম মাত্র ২০০/৩০০ রুপি দিয়ে বাইকের পাশ কেটে ঢুকে যাচ্ছে। সেখানে আমাদের দেশ থেকে নিতে হলে লক্ষ টাকা কেনো জমা রাখতে হবে যা আমার পছন্দ হয়নি। তাই আমি ডাইরেক্ট ঢাকা থেকে বাইকে যাই নি। নাহলে সেটাই যেতাম।

আশা করি এই পোস্ট অনেকটাই হেল্পফুল হবে। তারপরেও যদি কোনো ইনফো দরকার হয় আমাকে সরাসরি নক করবেন আমি হেল্প করার ট্রাই করবো।

এরপর আল্লাহ চাইলে হয়তো অন্য কোনো দেশের অভিজ্ঞতা শেয়ার করবো দ্রুতই।
আর অন্য কেউর সাথে আমার অভিজ্ঞতা নাও মিলতে পারে, কারন আমি আলাদা মানুষ। তাই ভিন্নমতাবলম্বীদের আমি সম্মান করি।

এভাবেই একদিন ইন-শা-আল্লাহ পুরো পৃথিবী জানবে বাংলাদেশেও অনেক কোয়ালিফাইড ও প্যাশিনিয়েট মটো ট্রাভেলার আছে <3

আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন 

81920099_3932943213397964_5175347428886315008_o

ভূটান ভ্রমণ – Sayek Raju

#BhutanSayek Raju
ভূটান ভ্রমণ (১১/১২/১৯-১৯/১২/১৯)
(ফুন্টসিলং-থিম্পু – পুনাখা – থিম্পু – পারো – ফুন্টসিলং)
টিওবি থেকে গ্রুপ করে ভূটান ভ্রমণের নতুন অভিজ্ঞতা।মুরাদ ভাই ও হাবিবা আপুকে প্রথমেই ধন্যবাদ জানাই আমি ও আমার বন্ধু মুনিমকে ভ্রমণ সঙ্গী করার জন্য।অনেক জল্পনা কল্পনা ও বাধা বিপওি অতিক্রম করে সফল হলো ভূটান ভ্রমণ।
ডিসেম্বর ১১
ভিসা ডেলিভারি ডেট ছিল ১১,তাই আগে টেক্সট আসা সত্যেও যাই নাই।(টেক্সট আসলেই পাসপোর্ট কালেক্ট করা যায়)।পাসপোর্টের জন্য লাইনে দাঁড়াই ২:৩০ তাও ৫০০/৬০০ মানুষের পিছনে দাড়াতে হয়েছে।ভিসা পেলে যাওয়া হবে নয়তো মন খারাপ করে বসে থাকতে হবে।এদিকে মুনিম ব্যাগ গুছিয়ে চলে আসছে ভিসা অফিসে। ভিসা পাওয়ার পরে দুজনই খুব এক্সাইটেড ছিলাম।হাবিবা আপুকেও জানিয়ে দিলাম আমরাও যাব।আগে থেকেই একই বাসে টিকেট কেটে রেখেছিলাম তাই তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরে ব্যাগ গুছিয়ে সাভারে হানিফ বাসের জন্যে অপেক্ষা করতে থাকি।বাসের টাইম ৮:৩০ থাকলেও বাস আসে ৯ টায়।বাসে টুরম্যাটদের সাথে দেখা।সবার সাথে গল্প করতে করতে যাএা বিরতি,হালকা খওয়া দাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়লাম।
খরচ
বাস ভাড়া – ৬৫০
মধ্যরাতের খাবার – ১১৫ (নান রুটি + সবজি+ কফি)
মোট – ৬৫০+১১৫=৭৬৫ টাকা
ডিসেম্বর ১২
ঘুম থেকে উঠে দেখি অলরেডি বুড়িমারী চলে এসেছি।তখন সকাল ৮:৩০,যেহেতু আমার ভ্রমণ কর দেওয়া হয়নি তাই ভ্রমণ কর ও স্পীড মানি একসাথে ৭৫০ টাকা দিয়ে দিলাম হানিফ কাউন্টারের একজনকে।ইমিগ্রেশন খুলতে তখনও দেরি তাই নাস্তা করে অপেক্ষা করতে থাকি ।বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন শেষ করে ভারতে প্রবেশ করে ইমিগ্রেশনের জন্য ১১০ টাকা করে দেই সবাই।ইমিগ্রেশন শেষ করতে করতে তখন অলরেডি ১২ টা বেজে যায়।ডলার ও টাকা সব রুপি করে নিলাম।(ভূটানে গুলট্রামের পাশাপাশি রুপি চলে সব জায়গায় এবং মান ও একই)। হালকা খাবার খেয়ে চেংরাবান্দা থেকে রওনা দিলাম জয়গায়ের উদ্দেশ্যে।জয়গাও ইমিগ্রেশন অফিসে এন্ট্রি করে নিলাম। তারপর ইমিগ্রেশন শেষ করে ভূটান গেট দিয়ে প্রবেশ করলাম।ভূটান ইমিগ্রেশনের সামনেই নিমার সাথে দেখা।সে আমাদের সহযোগিতা করল সব বিষয়ে।আমাদের কয়েকজনে হোটেল বুকিং দেওয়া ছিল ফুন্টসিলংয়ের কিন্তু ইমিগ্রেশন থিম্পুর বুকিং সারা গ্রহণ করে না।নিমা আমাদের সব ডকুমেন্টস রেডি করে দিল।ইমিগ্রেশনের একটা ফরম পূরণ করে এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি সহ হোটেল বুকিং জমা দিয়ে পারমিশন নিয়ে নিলাম ৭ দিনের(১২/১২/১৯-১৮/১২/১৯)।এখান থেকে ৭ দিনের বেশি পারমিশন দেয় না।৭ দিনের বেশি থাকতে চাইলে থিম্পু থেকে এক্সটেনশন করে নিতে হয়।সবার ইমিগ্রেশন শেষ করে নিমার হাইস গাড়ি নিলাম ৭ দিনের জন্যে।সবাই তখন খুবই খূধার্ত, তাই ঝটপট খেয়ে নিলাম ভেজ বিরিয়ানি।আমাদের হোটেলের দায়িত্বটাও দিয়ে দিলাম নিমার কাঁধে। সবাই খাওয়া শেষ করে রওনা দিলাম থিম্পুর জন্য।ফুন্টসিলং থেকে থিম্পু যেতে ৪ ঘন্টা সময় লাগে। পাহাড়ের মধ্য দিয়ে ছুটে চলতে শুরু করল আমাদের গাড়ি, দুই পাশের দূর পাহাড়ের লাইট দেখত দেখত গেদু চলে আসলাম।গেদুতে বিরতি নিলাম ফরমালিন মুক্ত কমলা আর কলা খাওয়ার জন্যে।ততক্ষণে নিমার আরেক গাড়ি চলে আসল।যেহেতু গাড়ি খালি ছিল তাই আমি মুনিম ও সুলতান ভাই নিমার সাথে ছোট গাড়িতে উঠি থিম্পুর উদ্দেশ্যে।ততক্ষণে হাড় কাপানো শীত শুরু হয়ে গেছে।রাত ১ টায় পৌছাই হোটেলে।ওয়েলকাম চা খেয়ে রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে শুয়ে পড়লাম। ক্লান্ত শরীর তাই সেকেন্ডের মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়লাম।
খরচ
ভ্রমণ কর ও স্পীড মানি – ৭৫০ টাকা
সকালের নাস্তা – ৪০ টাকা (রুটি +সবজি)
ভারতে স্পীড মানি – ১১০ টাকা
দুপুরের হালকা খাবার ৬০ রুপি (কেক + কলা+ পানি)
চেংরাবান্দা থেকে জায়গাও গাড়ি(বলেরু- ১০ জনের জন্য একটু চাপা চাপি হয়ে যায় ) ভাড়া – ২৫০ রুপি (২৫০০÷১০=২৫০ রুপি)
রাতের খাবার – ২২০ রুপি (ভেজ বিরিয়ানি + পানি)
কমলা ও কলা – ২০ রুপি
• ভূটানের গাড়ি ও হোটেল খরচ নিচে বিস্তারিত দেওয়া হল।
মোট
৭৫০+৪০+১১০=৯০০ টাকা
৬০+২৫০+২২০+২০=৫৫০×১.২=৬৬০ টাকা
সুতরাং – (৯০০+৬৬০)=১৫৬০ টাকা
ডিসেম্বর ১৩
সকালে ঘুম থেকে উঠতে একটু দেরি হয়ে গেল সবারই । রওনা হলাম দোচালা পাস দেখার জন্যে।পথিমধ্যে সকালের নাস্তার বিরতি।মেগী ও বীফ মোমো এবং বাথোপ খেয়ে নিলাম।যাএা শুরুর ২:৩০ ঘন্টার মাঝে চলে আসলাম দোচালা পাস। সবাই পাহাড়ের অপরূপ সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে লাগল।এ সৌন্দর্য বর্ণনায় প্রকাশ করার মত না এবং ছবিতেও তার পূর্ণতা প্রকাশ পায় না।ভাগ্যক্রমে তাদের ট্রেডিশনাল ফ্যাস্টিবল(Duchala tshachu) ও পেয়ে গেলাম।সবাই নিজ নিজ পরিবার সহ পাহাড়ের চূড়ায় উপভোগ করছে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের নৃত্য।
দোচালা পাস দেখা শেষে আমরা রওনা দিলাম পুনাখার উদ্দেশ্যে।পথিমধ্যে খাবার বিরতিতে খেয়ে নিলাম বীফ ফ্রাইড রাইস।সন্ধ্যা নামার আগেই চলে আসলাম পুনাখাতে।সবাই ফ্রেশ হয়ে একটু বিশ্রাম নিয়ে খেয়ে নিলাম রাতের খাবার নিজ হোটেলেই।(আগে অর্ডার করতে হয়)।রাতের খাবার শেষে বের হলাম রাতের পুনাখা শহর দেখতে,রাস্তার আলোতে হেটে হেটে উপভোগ করতে লাগলাম দূর পাহাড়ের লাইট গুলোর মিটিমিটি আলো।প্রথম দেখায় যে কেউই তারা ভেবে ভূল করে বসবে।রাত ৯ টার দিকেই পুরো শহর জনশূন্য হয়ে পড়ে কিন্তু ভয়ের কোন কারণ নেই আপনি নির্ধিদায় ঘুরতে পারেন।রাত ১১ টায় হোটেলে এসে ঘুমিয়ে পড়লাম।
খরচ
মেগী ৫০ রুপি
মোমো ৬০ রুপি
বাথোপ ৬০ রুপি
বীফ ফ্রাইড রাইস + পানি – ১২০ রুপি
রাতের খাবার (বুফে) – ১৮০+১০℅সার্ভিস চার্জ =২০০ রুপি
মোট – (৫০+৬০+৬০+১২০+২০০)=৪৯০×১.২=৫৮৮ টাকা
ডিসেম্বর ১৪
সকাল সকাল সবাই ঘুম থেকে উঠে বেরিয়ে পড়লাম পুনাখা জং দেখার জন্য। পুনাখা জংয়ের বিপরীত পাশের (Old town cafe)তে খেয়ে নিলাম সকালের খাবার।পুনাখা জং খোলা থাকে ১১-১ এবং ৩-৫।রাফটিংয়ের জন্যে দেরি যেন না হয়ে যায় তাই জংয়ের বাইরে কিছু ছবি তুলে রওনা দিলাম রাফটিংয়ের জন্য।সবাই রাফটিংয়ের জন্য লাইফ জ্যাকেট সহ হেলমেট পরে তৈরি হয়ে গেলাম কনকনে শীতের মধ্যে ঠান্ডা পানির মঝা নিতে।আমাদের বোট চালক তার কমান্ড গুলো বুঝিয়ে দিল এবং বসার পজিশন ঠিক করে দিল। তারপর শুরু হল ১২ কি.মি রাফটিংয়ের যাএা।রাফটিং শেষে ঝুলন্ত ব্রীজের জন্যে গেলাম যা পুনাখা জং থেকে ১০ মিনিটের হাঁটা রাস্তা।৩ টার মধ্যে আমরা রওনা দিলাম থিম্পুর জন্যে।ভাগ্যক্রমে দোচালা পাসে স্নো ফল পেয়ে যাই।তাই স্নো দিয়ে খেলার সুযোগও পেয়ে যাই। সন্ধ্যার মধ্যেই থিম্পুর জন্যে উঠে পরি গাড়িতে।নিমাকে দিয়ে আগে থেকেই বুফে খাবার অর্ডার করে রাখি।থিম্পু যাওয়ার পথে খাবার বিরতিতে মেগী খেয়ে নিয়েছিলাম। হোটেলে এসে ফ্রেশ হয়ে একটু বিশ্রাম নিয়ে রাতের খাবার খেয়ে নিই।রুমে বিশ্রাম নিতে যাওয়ার সময়ই নিমার কল পেয়ে নিচে আসি আর উপভোগ করি মাইনাস তাপমাত্রায় ফায়ার ক্যাম্প সাথে হালকা মিউজিকে আকাশের চাঁদ তারার মেলা। যদিও রুমে যেতে ইচ্ছে করছিল না হোটেল ক্লোজ হয়ে যায় রাত ২ টায় তাই বাধ্য হয়েই যেতে হল।
ডিম ফ্রাইড রাইস – ১৩৫ রুপি
রাফটিং – ১০০০ রুপি
মেগী – ৫০ রুপি
ডিনার বুফে – ২৫০ রুপি
মোট –(১৩৫+১০০০+৫০+২৫০)=১৪৩৫×১.২=১৭২২
ডিসেম্বর ১৫
সকালে ঘুম থেকে উঠেই বেরিয়ে পড়ি থিম্পু সাইট সিয়িংয়ের জন্যে।সকালের খাবার শেষ করে বেরিয়ে পড়ি বুদ্ধা ট্যামপল দেখার জন্য।বুদ্ধা ট্যামপল দেখে সিমপ্লি ভূটান দেখার জন্যে যাই কিন্তু তাদের বন্ধের দিন ছিল বলে বাকীগুলো দেখা হয়ে উঠেনি।তাই থিম্পু শহর ঘুরে দেখার সুযোগও পেয়ে গেলাম।ঠান্ডা হাওয়ায় চা খেয়ে ক্লক টাওয়ার থেকে শুরু করে পুরো শহরই ঘুরে দেখতে দেখতে পেয়ে যাই ট্র্যাডিশনাল ফুড ফেস্টিভ্যাল। মোটামুটি সব ধরনেরই লোকাল ফুড ট্রাই করলাম। তারপর ক্লক টাওয়ারের পাশেই (KUNGA MOMO) রেস্টুরেন্টে রাতের খাবার খেয়ে হোটেলে বিশ্রামের জন্য চলে যাই
খরচ
সকালের নাশতা – ১২০ রুপি
চা – ২৫ রুপি
ট্র্যাডিশনাল ফুড – ১২০ রুপি
রাতের খাবার – ১৩০ রুপি
মোট –(১২০+২৫+১২০+১৩০)= ৩৯৫×১.২=৪৭৪ টাকা
ডিসেম্বর ১৬
সকালে ঘুম থেকে উঠেই পারুতে যাওয়ার জন্যে রওনা হলাম। সকালের নাশতা রাস্তার পাশেই এক রেস্টুরেন্টে খেয়ে নিলাম। উদ্দেশ্য ছিল চেলালা পাস ও হা ভ্যালী কিন্তু অতিরিক্ত বরফের কারনে রাস্তা বন্ধ থাকায় যাওয়া হয় না।তাই পারো এয়ারপোর্ট ভীও পয়েন্টে যাই।তারপর যাই ন্যাশনাল মিউজিয়ামে। ন্যাশনাল মিউজিয়াম ঘুরে সামনেই জং ঘুরলাম।তারপর পারুর নদীর পাশ ধরে হেটে উপভোগ করলাম পারুর সৌন্দর্য। তারপর চলে যাই পারু সিটি ঘুরে দেখার জন্য।নেমেই খেয়ে লাইট ফুড খেয়ে নিলাম।ততক্ষণে সন্ধ্যাও হয়ে গেল,পারু সিটি খুবই ছোট। এক ঘন্টায়ই ঘুরে শেষ করা যায়।ভূটানের স্মৃতি হিসেবে রাখার জন্য কিছু জিনিস কিনলাম।তারপর রাত ৮ টায় সবাই একসাথে যাই বুফে খাবার খাওয়ার জন্য। খাওয়া শেষে হোটেল চলে যাই।
খরচ
সকালের নাশতা – ১১০ (ফ্রাইড রাইস)
লাইট ফুড – ৫০
বুফে – ২০০
মোট – (১১০+৫০+২০০)=৩৬০×১.২=৪৩২ টাকা
ডিসেম্বর ১৭
আগে থেকেই নিমার মাধ্যমে রুটি ও ভাজি অর্ডার করে রাখি যেন দেরি না হয়।সকাল ৮ টায় সবাই বেরিয়ে পড়ি টাইগার নেস্টের জন্যে।পূর্বের অর্ডারকৃত নাশতা করে টাইগার নেস্ট চলে যাই।টিকেট করেই হাইকিংয়ের জন্যে লাঠি ভারা নেই ।হাইকিং শুরু করতে করতে ১০ টা বেজে যায়।প্রথমে হাটার গতি খুব বেশি হলেও আস্তে আস্তে তা কমতে থাকে।হাইকিংয়ের মাঝপথে ক্যাফেটেরিয়ায় একটু রেস্ট নিয়ে পানির বোতল সহ আবার যাত্রা শুরু।যাত্রার কিছুক্ষণ পরেই আবার বরফের দেখা মিলে।তাপমাত্রা কমতে থাকে সাথে অক্সিজেনের মাত্রাও।প্রথমে শ্বাস নিতে একটু খারাপ লাগলেও একটু পর ঠিক হয়ে যায়।দীর্ঘ ৩:৩০ ঘন্টা পরে জয় করলাম টাইগার নেস্ট।টাইগার নেস্ট ঘুরে চলে আসলাম নিচে।সবাই চলে আসার পরে ৪ টায় রওনা দিলাম ফুন্টসিলংয়ের জন্য।পারু সিটি থেকে বের হয়ে হাইওয়েতে একটা রেস্টুরেন্টে খাবার খাই।তারপর আবারও গাড়ী ছুটতে শুরু করে পারুর আকা বাকা রাস্তা ধরে। রাত ৯ টায় ফুন্টসিলংয়ে হোটেলে চেক ইন করে বেরিয়ে পরি ভারতে ডিনার করার জন্যে।ডিনার শেষে রাত ১১ টার দিকে চলে আসি ভূটানের হোটেলে।
খরচ
রুটি সবজি -৭০
পানি – ২০
টিকিট – ২৫০
লাঠি – ৫০
পানি – ৫০
বিকেলের খাবার – ১৫০
রাতের খাবার – ১২০
মোট – (৭০+২০+২৫০+৫০+৫০+১৫০+১২০)=৭১০×১.২=৮৫২ টাকা
ডিসেম্বর ১৮
সকালে ঘুম থেকে উঠেই কেনাকাটার জন্যে বের হলাম। সকালের নাশতাও করে নিলাম। তারপর ১২ টায় ভূটান ইমিগ্রেশন শেষ করে ভারতে প্রবেশ করি এবং রিকশায় ভারত ইমিগ্রেশনে যাই।ভারত ইমিগ্রেশন শেষ করে গাড়ি ভাড়া করি চেংরাবান্ধা যাওয়ার জন্যে।চেংরাবান্দায় এসে সব রুপি টাকায় কনভার্ট করে নিলাম। দালালকে টাকা দিলাম সব করে দেওয়ার জন্যে।ভারত ইমিগ্রেশন শেষ করে বাংলাদেশ কাস্টমসে দিলাম ৫০ টাকা।বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন নিজে নিজেই করলাম। তারপর এস.আর ট্রাবেলসে টিকিট কেটে বুড়ীর হোটেলে খেয়ে নিই। সন্ধ্যা ৬ টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে বুড়িমারী ছাড়ল আমাদের বাস।রাত পেড়িয়ে সকালেই বাসায় এসে ঘুম।
সকালের নাশতা -৭০+২০
রিকশা ভাড়া – ২০
জয়গাও টু চেংরাবান্ধা গাড়ি ভাড়া – ৩০০
ভারতের দালাল – ৮০ রুপি
কাস্টমস – ৫০ টাকা
সন্ধ্যায় খাবার – ১৫০ টাকা
রাতে খাবার – ১৫০ টাকা
বাসের টিকিট – ৬৫০ টাকা
মোট – (৭০+২০+২০+৩০০+৮০)×১.২ + (৫০+১৫০+১৫০+৬৫০)=১৫৮৮ টাকা
ভূটানের গাড়ি
আমরা ১০ জন ছিলাম তাই হাইস গাড়ি ৬ রাত ৭ দিনের জন্য বুকিং দেই।
জনপ্রতি (২৮০০০÷১০)=২৮০০ রুপি = ২৮০০×১.২=৩৩৬০ টাকা
হোটেল
নিমার সাথে প্রথমেই কথা হয় ৫০০০ রুপিতে আমাদের ৪ টা রুমের ব্যাবস্থা করে দেওয়ার জন্য।
যেহেতু ২ টা কাপল ছিল তাই ২ রুম তাদের জন্য আর ২ রুম বাকি ৬ জনের জন্য।
এক রুমের ভাড়া ১২৫০ রুপি করে তাই জনপ্রতি ৪২০ রুপি (৪২০×১.২=৫০৪ টাকা)করে দিতে হয়েছে।
৬ রাতের জন্য (৬×৫০৪=৩০২৪) টাকা মোট হোটেল খরচ।
সর্বমোট খরচ
(৭৬৫+১৫৬০+৫৮৮+১৭২২+৪৭৪+৪৩২+৮৫২+১৫৮৮+৩৩৬০+৩০২৪)=১৪৩৬৫ টাকা + অন্যান্য খরচ ৬৩৫ টাকা = ১৫০০০ টাকা।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
• যথেষ্ট পরিমাণ গরম কাপড় নিয়ে যাবেন।
• এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি নিয়ে যাবেন।
• হোটেল বুকিং অবশ্যই থিম্পুতে দিবেন(৭ দিনের জন্য দিবেন)।
• ফুন্টসিলং থেকে ৭ দিনের বেশি পারমিশন দেয় না, তাই এর চেয়ে বেশি থাকতে হলে পরে থিম্পু থেকে সময় বাড়িয়ে নিতে হবে।
• মনেস্ট্রিতে যাওয়ার সময় শালীন কাপড় পরিধান করুন।
• জেব্রা ক্রসিং ব্যাবহার করুন।
• যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলা থেকে বিরত থাকুন।
• গুলট্রাম সবাই ভূটানেই শেষ করে আসবেন।
• ভীসার খরচ এখানে উল্লেখ করা হয়নি।
# লেখায় কোন ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ করছি।আরও কিছু জানার থাকলে জিগ্যেস করবেন উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব।