সান্দাকফু, ফালুট,দার্জিলিং – চলঘুরি

সান্দাকফুর উচ্চতা ১১৯২৯ ফুট। মাউন্ট কাঞ্চনজঙ্ঘা সান্দাকফু থেকে অসাধারণ ভাবে দেখা যায়। এমন একটা দৃশ্য যেখান থেকে আপনি কাঞ্চনজঙ্ঘার গায়ে সুর্য ডোবার আর সুর্যাস্তের লালচে আভার এক অপরূপ দৃশ্য অবলোকন করতে পারবেন। মজার বিষয় হলো এই জায়গা থেকে দাড়িয়ে আপনি দেখতে পাবেন পৃথিবীর ৫ টি সর্বোচ্চ চূড়ার ৪ টি।মাউন্ট এভারেস্ট, মাউন্ট মাকালু আর মাউন্ট লোথসে, আর কাঞ্চনজঙ্ঘা তো থাকছেই। যেহেতু আমরা নভেম্বরের মাঝামাঝি দিকে যাচ্ছি তাই সবচেয়ে ভালো ভিউ পাবো ইন-শা-আল্লাহ। এই সময়ে হিমালয়ের কাছে দুরের পর্বত চূড়া গুলো খুব পরিস্কার ভাবে দেখা যায়।

আমাদের এই ট্রিপে যারা যাবেন তাদেরকে চেংরাবান্দা দিয়ে ভিসা করতে হবে। কিন্তু যাদের চেংরাবান্দা দিয়ে ভিসা করানো নেই তারাও আমাদের সাথে যোগ দিতে পারবে। এখন খুব সহজেই আলাদা পোর্ট যুক্ত করা যাচ্ছে।

ভিসা করার জন্য যদি কোন সাহায্য লাগে সেক্ষেত্রেও আমরা আপনাকে সহযোগীতা করব।

********************************************************
যাত্রা শুরু – ২৫ই মার্চ ২০২০
********************************************************

ভ্রমন বিস্তারিত
*******************
২৫ই মার্চ, ২০২০ খ্রি. রাতের বাসে করে বুড়িমারির উদ্দ্যেশে যাত্রা শুরু হবে।

বাস নন এসি

#১ম_দিন
খুব সকাল নাগাদ বর্ডারে থাকবো, ফ্রেস হয়ে নাস্তা সেরে ইমিগ্রেশন পার হয়ে শিলিগুড়ি চলে যাবো। দুপুরের খাবার খেয়ে মানেভেঞ্জন এর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করব। মানেভেঞ্জন থেকে অনুমতি ও গাড়ী নিয়ে চিত্রে চলে যাবো। আমারা চেষ্টা করব ১ম রাত চিত্রে থাকা।

#২য়_দিন
খুব সকালে নাস্তা সেরে চিত্রে থেকে সান্দাকফু উদ্দেশ্যে যাত্রা। মেঘমাতে মেঘের সাথে মিতালি, টুমিলিং
দেখবো
রাতে সান্দাকফু থাকবো

#৩য়_দিন
খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠেই সূর্যোদয় দেখবো। নাস্তা সেরে ফালুট পথে এগিয়ে যাবো
ফালুট থেকে সরাসরি আমরা মানেভেজ্ঞন চলে আসবো
সেখান থেকে দার্জিলিং চলে যাবো
রাতে দার্জিলিং থাকা

#৪র্থ দিন দার্জিলিং ঘুরবো সারাদিন
দার্জিলিং এ-র যতগুলো পয়েন্ট আছে সব জায়গায় যাওয়ার চেষ্টা করবো

#৫ম_দিন
সকালে ঘুম থেকে উঠে শিলিগুড়ি পথেই থাকবো
শিলিগুড়ি দুপুরের খাবার খেয়ে
বর্ডারের পথে থাকবো

খাওয়া দাওয়া

প্রতিদিন ৩ বেলা খাবার পাবেন
শেষদিন সকাল এবং দুপুরের খাবার পাবেন

বিঃদ্রঃ
১। শিলিগুড়ি থেকে কেউ যদি কলকাতা যেতে চায়, কেনাকাটা করতে চায় তাহলে সে এখান থেকেই যেতে পারবে।
২। যেকোন প্রয়োজনে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনশীল। হোস্টের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

************************************
ইভেন্ট খরচঃ ১৪৫০০/-
************************************

পেমেন্ট পলিসিঃ
বুকিং করতে হবে ৫০০০ টাকা
বিকাশে করলে খরচ সহ দিতে হবে

বিকাশ (পার্সনাল) # 01853167337
রকেট ) # 016820557699

************************************
টিম সাইজ মাত্র ১৫জন।
************************************

২০ই মার্চ ২০২০খ্রি. মধ্যেই অগ্রীম ৫০০০/- প্রদান করেই আপনার যাত্রা
আমাদের সাথে যা যা নিতে হবেঃ
*************************************
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র-
১। পাসপোর্ট
২। পাসপোর্ট ও ভিসার ফটোকপি
৩। ছবি ৫কপি
৪। NOC+ ফটোকপি ২টা
৫। NID+ ফটোকপি ২টা
৬। Visiting Card
৭। Office ID Card

পোশাক ও অন্যান্য-
১। ব্যাকপ্যাক ১ টা, ডে প্যাক -১টা
২। ফুল হাতা টি শার্ট ২ টা
৩। হাফ হাতা টি শার্ট ২ টা
৪। ট্র্যাকিং ট্রাউজার – ( দরকার নেই)
৫। জিন্স বা গ্যাবাডিন প্যান্ট -২ টা
৬। উলেন সোয়েটার – ১ টা
৭। জ্যাকেট (কান টুপি সহ) – ১টা
৮। ক্যাপ ১টা, মাঙ্কি ক্যাপ – ১টা
৯। হাপ প্যান্ট – ১ টা এবং গামছা – ১টা
১০। মোজা – ২ জোড়া
১১। উলের হাত মোজা
১২। উইন্ড ব্রেকার (যদি থাকে)
১৩। স্যান্ডেল – ১ জোড়া
১৪। পাওয়ার ব্যাঙ্ক
১৫। ক্যামেরা, চার্জার, এক্সট্রা মেমরি কার্ড
১৬। মোবাইল ফোন, চার্জার, সানগ্লাস
১৭। ঔষধ (জ্বর, ঠাণ্ডা কাশি, গ্যাস, বমি, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট, ব্যাথা নাশক, মাথা ব্যাথা ও কাটা ছেঁড়ার এন্টিসেফটিক এছাড়া কারো ব্যক্তিগত ওষুধ), স্যালাইন, গ্লুকোজ।
১৮। কেডস অথবা ট্র্যাকিং বুট (যদি থাকে)
১৯। চার্জার লাইট বা টর্চ লাইট এক্সট্রা ব্যাটারি সহ
২০। ভেসলিন বা ময়েসচার লোশন বা সান স্ক্রীন
২১। টুথপেস্ট ও ব্রাশ
২২। ড্রাই ফুড, চকোলেট, বাদাম, খেজুর ইত্যাদি।

ধন্যবাদ
চলঘুরি বাংলাদেশ
জহিরুল ইসলাম ( রুবেল)
01853167337

88261670_2786082171498826_2897209943734091776_n

Kalimpong/darjeeling trip by Avijit Ghosh

তিনদিনের ঝটিকা সফরে ঘুরে এলাম উত্তরবঙ্গ থেকে by Avijit Ghosh

Feb 20 (বৃহস্পতিবার):- শিয়ালদা থেকে রাত সাড়ে আটটার সময় কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস ধরলাম,গন্তব্য NJP।

Feb 21 (শুক্রবার):- সকাল সাড়ে সাতটার সময় NJP নামলাম,নেমে ফ্রেশ হয়ে ড্রাইভার কে ফোন করতে লাগলাম যে তিনি কোথায় আছেন,যদিও সকালে ও আগেরদিন থেকে কথা হয়েই আছে আমরা কখন NJP পৌঁছাবো,এবং গাড়ি আগে থেকেই রিজার্ভ করা ছিলো যিনি আমাদের পুরো ট্যুর টা গাড়িতেই ওই একই বাহনে ঘোড়াবেন।

NJP স্টেশনের বাইরে বেরিয়ে অপেক্ষা করার কিছু মুহুর্তের মধ্যেই এসে পৌঁছালো আমাদের এই পুরো ট্যুরের বাহন Bolero,এই গাড়িটার একটা সুবিধা যে পিছনের সিট গুলোও ছিলো ফ্রন্ট ফেসিং এতে পাহাড়ি রাস্তায় কারওই অসুবিধা হবে না,এবং আমাদের সদস্যসংখ্যা ছিলো ৮ জন।

গাড়ি স্টার্ট দিয়ে আমরা আজকের প্রথম গন্তব্য তিনচুলের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলাম,তিনচুলে তে আমাদের Kulung Guest House বুক করাই ছিলো,আমরা ঠিক করলাম রাস্তায় ব্রেকফাস্ট ও লাঞ্চ সেরে নিয়ে সাইটসিয়িং সেরে তারপরে বিকেলে হোমস্টে তে পৌঁছাবো,

তো যেই ভাবা সেই কাজ,এইভাবে আমরা আমাদের যাত্রা পথের মাঝেই দেখে নিলাম
▪️Tinchule Sunset View Point
▪️Takdah Orchid Centre
▪️Runglee Rungliot Tea Estate

এইগুলি দেখা শেষ করে পৌঁছালাম আমাদের গেস্ট হাউসে,Kulung Guest House এর মালিক আমাদের সাদর অভ্যর্থনা জানালেন,৭৩ বছরের এই কিশোরের সাথে পরিচয় হয়ে আমাদেরও বেশ লাগলো,রাতে ডিনার সেরে আমরা তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়লাম কারণ পরেরদিন খুব সকালে বেড়াতে হবে আমাদের,গন্তব্য Kalimpong.

Feb 22 (শনিবার):- গেস্ট হাউসেই ব্রেকফাস্ট সেরে তিনচুলে,তাকদার স্মৃতি নিয়ে আমরা Kalimpong এর উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম,আজকেও ঠিক করলাম রাস্তায় সমস্ত সাইট সিয়িং করে তারপর Kalimpong এ আমাদের হোটেল এ পৌঁছাবো,এই প্রসঙ্গে বলে রাখি Kalimpong এ আমাদের রাত্রিবাস এর ঠিকানা হলো Hill Top WBTDC Lodge.

সেইদিন পথে যেতে যেতে দেখলাম
▪️Lamhatta Eco Park
▪️Lovers Meet Viewpoint
▪️Peshok Tea Garden
▪️Pine View Nursery
▪️Durpin Monastery
▪️Army Golf Course
▪️Morgan House
▪️Gouripur House

আজকের লাঞ্চ সারলাম আমরা Army Golf Course এর Green Cafe তে যার পুরোটাই Army দ্বারা পরিচালিত,
বিকেলে লজে পৌঁছে ফ্রেশ হয়ে বেড়িয়ে পড়লাম Kalimpong বাজারের উদ্দেশ্যে,
বাজারে গিয়ে চা, souvenir কিনলাম,রাতের খাবার খেয়ে ট্যাক্সি নিয়ে হোটেল ফিরলাম সেদিন রাতে,
পরেরদিন এর গন্তব্য Lava,

Feb 23 (রবিবার):- Kalimpong থেকে সকালে বেরিয়ে যাত্রা করলাম লাভার উদ্দেশ্যে,আজ আমাদের রাতেই কলকাতা ফেরার ট্রেন NJP থেকে,তাই সারাদিন ঘুরে ড্রাইভার দাদা আমাদের সন্ধের আগে NJP নামিয়ে দেবে এমনটাই কথা হয়ে ছিলো আগে থেকে।

পথে পথে সেইদিন দেখলাম
▪️Dr Graham’s House
▪️Deolo Park
▪️Hanuman Top
▪️Lava Monastery
▪️Ambek Tea Garden
▪️Teesta Barrage,Gajaldoba.

আজকের দুপুরের লাঞ্চ সারলাম তিস্তা ব্যারেজের কাছে গজলডোবা তে,সেদিনের সব সাইডসিয়িং শেষ করে আমরা সন্ধের একটু আগে পৌঁছে গেলাম NJP স্টেশনে,
আমাদের ফেরার ট্রেন রাত আটটায় ছাড়বে Darjeeling Mail.
নিজেদের সমস্ত জিনিস,ব্যাগ বুঝে নিয়ে এবং ড্রাইভার দাদার সাথে কুশল বিনিময় করে আমরা স্টেশনের দিকে পা বাড়ালাম,রাতে খাবার আমরা প্যাক করে নিয়েছিলাম NJP স্টেশনের বাইরে থেকেই,

Feb 24 (সোমবার):- সকাল সাড়ে ছটার সময় শিয়ালদা নেমে একবুক স্মৃতি নিয়ে যে যার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।

শেষে সবাইকে একটাই অনুরোধ ঘুরতে গিয়ে সবাই পরিবেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন,নিজেও ভালো থাকুন,পরিবেশকেও ভালো থাকতে দিন,ধন্যবাদ।